দেশবাসীকে ধোঁকা দিতেই আরসিবিসির মামলা : আইনমন্ত্রী

নিজেদের দেশের মানুষকে ধোঁকা দিতেই রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি) ‘মানহানি’ মামলা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইজুমির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আরসিবিসি ‘মানহানি’মামলা করেছে, এটা কী বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি কিংবা চুরির অর্থ ফেরত না দেয়ার কৌশল কিনা- জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমার যেটা মনে হয়, আমি কিছুটা খবরাখবর নিয়েছি। আরসিবিসির কর্মকর্তাদের আচরণটা আমার আইনী আচরণ বলে মনে হয়নি। আমার মনে হয় তারা নিজেদের দেশের মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য মামলাটা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এ কথা বলছি এই কারণে- ফিলিপিন্স সরকার ফিলিপাইনের সিনেট পর্যন্ত হ্যাকিংয়ের কারণে বা আচরণে বা কন্ডাক্টের জন্য আরসিবিকে দায়ী করেছে। সেখানে বাংলাদেশ কোনো আইনী পন্থায় তাদের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে মামলা করে থাকে তাহলে সেটা মানহানিকর কিছু নয়।’

২০১৬ সালেল ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (নিউইয়র্ক ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮০০ কোটি টাকা) চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দুই কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কায় আর বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ফিলিপাইনের আরসিবিসিকে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার জরিমানা করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চুরির এ ঘটনায় আরবিসির ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিল মামলা করেছে।

সর্বশেষ গত মাসে নিউইয়র্কের সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের এক আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। চুরির ঘটনায় জড়িত ‘অপবাদ’দিয়ে মানহানিকর আক্রমণের অভিযোগ তুলে গত ৬ মার্চ উল্টো মানহানির মামলা করে আরসিবিসি।

নির্বাচনী ইশতেহারে প্রান্তিক পর্যায়ে নাগরিক সেবা পৌঁছে দেয়ার কথা আছে। এ জন্য উপজেলা পর্যায়ে আদালত গঠনের কোনো চিন্তা-ভাবনা আছে কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘উপজেলাতে আদালত গঠন করার কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই। আগে উপজেলায় আদালত ছিল। আমরা যেটা করছি, অলরেডি বিদ্যমান, সেটা হচ্ছে- একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে একটা উপজেলার জন্য ডেজিগনেট করা হচ্ছে, যাতে সেই উপজেলার যে মামলাগুলো সেগুলো ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যায় এবং ত্বরিৎ মামলাগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়।’

‘আমি মনে করি এটা দিয়েই আমরা যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছি। সেই কারণে উপজেলা পর্যায়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমার মনে হয় না,’যোগ করেন আইনমন্ত্রী।

জাপানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বছর ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের বিচারপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য একটা নির্বাচন হবে। এটা রুটিন নির্বাচন। জাপানের রাষ্ট্রদূত আমাকে জানালেন জাপান একজন বিচারপতিকে সেখানে নির্বাচনের জন্য প্রার্থী করতে চায় এবং সাউখ এশিয়ার জন্য যে সিট আছে সেটায় নির্বাচন করবেন, সেখানে বাংলাদেশে সমর্থন চান।’

আনিসুল হক বলেন, ‘আমি অন্য প্রার্থীদের বিষয়ে তার কাছে জানতে চেয়েছি, আপাতত তারা জানতে পেয়েছেন- ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম ক্যান্ডিডেট হতে পারে। আমরা যেহেতু আগামী নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দিচ্ছি না সেহেতু আমি তাকে বলেছি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করে জাপানের প্রতি আমাদের সমর্থন কনফার্ম করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের দুঃসময়ে জাপানের সহযোগিতা এবং তাদের জনগণের সহমর্মিতার জন্য তাকে (রাষ্ট্রদূত) ধন্যবাদ জানিয়েছি। বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করার জন্য জাপান যে সহযোগিতা করছে সে জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। আর হলি আর্টিজানের মামলার বিষয়েও আমি তাকে আপডেট দিয়েছি।’

LEAVE A REPLY