কাউন্টারে ঠাসা যাত্রী, বাসের খবর নেই

চার লেনের সড়ক হয়েছে, হয়েছে উড়াল সেতু। প্রতিবারই সড়কে যানজট হবে না বলে ঘোষণা দেয়া হলেও সড়কে চিরচেনা সেচিত্র বদলায়নি বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেড়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবারও স্বস্তির ঈদ যাত্রার আশায় গুড়ো বালি। সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইলের সড়কে কখনও দীর্ঘ যানজট, কখনও বা ধীর গতির কারণে উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণবঙ্গের বাসের সিডিউলে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটেছে।

শুক্রবার রাতে কল্যাণপুর বাস টার্মিনালের উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের বাস কাউন্টারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৮-১০ ঘণ্টা করে দেরিতে ছাড়ছে প্রত্যেকটি পরিবহনের বাস। সকালের বাস এখনও টাঙ্গাইল কিংবা সিরাজগঞ্জ পৌঁছেনি। এমনকি গত রাতের বাস গন্তব্যে পৌঁছলেও ফেরার সুযোগ এখনও মেলেনি।

কল্যাণপুরের দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল, সালমা, শ্যামলী, এসআর, হানিফ, আল হামরা, আগমনী বাস কাউন্টারগুলোতে দেখা যায় যাত্রীতে ঠাসা। ব্যাগ লাগেজ নিয়ে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় শিশু, মহিলা, বৃদ্ধসহ সব বয়সী যাত্রীরা।

একটি করে বাস আসলেই উৎসুক যাত্রীরা দৌড়ে যাচ্ছেন কাউন্টারে। অনেকের সিডিউল না মেলায় মন খারাপ করে ফিরে আসছেন যাত্রী ছাউনিতে।

রাজশাহী-চাপাই রুটের দেশ ট্রাভেলসের কল্যাণপুর কাউন্টারের ইনচার্জ তৌহিদ বলেন, গতকাল রাত ১১টার গাড়ি ছাড়তে হয়েছে রাত ২টায়। রাতের ৪টি গাড়ি এখনও রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌঁছেনি। সকালে গেছে ৮টি বাস। সেগুলো এখনও সিরাজগঞ্জ ফুজ ভিলেজ এলাকা অতিক্রম করতে পারেনি। গাড়ি যেসব ছেড়েছি সেগুলো না ফিরলে আজ রাতের বাস তো ছাড়া সম্ভব না। যে কারণে পরিস্থিতি বুঝে আজ রাতের সিডিউল কিছু বাসের যাত্রীকে সকালে আসতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ আজ রাতে ছাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

শ্যামলী এনআর পরিবহনের কাউন্টার থেকে জানানো হয়, ৫/৭ ঘণ্টা করে দেরি হচ্ছে প্রত্যেকটি বাসে। রিজার্ভ কিছু বাস থাকার সুবাদে সেগুলো যোগ করা হয়েছে সন্ধ্যার সিডিউলে। বিপত্তি বেধেছে রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সিডিউলের গাড়ি ফেরার নাম নেই। সঙ্গত কারণে অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের গাইবান্ধা রুটের টিকিট বিক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সিডিউল বলতে কিছু নেই। সব তছনছ। কোন গাড়ি কখন যাবে বলার উপায় নাই। কমপক্ষে ৬/৮ ঘণ্টার দেরিতে বাস আসছে ও যাচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে।

শ্যামলী পরিবহন কাউন্টারের বাইরে চেয়ারে বসে বাসের অপেক্ষায় নওগাঁর যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী নাছির মিয়া। তিনি বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা গাড়ি। নওগাঁ যাবো। সাড়ে তিনঘণ্টা গাড়ির খবর নেই। কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে, কমপক্ষে রাত ৩টা বাজবে বাস ছাড়তে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে নাছির বলেন, সারাদেশে খাম্বা মার্কা উন্নয়ন দেখানো হচ্ছে। ঈদ আসলে বলা হয়, ঈদ যাত্রা হবে স্বস্তির। যানজট থাকবে না। কিন্তু প্রতিবারই ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমাদের ঈদের আনন্দ এখানেই বিষাদে নীল হচ্ছে। এখন অপেক্ষা ছাড়া উপায়ন্তর নাই।
bus

সোহাগ পরিবহনের কল্যাণপুর কাউন্টারের ম্যানেজার সাইফুজ্জামান জানান, আমরা এখন পর্যন্ত সিডিউল বিপর্যয়ে পড়িনি। কারণ আমাদের নরমাল সিডিউলের চেয়ে ঈদে বাস কম চলে। তবে এসিবাস যথাসময়ে কাউন্টারে ছেড়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারলেও নন এসি বাস ছাড়তে দেরি হচ্ছে।

এসআর ট্রাভেলসের রংপুরের যাত্রী সৈয়দ মাহবুব বলছেন, সিডিউল ঠিক নেই। সন্ধ্যা ৭টার টিকিট কেটেছি। সময় মতো কাউন্টারে আসলেও কিন্তু এখনও সেই কাঙ্ক্ষিত বাসের দেখা মেলেনি। আসে নি। ঈদের ছুটির একদিন সড়কেই বুঝি যায়!

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here