আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : আলোয় ঝলমলে ঢাকা

ঢাকা মহানগরীর আলো ঝলমল রাজপথ দেখে অনেকেই আতকে উঠছেন হঠাৎ কী হলো? কিসের অনুষ্ঠান? এত সাজসজ্জা কেন? ইত্যাদি নানা প্রশ্ন অনেকে মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিষয়টি হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের আগামীকাল (২৩ জুন) ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

দলের নেতারা আগেই ঘোষণা দিয়েছেন এবারে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হবে জমকালো, রঙিন, আনন্দ-উৎসবমুখর। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রাঙাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি । ঘোষণা করেছে মাসব্যাপী কর্মসূচি।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জানান, যে কার্যালয় থেকে দলটির জন্ম হয়েছিল সেই কার্যালয় ঢাকার রোজ গার্ডেনকে রঙিন করে সাজানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ জানান, এই জায়গাটি সাজানো হচ্ছে। এখানে রঙিন আলোর ঝলকানির পাশাপাশি সীমিত আকারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কিছু কর্মসূচিও পালন করা হবে।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রধান প্রধান সড়কে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে আলোকসজ্জা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার স্মৃতিবিজড়িত রোজ গার্ডেন হয়ে নবাবপুর, নবাবপুর থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও রাজধানীজুড়ে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। আজ শনিবারও রাজধানীর আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আলোকসজ্জা করা হবে।

জানা গেছে, ৭১তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে শাসক দল আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৪ জুন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ২৩ জুন সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। ২৫ জুন ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ, রফিকুল ইসলামসহ দেশের বরেণ্য ও জনপ্রিয় শিল্পীরা এতে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। জাতীয় সঙ্গীত ও দলীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি স্বাধীনতা ও দেশের গান থাকবে এই আয়োজনে। এছাড়া আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, র্যালি, প্রচার ও পুস্তিকা প্রকাশ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

নেতারা আরও জানান, কেন্দ্রের পাশাপাশি তৃণমূলেও পালিত হবে আওয়ামী লীগের এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই উপলক্ষে ইতোমধ্যে তৃণমূলে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তূণমূলে পাঠানো ওই নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি জেলা-উপজেলা এবং ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যন্ত আলাদা কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা ও এর পাশের জেলা নেতাদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একাধিক যৌথসভা করেছে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। একইভাবে সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গেও বৈঠক করা হয়েছে। এসব বৈঠকে সাড়ম্বরে, আনন্দ-উৎসবের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহারে না করতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেক জেলা থেকে দুজন করে প্রবীণ নেতাকে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, পুরান ঢাকার ঋষিকেশ দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’। পরে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে এর নাম করা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দলটির নাম দেয়া হয় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দলের সভাপতি হয়ে দেশে ফেরার পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় করায় হয় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে। ২০১৮ সালে ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেখানে দলের ১০তলা কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ধানমন্ডি ৩/এ আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় এবং সিটি কলেজ থেকে মোহাম্মদপুর গামী রোডটাও আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন