নিরাপত্তার স্বার্থে ইজতেমায় মুসল্লিদের আগমন নিয়ন্ত্রণ করা হবে

টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন নিয়ে নানা শঙ্কা ও সংশয় থাকলেও তাবলিগ জামাতের বিবাদমান দুই গ্রুপ-সাদ কান্দালিব ও মাওলানা জুবায়েরের অনুসারী আলেম-ওলামারা সরকারের হস্তক্ষেপে একসঙ্গে ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে সম্মত হয়েছেন।

বিগত বেশ কয়েক বছর যাবত বিশ্ব ইজতেমা দুই দফায় ১৬ জেলা করে ৩২ জেলা একবছর ও পরবর্তী বছর ১৬ জেলা করে বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেতেন। তবে এবার একসঙ্গে ৬৪ জেলার মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবে। ফলে লাখ লাখ মুসল্লিদের নিরাপত্তা, থাকা-খাওয়া, স্যানিটেশন, খাবার পানি ও চিকিৎসাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে তা নিয়ে তাবলীগের মুরুব্বিরা চিন্তিত।

তারা বলছেন, এক দশক আগে ৬৪ জেলার মুসল্লিরা একসঙ্গে ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতেন। কিন্তু আগত হাজার হাজার মুসল্লির খাওয়া-দাওয়া, ইজতেমা ময়দানে অবস্থান, খাবার পানি, গোসল ও টয়লেট ব্যবহারে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় প্রথমে ৩২ জেলা করে বছরে ৬৪ জেলা ও পরবর্তীতে দুই দফায় ১৬ জেলা করে দুই বছরে ৩২ জেলার মুসল্লিদের ইজতেমায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়া হয়। সমস্যার কারণেই একবছর ১৬ জেলা করে দুইবার বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন করা হচ্ছিল।

কিন্তু এক সঙ্গে ৬৪ জেলার লোক নিয়ন্ত্রণ করা কীভাবে সম্ভব হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুরব্বিরা। তারা পৃথক দিনক্ষণে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ দু’পক্ষকেই নিয়েই ইজতেমার আয়োজন করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমায় ৬৪ জেলার সব মুসল্লিদের আগমন নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তাবলিগের মুরুব্বিদের মাধ্যমে প্রত্যেক জেলা থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ মুসল্লিদের আসার অনুমতি দেয়া হবে। সার্বিকভাবে আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এবারের ইজতেমা ময়দানের আশপাশে জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়ে মুসল্লিদের বয়ান শোনানোর ব্যবস্থা করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানান তারা।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন