নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন ও উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ

0
6

ড. ফোরকান উদ্দিন আহমদ:

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূখ্য উদ্দেশ্য। বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে বাংলাদেশ বিশে^ অন্যান্য অনেক দেশ থেকে এগিয়ে আছে। বলা হচ্ছে আগামীতে বিশ^ অর্থনীতিতে শক্তিশালী উদীয়মান ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দেশের এই অগ্রসরমান ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য ধৈর্য্য, ন্যায় নিষ্ঠা, সততা, নৈতিকতা, আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আরো পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা দিয়েছে। মূলত এ বিজয় বাংলাদেশের জনগণের বিজয়, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসীদের বিজয়। এ বিজয় একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১০ বছরের বহুবিধ উন্নয়ন কর্মকান্ডের স্বীকৃতিরই প্রকাশ। নির্বাচনের এই ফলাফল বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বেরই প্রতিফলন। এখন আমাদের একটাই স্বপ্ন জাতির পিতার ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাকে গড়ে তোলা।
আশা করব বর্তমান সরকার নির্বাচনের সময় জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রæতির বাস্তবায়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে। কারণ অতীতে দেখা গেছে ক্ষমতায় গেলে প্রায়ই তারা জনগণের কল্যাণের কথা, দেশের উন্নয়নের কথা ভুলে যায়। আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের ফলে জনগণের প্রত্যাশা বহুগুণ বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ করা হবে আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তাই প্রত্যেক সদস্যকেই এই চ্যালেঞ্জ ইতিবাচক দৃষ্টিতে গ্রহণ করতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে নির্বাচনী ইশতেহার হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শক। অতএব তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রæতির কথা এই মুহূর্তে উল্লেখ না করে পারছি না।
ইশতেহারের শুরুতেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, কার্যকর সংসদ এবং সংবিধান অনুসরণে দেশ পরিচালনা; আইনের শাসন এবং মানবাধিকার সংরক্ষণ; দক্ষ, জবাবদিহি, দুর্নীতিমুক্ত ও জনমুখী শাসনব্যবস্থা এবং স্থানীয় সরকার ও জনক্ষমতায়ন শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। আসলে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী ও উন্নত করতে হলে এসব মৌলিক বিষয়কে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের দেশে নাগরিকবান্ধব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৈরি করা একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ, তবে শুরু করতে হবে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর মধ্যে দুর্নীতি দমন অন্যতম। সরকারী-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে দুর্নীতি সমূলে উৎপাটন করা সহজ হবে না। হয়তো একটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হতে পারে। তবে স্বীকার করতেই হবে যে দুর্নীতিবিরোধী কঠোর আইন করলেই হবে না, শক্ত হাতে তা প্রয়োগ করতে হবে। বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, সা¤প্রদায়িক সংঘাত এবং মাদক নির্মূল করার পদক্ষেপ নিতে হবে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচন ও আয়-বৈষম্য হ্রাস করার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। কারণ জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন না হলে দেশের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব নয়। দেশের কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য যেমন চলমান বৃহৎ প্রকল্পগুলো সমাপ্ত করতে হবে, তেমনি আরো নতুন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি নির্ভর করে আমাদের তরুণ প্রজন্মের ওপর। স্কুল-কলেজ পাঠক্রমকে সাজিয়ে যুব উন্নয়নসংশ্লিষ্ট কারিগরি ও যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদান, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে যুব স¤প্রদায়ের অফুরন্ত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন গতিকে বেগবান করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়াটি চলমান থাকলেও এর ফলপ্রসূ বিস্তৃতি ঘটানো প্রয়োজন। ইশতেহারে কৃষি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিল্প, শ্রমিকদের কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ, ডিজিটাল বাংলাদেশ, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশ, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, শিশু ও বয়স্কদেরসহ মুক্তিযোদ্ধা এবং শারীরিক অক্ষমদের কল্যাণ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মযজ্ঞের প্রতিশ্রæতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইশতেহারে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো (এসডিজি) অর্জনের এবং ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০-এর ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমরা জানি, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের সরকার বিগত ১০ বছরে নির্বাচনী ইশতেহারের অনেক দফার বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছে, যা চলমান রয়েছে। এবার অনেক নতুন বিষয়ের প্রতিশ্রæতিও ইশতেহারে অন্তভর্‚ক্ত করা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, নতুন সরকার নির্বাচনী ওয়াদা পূরণের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল গ্রহণ করবে। তবে যেসব বিষয় নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি, কিন্তু সেগুলো দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোর দিকেও সমান দৃষ্টি প্রদানের প্রয়োজন রয়েছে। নতুন সরকারের যাত্রার প্রারম্ভেই যদি নির্বাচনী ইশতেহার থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের জন্য প্রযোজ্য অঙ্গীকারগুলোর একটি তালিকা তৈরিপূর্বক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হতে পারে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ তার কাজের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি চেক লিস্ট রাখবে, যাতে সব কর্মকান্ডই প্রধানমন্ত্রী মনিটরিং করতে পারেন। প্রয়োজনে এ বিষয়ে একটি টিম গঠন করা যেতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে যাবতীয় পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ করবে। ঐ টিমকে সহায়তা করার জন্য অভিজ্ঞ, দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। সরকার যদি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে আন্তরিক হয়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা সহজেই পূরণ করা সম্ভব হবে। ফলে আগামী পাঁচ বছর পর যখন আবার ভোটারদের কাছে রাজনৈতিক নেতারা যাবেন, তখন নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের সুফল বার্তাটিই হবে মুখ্য হাতিয়ার।
জনগণ কিছু বিষয়ের আশু সমাধান চায়। যেমন শিক্ষা ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গুচ্ছ প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা, প্রাইমারি শিক্ষকদের শিক্ষা অনুদানসহ রেশন, পোশাক ভাতা, ভ্রমণ ভাতা ইত্যাদি প্রদান। বিদ্যালয়গুলোর সংস্কার করা নিয়েও একটা পদক্ষেপ। কারণ প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই সুনাগরিক তৈরি হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম শহরের যানজট নিরসন ও দুর্ঘটনা বন্ধে দ্রæত দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ। ঢাকা শহরকে ১০-১২টি বাস কোম্পানির আওতায় নিয়ে এসে উন্নতমানের জনবান্ধব পরিবহন সেবা চালু করা। ছোট রাস্তা ও রুটের জন্য থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো ‘টুকটুক’ বা ১৬ সিটের ইলেকট্রিক যানের অনুমতি দেওয়া। এগুলো দৃশ্যমান করতে এক বছরের অধিক সময়ের দরকার হবে না। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা দুই বছর বৃদ্ধি করে ৩২-এ উন্নীত করা। বেকারত্ব দূর করার জন্য প্রতি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে একটি করে কার্যকরভাবে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করা। গুরুত্বপূর্ণ বাজার, ব্যবসাকেন্দ্র, আবাসিক এলাকায় সরকারি পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশন লাইন চালু করা দরকার। আরো প্রয়োজন মাদক নির্মূলের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ভিত্তিতে অভিযান ও সামাজিক আন্দোলন কার্যক্র যুগপৎ গ্রহণ করা। সরকারের প্রতিটি সেবাকেন্দ্র ঘুষ-দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন, বিশেষ করে ভূমি অফিস, সিটি করপোরেশন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াসা, আয়কর, শিক্ষা অফিস, হাসপাতাল, সরকারি সব চাকরিতে নিয়োগে, খাদ্য অধিদপ্তর, বিআরটিএ, বিআরটিসি, সকল দপ্তরের প্রকৌশল বিভাগ, শুল্ক ও বন্দর, বিস্ফোরক পরিদপ্তর, পরিবেশ ও বন অধিদপ্তরও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত।
