পুলিশকে হতে হবে মানবিক

0
4

এ কে এম শহীদুল হকঃ

নুসরাত জাহান রাফি তার মাদরাসার অধ্যক্ষ কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হয়ে প্রতিবাদ করে এবং সাহস করে মামলা করার জন্য সোনাগাজী থানায় যায়। থানার ওসি তাকে যে পরিবেশ ও প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে ওসি জিজ্ঞাসাবাদের চিত্র মোবাইল ফোনে ভিডিও করে ফেসবুকে দিয়েছেন। তা পরবর্তী সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ওসি কী উদ্দেশ্যে এ কর্ম করেছেন তার কোনো কারণ আমি দেখি না। এর ব্যাখ্যা তাঁকেই দিতে হবে। তবে কাজটি কোনো যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি গর্হিত কাজ। বিবেকবর্জিত ও অমানবিক কাজ। মেয়েটি একটি অপরাধের ভিকটিম হয়ে অভিযোগ করার জন্য থানায় এসেছে। এ ক্ষেত্রে ওসির কর্তব্য ছিল মেয়েটিকে সান্ত্বনা দিয়ে, আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে পুলিশের প্রতি আস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে তার কান্না বন্ধ করে তাকে স্বাভাবিক করা। ওসি যদি বলতেন, মা, তুমি ভেঙে পোড়ো না, কেঁদো না, স্বাভাবিক হও। আমরা আসামির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেব। মেয়েটির মা বা অন্য আত্মীয় যারা তার সঙ্গে থানায় গিয়েছিল, তাদেরও মেয়েটির পাশে বসিয়ে সাহস ও সান্ত্বনা দিতেন, তাহলে মেয়েটি ও তার আত্মীয়স্বজন বিচার পাওয়ার জন্য আশ্বস্ত হতো। ভিকটিমকে আসামির মতো জিজ্ঞাসাবাদ করা মোটেও শোভনীয় নয়, উচিতও নয়। আমাদের দেশে বেশির ভাগ পুলিশ কর্মকর্তার ভিকটিম ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে জ্ঞান কম এবং তাঁরা ভিকটিমের কল্যাণ ও অধিকারের প্রতি উদাসীন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টা, আমার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। যেসব পুলিশ কর্মকর্তা ভিকটিমের সঙ্গে সংগত আচরণ করতে ব্যর্থ হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অবশ্যই নিতে হবে।

ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমে (Criminal justice system) পুলিশ একটি অন্যতম কম্পোনেন্ট (Component) বা অঙ্গ। Criminal justice system-এর সফলতা, বিফলতা বা কার্যকারিতা বহুলাংশে পুলিশের দক্ষতা, সক্ষমতা, নিষ্ঠা ও কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার পূর্বশর্তই হলো পুলিশকে স্বাধীনভাবে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ সৃষ্টি করা। বাংলাদেশ পুলিশ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত পুলিশ অ্যাক্ট ১৮৬০ মোতাবেক পরিচালিত হলেও পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা, সেবাদান প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও সংস্কার আনা হয়েছে। আধুনিকায়ন ও তথ্য-প্রযুক্তিতেও পুলিশ পিছিয়ে নেই। পুলিশে এখন অনেক উচ্চশিক্ষিত, প্রতিভাবান ও সৃজনশীল প্রতিভার কর্মকর্তা আছেন, যাঁদের অবদানে বাংলাদেশ পুলিশ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ পুলিশে যথেষ্ট সাফল্য এসেছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সাফল্য দৃশ্যমান। ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, বিভিন্ন পেশা ও কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিরা শান্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিজস্ব কর্মকাণ্ড করতে পারছে। আগুন-সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে পুলিশের ভূমিকা ও সাফল্য বিশ্বনন্দিত। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা যতগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তার প্রায় প্রতিটি পুলিশ সুন্দরভাবে উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে এবং আসামি গ্রেপ্তার করতে পেরেছে।

জনগণ পুলিশের সাফল্যের কথা স্বীকার করে। একই সঙ্গে পুলিশ কর্তৃক হয়রানির অভিযোগ ও প্রতিবাদও মানুষ করে। পুলিশের, বিশেষ করে থানা পুলিশের অসদাচরণ ও উেকাচ দাবির অভিযোগই বেশি। অভিযোগগুলো যে একেবারে ভিত্তিহীন, তা-ও না। থানার পুলিশই মূলত Crime management-এর কাজ করে এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে থাকে। মানুষ আইনি সেবা পাওয়ার জন্য থানায় যায়। কিন্তু থানার পুলিশ সাহায্য প্রার্থীর সঙ্গে ভালো আচরণ করে না, টাকা ছাড়া জিডি এন্ট্রি হয় না, মামলা নেয় না, সুষুম তদন্ত করে না, আসামি ধরে না ইত্যাদি অভিযোগ থানার পুলিশের বিরুদ্ধে অহরহ পাওয়া যায়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো তদন্ত করে কিছু সত্য, কিছু আংশিক সত্য ও কিছু অভিযোগ মিথ্যা পাওয়া যায়। তদন্তে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সাজা হয়। অনেকের চাকরি চলে যায়। কিন্তু পরিস্থিতির বিশেষ একটা উন্নয়ন হয় না। আমার চাকরিজীবনের ৩২ বছরই থানার পুলিশের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থা দূর করে সেবার মান উন্নয়ন ও পুলিশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছি এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবার মান ও আচরণের উন্নয়ন হয়নি।

