তিন বিমানবন্দরে ৮ স্ক্যানার, ব্যয় ৪৮ কোটির বেশি

দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য প্রায় সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হবে ৮ স্ক্যানার।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে এর মধ্যে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রফতানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ে (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) ৩৭ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে দুটি স্ক্যানার বসানো হবে। অর্থাৎ একটি স্ক্যানারের পেছনে খরচ হবে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা।

সেই সঙ্গে বিদেশগামী যাত্রীদের দেহ তল্লাশির জন্য দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য কেনা হবে ৬টি বডি স্ক্যানার। এতে ব্যয় হবে ১১ কোটি ১৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি বডি স্ক্যানারের পেছনে প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা করে খরচ হবে।

এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক সেবা ও প্রশাসনিক খরচ (সম্মানী, ভাড়া/মাইক্রোবাস, স্টেশনারি, প্রিন্টিং ও বাইন্ডিং, কম্পিউটার, ভ্রমণ ভাতা, ফি) বাবদ খরচ করা হবে ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। বিদেশে স্টাডি ট্যুরে ৭ জনের পেছনে খরচ করা হবে ২৮ লাখ টাকা, আয়কর ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, কাস্টমস ডিউটি ৫০ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন ‘আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় স্ক্যানারগুলো কেনা হবে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) গত ১৮ মার্চ জমা দিয়েছে বেবিচক।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রস্তাবনাটি আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই একনেক সভায় উঠতে যাচ্ছে। এর আয়-ব্যয়ও বিশ্লেষণ করা হয়নি।

বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ৫৯ কোটি ৬২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ৫৪ কোটি ১০ লাখ ১৬ হাজার টাকা। আর বেবিচক বহন করবে ৫ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

বেবিচক সূত্র জানায়, দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রফতানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ের জন্য দুটি ইডিএস (বিস্ফোরক শনাক্তকরণ সিস্টেম) স্ক্যানার এবং বিদেশগামী যাত্রীদের দেহ তল্লাশির জন্য চারটি বডি স্ক্যানার কেনা হবে।

অপরদিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রত্যেকটিতে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য একটি করে মোট দুটি বডি স্ক্যানার কেনা হবে।

বেবিচক কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ ও সংস্থানের লক্ষ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে একটি জরিপ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে এই তিন বিমানবন্দরের জন্য স্ক্যানারগুলো সরবরাহের জন্য জাইকা কারিগরি সহায়তা দেবে। ২০১৭ সালের ৩০ জুলাইয়ে এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই হয়েছে। জাইকার দেয়া বর্ণনা অনুযায়ী কারিগরি সহায়তা গ্রহণের জন্য এই ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অপরদিকে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন, পর্যটন ও পরিকল্পনা) মো. আতিকুল হক বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। এ বিষয়ে না জেনে কোনো কথা বলতে পারব না। এখন ব্যস্ত আছি, বিমানবন্দরে যেতে হবে।’

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here