মাদক আমাদের সমাজে ভয়াবহ থাবা বিস্তার করছে। এই মাদকের অতলে ডুবে যাচ্ছে দেশ, সমাজের সব বয়সের মানুষ এতে আসক্ত, বিশেষ করে যুবসমাজে উঠতি তরুণ-তরুণী। আগে নারীরা মাদক থেকে দূরে থাকত, হালে নারীরাও এতে দংশিত হচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গত বছরের শুরুতে মাদকের বিরদ্ধে অভিযান ঘোষণা করেছিলেন। ফলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। ১৬ হাজারেরও অধিক মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ধরা পড়ে। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বড়ি, ফেনসিডিল, গাঁজা এবং ঢাকা বিমানবন্দরে ‘খাত’ নামে নতুন মাদক। এই মাদক নির্মূল অভিযানকালে র‌্যাব-পুলিশের হাতে তিন শতাধিক ব্যক্তি ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়। অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা বহাল রাখা, নাগরিকদের নিরাপত্তা দান, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে স্বাভাবিক রাখে। এ কাজ মূলত পুলিশ বাহিনীর। এই বাহিনী যদি সততা, দক্ষতা, আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে, সে ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সরকারের অন্য সংস্থাগুলোর দুর্নীতিও নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নাগরিক সুবিধা প্রদানের বিষয়টি একটি সময়োপযোগী ও অত্যন্ত প্রশংসনীয় অঙ্গীকার। প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের বহু পুরনো। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন নগর ও গ্রামের বৈষম্য দূর করবেন। এজন্য কৃষি বিপ্লব, গ্রামে বিদ্যুতায়ন, কুটিরশিল্পসহ অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন করে গ্রামাঞ্চলে আমূল পরিবর্তনের কথা বলেন তিনি। এজন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলেও প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন। সেই চিন্তা থেকেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছেন তারই কন্যা শেখ হাসিনা। স¤প্রতি জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা গ্রামকে কিভাবে শহরে রূপান্তর করা হবে, তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উন্নত রাস্তা-ঘাট, যোগাযোগ, সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুচিকিৎসা, মানসম্পন্ন শিক্ষা, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো, কম্পিউটার, দ্রæতগতির ইন্টারনেট সুবিধা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও মানসম্পন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজার স¤প্রসারণ করে প্রতিটি গ্রামকে আধুনিক শহরের সকল সুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। গ্রামে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ আরো বাড়ানো ও নির্ভরযোগ্য করতে গ্রæপভিত্তিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ও সৌরশক্তি প্যানেল বসানোর উৎসাহ এবং সহায়তা দেয়া হবে। গ্রাম পর্যায়ে কৃষিযন্ত্র, সেবাকেন্দ্র, ওয়ার্কশপ স্থাপন করে যন্ত্রপাতি মেরামতসহ গ্রামীণ যান্ত্রিকায়ন সেবা স¤প্রসারণ করা হবে। এসবের মাধ্যমে গ্রামীণ যুবক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে উৎপাদনশীল কর্মসংসংস্থান করা হবে। অকৃষি খাতের এসব সেবার পাশাপাশি হাল্কা যন্ত্রপাতি তৈরি ও বাজারজাত করতে বেসরকারি খাতের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি গ্রামে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেয়া। আমরা সেটি করে যাচ্ছি”।
দেখা গেছে, সরকারের এ পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বর্তমানে ৯০ ভাগের বেশি মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। ২০২০ সালে শতভাগ বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত হবে। এখন গ্রামের রাস্তা-ঘাট আগের থেকে অনেক উন্নত হয়েছে। ১০ টাকায় কৃষকরা ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুবিধা পাচ্ছেন। রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন বেশ ভালো। সড়ক-মহাসড়কে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বাস, নৌপথ ও আকাশপথে যোগাযোগ তুলনামূলক অনেক বেড়েছে। প্রতিটি গ্রামে ৪জি মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা পৌঁছে গেছে। ১২ কোটির ওপরে জনগণ এখন মোবাইল ব্যবহার করছে। ভিডিওফোনে ছবি দেখাসহ কথা বলার সুবিধা, ডিজিটাল কৃষি সেবাসহ নানা ক্ষেত্রে মানুষের উন্নতি হয়েছে।
বাস্তবিকই বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। এই মহাসড়কের যাত্রাপথকে পঙ্কিলমুক্ত করতে হবে। যাত্রাপথের যাবতীয় আবর্জনাকে পরিস্কার করে উন্নয়নের গতিকে মসৃণ করতে হবে। এই পথপরিক্রমা কসুমাস্তীর্ণ নয়। এখানে আছে অনেক চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বলিষ্ঠ ও দৃঢ় নেতৃত্বের কোন বিকল্প নেই। কোন অন্যায় বা অসত্যকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। খাদ্যে ভেজাল, মাদক, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ইত্যকার সকল ইস্যুতে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থেকে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে এবং জনগণের চাহিদা মিটিয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণ করে আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে সংশ্লিষ্ট সকলকে মনোযোগী হতে হবে।
লেখক, কলামিস্ট ও গবেষক

LEAVE A REPLY