আফগানিস্তানে নারী সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

0
4

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

আফগানিস্তানে নারী সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার দেশটির রাজধানী কাবুলে নিজ বাড়ির পাশে তাঁকে গুলি করা হয়। এর ঠিক একদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন মিনা।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে দুই বন্দুকধারীর উপর্যুপরি গুলিতে নারী সাংবাদিক মিনা মঙ্গল নিহত হন। তিনি দেশটির একজন জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক এবং দেশটির সংসদের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা ছিলেন।

গত ৩ মে ফেসবুক পেস্টে মিনা তার প্রাণনাশের হুমকির কথা প্রকাশ করেন। তাকে হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, তিনি দেশকে ভালোবাসেন এবং তিনি মৃত্যুকে ভয় পান না।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসরাত রাহিমি বলেছেন, অজ্ঞাত হামলাকারীরা মিনাকে গুলি করেছে। পুলিশের একটি স্পেশাল ইউনিট ঘটনার তদন্তে নেমেছে।

পুলিশের মুখপাত্র বশির মুজাহিদ জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে করে আসা দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি নিজের বাড়ির কাছে মিনাকে গুলি করে হত্যা করেছে।

টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিওতে নিহত মিনার মা সন্দেহভাজন খুনিদের নাম প্রকাশ করেছেন। এই লোকগুলো এর আগে মিনাকে একবার অপহরণ করেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। অপহরণের ঘটনায় এদের সবাইকে গ্রেফতার করা হলেও ঘুষ দিয়ে তারা সবাই কারাগার থেকে বের হয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আফগানিস্তানের নারী অধিকারকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। হুমকির কথা জানালেও মিনার সুরক্ষায় কেন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলো না তার জবাব চেয়েছেন তারা।

এক দশকেরও বেশি সময় সাংবাদিকতার কাজ করেছেন মিনা। তা ছাড়া আরিয়ানা টিভি, সামশাদ টিভিসহ একাধিক টিভি চ্যানেলের উপস্থাপক ছিলেন তিনি। সম্প্রতি সংসদের নিম্নকক্ষে সাংস্কৃতিক উপদেষ্টার কাজ করতেন মিনা। আফগানিস্তানের নারীদের অধিকার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করতেন। তাঁর নিজস্ব একটি ফেসবুক পেজও ছিল।

মিনা নারীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই করছিলেন। আফগানিস্তানের মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভিন্ন কর্মশালা করেছেন তিনি। সেটাও কোনো গোষ্ঠীর মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। সম্প্রতি নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুনের হুমকিও পেয়েছিলেন তিনি। এই খুনের তদন্তের জন্য বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে জানিয়েছে পুলিশ।

আফগানিস্তানের মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ও নারী অধিকার আন্দোলনকারী ওয়াঝমা ফ্রোঘ বলেন, ‘এই নারী ইতিমধ্যে তাঁর জীবন নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। এরপরও তাঁর নিরাপত্তায় কিছু নেওয়া হলো না কেন? আমরা এর জবাব চাই।’

Leave a Reply