থানার পুলিশের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ অসদাচরণের। রাষ্ট্রের কাছে আইনি সাহায্য পাওয়া একজন নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে থানায় যে-ই যাক তার সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করা এবং অনতিবিলম্বে তাকে আইনি সহায়তা দেওয়া পুলিশের অবশ্য করণীয় কর্তব্য। কিন্তু এ ক্ষেত্রে জনগণ সে সেবা পাচ্ছে না। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির রেফারেন্স ছাড়া থানায় আইনগত কোনো সহায়তা পাওয়া কঠিন। তাই অনেকে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তির কাছে যায় থানার ওসিকে একটি ফোন করে দেওয়ার জন্য। আবার স্থানীয় নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের থানার পুলিশ সমীহ করে এবং তাঁদের কথা শোনে।

চিকিৎসকের কাছে রোগী যায় রোগাক্রান্ত হয়ে। তখন তারা মানসিকভাবে খুব দুর্বল থাকে। এ কথা প্রচলন আছে যে চিকিৎসকের কাছে রোগী ভালো আচরণ পেলে তার অসুখ অর্ধেক ভালো হয়ে যায়। কিন্তু রোগীর সঙ্গে সব চিকিৎসক প্রত্যাশিত ভালো আচরণ করেন না। রোগীর আধিক্যের কারণে তাদের সমস্যা ভালোভাবে শোনার ও রোগীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার মতো সময়ও রোগীকে দেন না। এ অভিযোগ অনেক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আছে।

অপরাধের শিকার কিংবা বৈরী পরিবেশে পড়ে অসহায় হয়ে আইনি সহায়তা বা আইনি সুরক্ষার জন্য মানুষ থানার পুলিশের কাছে আসে। আমাদের দেশের মানুষ সহজে থানায় যেতে চায় না। তারা মনে করে, পুলিশের কাছে গেলে তার আরো সমস্যা হবে। যারা আসে, তারা অনেকটা বাধ্য হয়ে আসে। এ কথাও সত্য যে থানায় কর্মরত পুলিশ সেবা বা সাহায্য প্রার্থীর কিংবা অপরাধের শিকার ব্যক্তির (Crime victim) সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই ভালো আচরণ করে না। অপরাধের শিকার ব্যক্তি মানসিকভাবে পর্যুদস্ত থাকে। তার ওপর শারীরিক আঘাত হয়ে থাকতে পারে কিংবা তার মধ্যে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ভীতি সঞ্চারিত হয়ে থাকতে পারে অথবা তার সম্পদের ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের প্রধান কর্তব্য হলো ভিকটিমকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে চাঙ্গা (Psychological support) করতে তার মনে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করে তাকে স্বাভাবিক করা। পুলিশ ভিকটিমের সঙ্গে এমন মানবিক ও বন্ধুসুলভ আচরণ করবে, যাতে ভিকটিমের মনে পুলিশের ওপর আস্থা সৃষ্টি হয়, নিরাপত্তাবোধ জেগে ওঠে এবং পুলিশকে আপন মনে করে। ভিকটিমের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও ভালো আচরণ করা বাঞ্ছনীয়, যাতে তারা মনে করে, তারা বিচার পাবে।

সামাজিক বিজ্ঞানে (Social science) নিত্যনতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। ভিকটিমোলজি (Victimology) সামাজিক বিজ্ঞানের একটি নতুন সাবজেক্ট। বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে Victimology পড়ানো হয়। ভিকটিম ও ভিকটিমের আত্মীয়; যেমন—মা, বাবা, স্বামী, ভাই-বোন ও সন্তানদের মানসিক ও সামাজিক সমর্থন দেওয়া এবং তাদের আপন করে নিয়ে তাদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টিসংক্রান্ত শিক্ষাই Victimology-তে দেওয়া হয়। একজন অপরাধের শিকার ব্যক্তি (Crime victim) পুলিশের কাছে এসে যাতে পুলিশের অসৌজন্য ও নির্মম আচরণে দ্বিতীয়বার ভিকটিম না হয় সে শিক্ষাই Victimology দিয়ে থাকে।

