বঙ্গবন্ধুর জুলিও ক্যুরি বিশ্ব শান্তি পদক অর্জনের ৪৬তম বর্ষপূর্তি

ড. ফোরকন উদ্দিন আহমদ:

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার অবিসংবাদিত নেতা, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ইতিহাস নির্মাণের কারিগর, মহান জাতির মহান নেতা, অদ্বিতীয় অগ্রনায়ক, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণার নায়ক, বাংলাদেশের স্থপতি, অবিস্মরণীয় ও বরণীয়, রাজনৈতিক কবি, আকাশের মত হৃদয়, বাংলা ও বাঙ্গালি জাতির প্রতীক, উন্নত শির, বাঙ্গালী হৃদয়ের আঁকা জীবনের ¯্রােতধারা, শতাব্দীর মহানায়ক, বিশ্ব শান্তি পরিষদের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘জুলিও ক্যুরি’ শান্তি পদকের শ্বাশত প্রতীক, সবই তাঁর অর্জন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১৯৭১ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী, সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। ফ্যাসিবাদ বিরোধী, সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামকে বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে চির অ¤øান করে রাখার লক্ষ্যে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৭৩ সালে ২৩ মে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জুলিও ক্যুরি শান্তি পদকে ভ‚ষিত করেন। এই ঐতিহাসিক দিবসকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ করে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান জুলিও ক্যুরি বঙ্গবন্ধু শান্তি সংসদ। বঙ্গবন্ধুর জুলিও ক্যুরি শান্তি পদক অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা একজন দেশ বরেণ্য ও কৃতি ব্যক্তিত্বকে “বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক”-ঘোষণা করে থাকে। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক জুলিও ক্যুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির ৪৫তম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে নাট্য ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমামকে বঙ্গবন্ধু শান্তিপদক প্রদান করা হয়। চলতি বছরেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও ক্যুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির ৪৬তম বর্ষপূর্তিতে প্রখ্যাত পরিবেশবিদ ড. আইনুন নিশাতকে বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জুলিও ক্যুরি বঙ্গবন্ধু সংসদ থেকে একটি গবেষণাধর্মী পত্রিকাও প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকার নাম আমাদের জুলিও ক্যুরি বঙ্গবন্ধু। পত্রিকাটি পাক্ষিক হিসেবে এই সংগঠনের মুখপত্র হিসেবে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়ে থাকে। বঙ্গবন্ধুর জুলি ও ক্যুরি শান্তি পদক অর্জন আপামর বাঙ্গালীর এক বিরল সম্মান। এই মহান অর্জনের ফলে জাতির পিতা পরিণত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু থেকে বিশ্ববন্ধুতে। কিন্তু এই প্রাপ্তি বা অর্জন দেশী-বিদেশী অনেকের কাছেই চোখের বালি বা ঈর্ষণীয় বিষয় ছিল। একটি ছোট্ট দেশ তাও অনুন্নত তৃতীয় বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ। এই গরীব মানুষের এত শান্তির দরকার কি? ধনী বিশ্বের আশংকা হচ্ছে গরীব মানুষদের শান্তি নিশ্চিত করা হলে তার নিজের সুখ শান্তির ঘাটতি হয়ে থাকে। তাই ধনী বিশ্বের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ আর ঈর্ষার বহিঃপ্রকাশ ছিল ১৯৭৫’র মর্মান্তিক হত্যাকান্ড। যা মানব জাতির ইতিহাসে এক নিষ্ঠুর ও নির্মম হত্যাকান্ড। এ এক কলংকিত ইতিহাস, পাপ-পঙ্কলিত অধ্যায়। সেই বিকৃত ইতিহাস ও অধ্যায়ের বলি হয়েছেন আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই মহামানবের নামে বিশ্বশান্তি পরিষদের কাছে ইতিহাসের কি কোন চাওয়া-পাওয়া থাকবে না? ইতিহাস যদি শাশ্বত ও চিরকালের হয়ে থাকে তাহলে বিশ্বশান্তি পরিষদ নিশ্চয়ই বঙ্গবন্ধুর নামে নিশ্চয়ই আরেকটি বিশ্বশান্তি পদকের প্রবর্তন করে শান্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর সমর্পিত জীবনকে চিরকালের মানুষের জন্য একটি স্বীকৃত ব্যবস্থার দ্বার উন্মোচন করে যাবেন। বিশ্বশান্তি পরিষদের কাছে আজ আমাদের এই আহŸান।
