এনআরসি: ছিলেন রাষ্ট্রপতি, এখন রাষ্ট্রহীন!

0
2

আমার কাগজ ডেস্ক :

একসময় ভারতের সাংবিধানিক প্রধান ছিলেন তিনি। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আহমেদের নামও রয়েছে রাষ্ট্রহীনদের তালিকায়। শনিবার আসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকা প্রকাশের পর নানা অসঙ্গতির কথা উঠে আসছে। সেসবের মধ্যে রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রহীন হওয়ার ঘটনাও একটি। এই তালিকা নাম নেই সাবেক রাষ্ট্রপতির ভাতিজা জিয়াউদ্দিন আলী আহমেদ ও তার পরিবারেরও।

আসামের কামরুপ জেলায় থাকেন জিয়াউদ্দিন। তার বাবা এতরামুদ্দিন আলী ভারতের পঞ্চম রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলীর ছোটো ভাই হন। তাদের বাবা জলনুর আলী আহমেদ একজন সেনা কর্নেল হিসেবে অবসরগ্রহণ করেছিলেন। আসাম জুড়েই খ্যাতি ছিল তার।

গত বছর এনআরসি দ্বিতীয় খসড়া তালিকাতেই ফকরুদ্দিনেরর ছোট ভাইসহ একাধিক সদস্যের নাম না থাকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। এনআরসি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নাগরিকত্ব প্রমাণে যথাযথ নথিপত্র পেশ করতে। সেইমতোই কাজ করেছিলেন ফকরুদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা। কোথাও কোনো ত্রুটিই ছিল না। তবুও চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসেনি তাদের।

২০১৮ সালের জুলাইতে প্রকাশিত হয়েছিল নাগরিকপঞ্জির দ্বিতীয় খসড়া। সেখানেই দেখা গিয়েছিল, পরলোকগত রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলী আহমেদ, তার পরলোগত ভাই একরামুদ্দিন আলী এবং ভাইপো জিয়াউদ্দিনের নাম নেই। যদিও রয়েছেন ফকরুদ্দিনের ছেলে পারভেজ ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম।বাকিদের নাম নথিভুক্ত করতে বংশলতিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছিল তাদের। সেইমতো তা পেশও করা হয়। আশা ছিল, নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের পরীক্ষায় পাশ করে যাবেন। চূড়ান্ত তালিকায় উঠবে তাদের নাম। কামরূপের রঙ্গিয়ায় ফকরুদ্দিন এবং তার পরিবারের দীর্ঘদিনের বসবাস। সাদামাটা গ্রাম্য জীবন পরিবারের সকলের। তাই নাগরিকত্ব প্রমাণ করা নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র দ্বিধাও ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হননি তারা।

এখন বিদেশি ট্রাইবুনালে গিয়ে আপিল করে নিজেদের ভারতীয় প্রমাণ করতে হবে সাবেক রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যদের।

ভারতের পঞ্চম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২৪ আগস্ট ১৯৭৪ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন ফকরুদ্দিন আলী আহমেদ। তিনি ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি যিনি অফিসে দায়িত্বকালীন সময়ে মৃত্যুবরণ করেন এবং গুজার গোষ্ঠী থেকে তিনিই ভারতের একমাত্র রাষ্ট্রপতি।