পুলিশের প্রতি মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও পুলিশভীতি কাটানোর জন্য কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের একটি কৌশল প্রকার (Modality) তৈরি করে সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করাই। সারা দেশে ওই Modality অনুসরণ করে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম চলছে। আমার উদ্দেশ্য ছিল কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন কমিউনিটি তথা জনগণের সঙ্গে পুলিশের একটি সেতুবন্ধ তৈরি করা। পুলিশ তাদের সাজেশন ও পরামর্শ নিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য জনগণের সহায়তা নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নেবে, সমস্যার সমাধান করবে। এতে টাউট-বাটপার ও দালাল থানা থেকে বিতাড়িত হবে। গণমুখী পুলিশিং ব্যবস্থা চালু হবে। পুলিশের জবাবদিহি বাড়বে। মানুষ উপকৃত হবে। কিন্তু অনেক পুলিশ কর্মকর্তা এটিকে বাড়তি ঝামেলা মনে করেন।

পুলিশ সদস্যরা যাতে কমিউনিটিকেন্দ্রিক পুলিশিং (Community based policing), গণমুখী পুলিশিং এবং সমস্যা সমাধানমূলক পুলিশিং সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পান সে জন্য আমি একটি বই লিখেছি। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায়ই বইটি প্রকাশিত হয়েছে। বইটির নাম ‘সমাজে পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশিং’। ইংরেজিতে বইটির নাম ‘Police in community with concept of community policing’। ওই বইয়ে বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা, বয়স ও জেন্ডারের লোকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ কেমন হবে; শিশু, নারী ও অপরাধের ভিকটিম, বিশেষ করে নারী ভিকটিমের (যেমন—ধর্ষণ বা যৌন হয়রানির ভিকটিম) সঙ্গে আচরণ কী হবে, তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সান্ত্বনা, আশ্বাস ও সাহস দিয়ে তাদের পর্যুদস্ত মানসিক অবস্থাকে স্বাভাবিক করা ইত্যাদি বিষয় লিপিবদ্ধ আছে। পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বই পড়তে চান না। কিন্তু তাঁদের পেশাগত জ্ঞানের জন্য এ ধরনের পুস্তক পড়ে জ্ঞান অর্জন এবং সেই জ্ঞানকে কাজে ও আচরণে প্রয়োগ করা অপরিহার্য।

পুলিশকে আগে মানবিক হতে হবে, পরে পুলিশ। সেবাপ্রার্থীর সঙ্গে অবশ্যই মানবিক আচরণ করতে হবে। ভিকটিমকে এমনভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না, যাতে তার পুলিশ সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়। আসামিকে যে প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, ভিকটিম ও সাক্ষীকে অবশ্যই সে প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত নয়। ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলার আগে তার মানসিক অবস্থাকে স্বাভাবিক করতে হবে। কথাবার্তা ও বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে ভিকটিমের মধ্যে পুলিশের ওপর আস্থা বা বিশ্বাস জন্মাতে হবে। ভিকটিমের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও সহযোগিতামূলক ও শোভনীয় আচরণ করতে হবে।

পুলিশের মধ্যে, বিশেষ করে থানার পুলিশের আচরণে মানবিকতার প্রতিফলন কম দেখা যায়। তারা অনেকেই রূঢ় ও যান্ত্রিক। এ কারণেই পুলিশের অসংখ্য অর্জন ও সফলতা থাকলেও পুলিশ সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। পুলিশ প্রভাবশালীদের প্রভাবে অনেক সময় ন্যায্য ও সঠিক কাজটি করতে বাধাগ্রস্ত হয়। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়। পুলিশের উচিত গুরুতর অপরাধের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং আইন প্রয়োগে কঠোর অবস্থানে থাকা। এটি করা সম্ভব, যা আমি আমার চাকরিজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।

পুলিশকে আগে বলা হতো ফোর্স। কিন্তু স্বাধীন দেশে পুলিশ একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। একটি কোয়াসি জুডিশিয়াল (Quasi Judicial) সার্ভিস। পুলিশকে জনগণ দেখতে চায় দক্ষ, বিনয়ী, মানবিক, সাহসী, নিরপেক্ষ ও পেশাদার হিসেবে। পুলিশকে জনগণের পুলিশ হতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজের উচিত হবে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং পুলিশ যাতে বাইরের প্রভাবমুক্ত থেকে যথাযথভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারে সে সুযোগ সৃষ্টি করা।

লেখক : সাবেক ইন্সপেক্টর জেনারেল, বাংলাদেশ পুলিশ

LEAVE A REPLY