মানুষের জীবন হচ্ছে অত্যন্ত মূল্যবান জিনিস। প্রত্যেক মানুষ তার নিজের জীবনকে খুবই মায়া করে থাকে। একমাত্র জাতির জনক বঙ্গবন্ধুই নিজের জীবনকে সারাটা জীবনেই তুচ্ছ করে গেছেন। জাতির প্রতি তার এই টান, মমতা ও ভালবাসা তাকে কি আন্তর্জাতিকতায় উত্তীর্ণ করে তুলতে পারেনি? যেখানেই মানবতার অবক্ষয় দেখেছেন সেখানেই তিনি মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছেন, সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন, বিশ্ব বিবেককে জাগানোর চেষ্টা করেছেন এবং বিশ্বসভার তাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাই আজকের বিশ্বশান্তি পরিষদ এবং সচেতন বিশ্ব মানব সমাজকে সোচ্চার হতে হবে যেন বিশ্বে বিশ্বশান্তি পদক নামে আরেকটি শান্তি পদকের ঘোষণা আসে। তা না হলে বিশ্ব দরবারের অবিচার করা হবে। বিশ্ব শান্তি পদক নামের আরেকটি পদক তালিকায় পুরস্কারের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে বিশ্ব মানবতাকে সমুন্নত ও হাস্যোজ্জ¦ল করার সময় এসেছে। বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের এক মহানায়ক, মহান ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদার অধিকারী। তাঁর যথাযথ মূল্যায়ন যেন বিশ্ববাসীর কাছে পাওয়া যায় সেই লক্ষ্যে এখন থেকেই বর্ণিত প্রতিষ্ঠান কাঠামোগতভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করার দরকার বলে মনে করি। জাতীয়ভাবে এই পদক প্রবর্তনের মাধ্যমে একটি চারাগাছের রোপণ করা হলো। তাকে যতœ, লালন ও পরিচর্যা করে মহীরুহে পরিণত করতে হবে। এই সংগঠন যদি নিরলসভাবে নিঃস্বার্থভাবে মানবতার জন্য কাজ করে যায় তাহলে জাতীয়ভাবে সেবা সংহতির বন্ধন অটুট হবে। দেশবাসী দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। আর তাহলেই এই সংগঠন ও দেশবাসীর পক্ষ হতে বিশ্বশান্তি পরিষদে সেই কাঙ্খিত স্বীকৃতি ও প্রাপ্যতার দাবী করতে পারবে। আজকের এই সংগঠন ও সংগঠনের কার্যক্রমে উজ্জ্বল, অপার সম্ভাবনার ইঙ্গিত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। এক সোনালী স্বপ্নের হাতছানিতে ডাক দিয়েছে যেন এই সংগঠন। হাঁটিহাঁটি পা পা করা এই সংগঠনটির ব্যপ্তি একদিন দিগন্ত প্রসারিত হবে। সম্ভাবনা ও মহিমার উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হবে বাংলাদেশ। সম্মানিত হবে এ দেশ, এ দেশের সাধারণ গরীব-দুঃখী মানুষ। দূর হবে অনাচার, শাসন, শোষণ, নির্যাতন। প্রতিষ্ঠা পাবে মূল্যবোধ আর মানবতা। মানুষ হবে মানুষের জন্য। সভ্যতার ভিত্তিভ‚মিতে মজবুত সমাজ বিনির্মাণ লাভ করবে। মানুষের মধ্যে মুক্তচিন্তা ও শুভবুদ্ধির উদয় হবে। প্রগতির বাণীতে শুদ্ধাচার লালন করে মাতৃভ‚মিতে ফলাবে নির্ভেজাল ফল ও ফসল।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ২৩ মে বঙ্গবন্ধুর জুলিও ক্যুরি বিশ্ব শান্তি পদক অর্জনের ৪৬তম বর্ষপূতিতে জুলিও ক্যুরি বঙ্গবন্ধু শান্তি সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন এ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করবে। আজকের এই বঙ্গবন্ধুর জুলিও ক্যুরি শান্তি পদক অর্জন থেকে আন্তর্জাতিকভাবে বঙ্গবন্ধু বিশ্ব শান্তি পদক প্রবর্তিত হলে বাঙালীর শ্রেষ্ঠত্ব অমরত্ব লাভ করবে এবং বিশ্ব সভায় বাংলাদেশ সম্মান, ভাবমূর্তি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। সে লক্ষ্যেই আমাদের কাজ করে যেতে হবে। পদকের মূল্যমান যেমনই হোক না কেন আজকের এই জুলিও ক্যুরি বঙ্গবন্ধু শান্তি সংসদ কর্তৃক প্রবর্তিত বঙ্গবন্ধু শান্তি পদকের মর্যাদাগত মূল্যমানকে কোনভাবেই অর্থের মানদন্ডে মূল্যায়ন করা যাবে না। আগামীতে তা হবে অমূল্য সম্পদ তুল্য এক অসামান্য কীর্তির স্মারক, মর্যাদা ও বিশ্ব শান্তির প্রতীক।
লেখক: কলামিস্ট ও গবেষক

LEAVE A REPLY