নবম ওয়েজ বোর্ডের সুপারিশ চূড়ান্তে বৈঠকে মন্ত্রিসভা কমিটি

নবম ওয়েজ বোর্ডের সুপারিশ পরীক্ষা করে চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসেছে পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) বেলা সোয়া ১১টায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কমিটির বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান উপস্থিত রয়েছেন।

সংবাদকর্মীদের বেতন-ভাতা সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে নবম ওয়েজ বোর্ড, যা গত বছরের ৩ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছিল। ওই দিনই নতুন এ বেতন কাঠামো পরীক্ষা করে বাস্তবায়নের সুপারিশ দিতে তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। নতুন সরকার গঠিত হলে গত ২১ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘৯ম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ, ২০১৮’ পরীক্ষায় ইতোপূর্বে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক করা হয় ওবায়দুল কাদেরকে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে নবম ওয়েজ বোর্ডের সুপারিশ উপস্থাপনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছিলেন, ‘ওয়েজ বোর্ডে প্রথম তিনটি গ্রেডে ৮০ শতাংশ ও শেষের দিকে তিনটি গ্রেডে সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। যে সুপারিশ আসছে তারা (কমিটি) সেটা পর্যালোচনা করে হয়তো একটা নির্ধারণ করবেন।’

গত ৪ নভেম্বর সচিবালয়ে তখনকার তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কাছে ‘নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ ২০১৮’ সুপারিশমালা জমা দেন বোর্ডের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হক।

সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য গত বছরের ২৯ জানুয়ারি নবম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। ১৩ সদস্যের এ বোর্ডে চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হক। এছাড়া সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ এবং সাংবাদিক ও সংবাদপত্র কর্মচারী বা শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সমসংখ্যক প্রতিনিধিও ছিলেন বোর্ডে।

সরকারের কাছে সুপারিশ দিতে বোর্ডকে ছয় মাস সময় দেয়া হয়েছিল। পরে নবম মজুরি বোর্ডের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর নবম বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার আগে প্রতি মাসের মূল বেতনের উপর ৪৫ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণা করে সরকার। এ মহার্ঘ্য ভাতা ২০১৮ সালের ১ মার্চ থেকে কার্যকর ধরা হয়। মহার্ঘ্য ভাতা বোর্ডের নির্ধারিত সামগ্রিক বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিত হবে।

ইতিমধ্যে নবম ওয়েজ বোর্ডের বৈধতা নিয়ে আদালতে রিট রয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব)। যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।

LEAVE A REPLY