পুনরায় ডাকসু নির্বাচনের দাবি দুদুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি নিজের সমর্থন ব্যক্ত করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু ঢাবি কর্তৃপক্ষকে পুনরায় ডাকসু নির্বাচনের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। জাতীয়তাবাদী নবীন দল নামের একটি সংগঠন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

ঢাবি কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে দুদু বলেন, যদি নির্বাচন বাতিল না করেন, তাহলে প্রয়োজনে সাবেক ডাকসু ভিপি, জিএসসহ অন্যান্য ছাত্রনেতারা মাঠে নামবে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লংমার্চ করবে। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের স্বপ্নের জায়গা। এখানে আপনারা যা ইচ্ছা তাই করবেন, তা আমরা মেনে নেব না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লজ্জা থাকলে পদত্যাগ করতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা বস্তা বস্তা ভোট নিয়ে এসে গণমাধ্যমকে দেখালো। এ ডাকসু নির্বাচন যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে বাংলাদেশ সত্য বলতে আর কিছু নেই।

ঢাবি কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যে দাবি করছে তা মেনে নিন। এ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। এমন কোনো সংগঠন নাই, যারা এ নির্বাচন বাতিলের কথা বলেনি।

দুদু বলেন, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষা, শিল্প এমন কিছু নাই যা ভেঙে ফেলা হয়নি। বাংলাদেশ এখন যে পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে তাতে দেশের অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী কোনো ব্যবস্থায় ক্ষমতায় আসেনি। শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে গোয়ার্তুমির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল। আর ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নেতারা শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তখন তিনি কথা দিয়েছিলেন আর কোনো মামলা, হামলা, গ্রেফতার হবে না। কিন্তু তিনি সেই কথা রাখেননি।

দুদু বলেন, দেশ এখন বিএনপির পক্ষে রয়েছে। উপজেলা নির্বাচন, সিটি নির্বাচনসহ যে নির্বাচন হোক না কেন, বিএনপি সেই নির্বাচনে যাচ্ছে় না। দেশের জনগণও ভোট দিতে যায় না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে কোনো লাভ হবে না। দেশে স্বাধীনতা আনতে লড়াই ও রক্ত দিতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান আমলে জেল থেকে মুক্ত করা হয়েছে লড়াই ও রক্তের মাধ্যমে। লড়াই ও রক্ত দিয়েই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এটা যদি আপনি মাথায় না নিতে পারেন তাহলে ভুল হয়ে যাবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, আলিম হোসেন কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন আব্দুর রাজি প্রমুখ।

LEAVE A REPLY