ঢাকা ওয়াসার সক্ষমতা ও উদ্যোগে ঘাটতি রয়েছে: টিআইবি

আমার কাগজ প্রতিবেদক :

ঢাকা ওয়াসার নিম্নমানের পানি গৃহস্থালী পর্যায়ে ফুটিয়ে পানের উপযোগী করতে বছরে গ্যাসের খরচ আনুমানিক প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা। সেবাগ্রহীতাদের মতে, এই পানি ব্যবহারের কারণে (জুলাই ২০১৭- জুন ২০১৮) পরিবারের সদস্যদের ২৪.৬ ভাগ সদস্য পানিবাহিত রোগেও আক্রান্ত হয়।

আজ বুধবার এক সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল।

গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেবাগ্রহীতাদের শতকরা ৩৪.৫ ভাগ বছরের সবসময় পানির গুণগতমান খারাপ হওয়ার কথা বলেছেন।

প্রতিবেদনের সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার ভিশন ও মিশন অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পানির চাহিদা পূরণে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পানির উত্পাদন ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসার সক্ষমতা ও উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। পানি ও পয়নিষ্কাশন সেবার নিম্নমান এবং সেবা সম্পর্কে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি সেবাগ্রহীতা অসন্তুষ্ট। এছাড়া গ্রাহক সেবায় এলাকাভেদে সেবার মানের তারতম্য ও ন্যায্যতার ঘাটতি-চাহিদা অনুযায়ী পানি না পাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি বস্তিবাসীর ক্ষেত্রে।

প্রতিবেদনে ওয়াসার অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে বলা হয়, সেবাগ্রহীতাদের ৮৬.২ ভাগ ওয়াসার কর্মচারী এবং ১৫.৮ ভাগ দালালকে ঘুষ দিয়ে থাকেন। এরমধ্যে পানির সংযোগ গ্রহণে ২০০ থেকে ৩০০০০ টাকা, পয়লাইনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণে ৩০০ থেকে ৪৫০০ টাকা, গাড়িতে করে জরুরি পানি সরবরাহ করার ক্ষেত্রে ২০০ থেকে ১৫০০ টাকা, মিটার ক্রয়/পরিবর্তন করতে ১০০০ থেকে ১৫০০০ টাকা মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত বিষয়ে ৫০ থেকে ৩০০০ টাকা এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করা হয়।

LEAVE A REPLY