অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ আজ ‘অননুমেয়’ পাকিস্তান

বিশ্বকাপ শুরুর পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া পরিষ্কার ফেবারিট ছিল। বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানকে আরব আমিরাতে গিয়ে হোয়াইট ওয়াশ করে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। এরপর বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যাচ্ছেতাইভাবে হেরেছিল পাকিস্তান। আর অস্ট্রেলিয়া নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে বেশ সন্তোষজনক জয় পেয়েছে। সে সময় পর্যন্ত পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে পরিষ্কার ফেবারিট অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু যারযার সর্বশেষ মাঠে গড়ানো ম্যাচের ফলাফল এখন হিসেবটা একটু বদলে দিয়েছে।

পাকিস্তান নিজেদের শেষ মাঠে গড়ানো ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে হারিয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ডকে। অন্য দিকে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতের কাছে হেরেছে। ফলে আজকে ম্যাচের আগে দুই দল একটু হলেও এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। আর এই সমতায় থেকেই আজ বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে টনটনে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান।

ম্যাচের আগে পাকিস্তানের চেয়ে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের দল নিয়েই একটু অস্বস্তিতে আছে। ইনজুরির কারণে এই ম্যাচ থেকে আগেই ছিটকে গেছেন মার্কাস স্টোয়নিস। এদিকে দলটির দুই ইনফর্ম ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ ভারতের বিপক্ষে ধীরগতিতে রান তোলায় সমর্থকদের বিরক্তির কারণ হয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার সহকারী কোচ, বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রিকি পন্টিং বলছিলেন, এই দুই ওপেনার এখন বিশ্বসেরা। ফলে তারা নিজেদের কাজটা ভালোই বোঝেন, ‘ফিঞ্চ এবং ওয়ার্নার এখন যার যার ভূমিকায় বিশ্বসেরা। ফিঞ্চ গত পাঁচ-ছয় মাসে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। ডেভি ফিরে এসেছে এবং প্রচুর রান করছে। ফলে ওরা জানে, কী করতে হবে।’

পন্টিং ইঙ্গিত দিলেন পাকিস্তান যদি ভারতের মতো স্পিনে ভরসা করে, তাহলে তারা এই ম্যাচেও স্টিভ স্মিথকে উসমান খাজার আগে পাঠাবেন। পন্টিং বলছেন, আধুনিক ক্রিকেটের টপ অর্ডারে এই বাহাতি-ডানহাতি সমন্বয়টা ধরে রাখা জরুরি।

টনটনে পাকিস্তান দলের না হলেও তাদের পেসার মোহাম্মদ আমিরের ভালো স্মৃতি আছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ করে এই মাঠেই ফিরেছিলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে।

তবে ব্যক্তিগত এসব সাফল্য নয়, পাকিস্তান দল চায় আরেকটা জয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টা পাকিস্তান দলকে সাহসী করে তুলেছে বলে খোদ অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদই দাবি করছিলেন, ‘আমরা সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিততে পারছি না। সম্প্রতি আমরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও খুব বেশি জিতিনি। কিন্তু বিশ্বকাপে এসে আমরা ঠিকই ইংল্যান্ডকে হারিয়েছি। ফলে এটা আমাদের ইতিবাচক করে তুলেছে। আমরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেটা করেছি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও সেরকম আক্রমণাত্মক থাকবো।’

LEAVE A REPLY