বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট: আন্ত-অভিযানে স্থলবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি

0
12
কঙ্গোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। ছবি: আইএসপিআর

জেনারেল আজিজ আহমেদ :

বর্তমান সময়ে নানা জটিল অভিযান চলছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্ত-অভিযান সক্ষমতার একটি সাধারণ লক্ষ্য অর্জন করার জন্য বিভিন্ন সংস্থা বা ব্যক্তি কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, তার এক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। আন্ত-অভিযান সক্ষমতার ক্ষেত্রে সাধারণত মানদণ্ডীকরণ, সংহতি ও সহযোগিতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আন্ত-অভিযান সক্ষমতা বিষয়টি সুনির্দিষ্ট হলেও ভালোভাবে নিরূপিত নয়। বিষয়টি প্রায়ই নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর, এটি আসে বিভিন্ন আকারে, মাত্রায় ও স্তরে-যেমন যুদ্ধকৌশলগত ও আভিযানিক বিষয়সহ প্রযুক্তিগতভাবেও তা ঘটতে পারে। আন্ত-অভিযান সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বহুজাতিক পরিবেশে ভাষা, পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং স্থানীয় সক্রিয় শক্তি মোকাবিলার মাধ্যমে সংহতি ও সহযোগিতার দিকগুলোর ওপর গুরুত্ব দেয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গঠিত হয়েছে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়। সেই সময় আমাদের সেনাবাহিনী ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বাহিনীর অংশ হিসেবে যুদ্ধ করেছিল। এভাবে আমাদের যোদ্ধাদের আত্মনিবেদনের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর আন্ত-অভিযান সক্ষমতা বিকশিত হয়। পরবর্তী সময়ে ভাষা ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ একটি অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগত লোকজনের মধ্যে পরিচালিত দীর্ঘ ও সফল দমন অভিযান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পরিপক্ব করেছে। তা ছাড়া বাংলাদেশের সমাজে বিদ্যমান উৎকৃষ্ট রীতিনীতি এবং কার্যকর ও গতিশীল প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সেনাবাহিনীর অভিযোজন-ক্ষমতা আরও ত্বরান্বিত করেছে। এসব যোগ্যতা শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আগমনকে সহজ করেছে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে একটি নেতৃস্থানীয় সৈন্য অবদানকারী দেশ হয়ে ওঠার পথ তৈরি করেছে। আমাদের সেনাবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ৩১ বছরের বেশি সময় ধরে অবদান রেখে আসছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন দেশে কয়েকটি অভিযানে অংশগ্রহণ করেছি। একাধিক মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে বহুজাতিক পরিবেশে কাজ করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্ত-অভিযান দক্ষতা বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আন্ত-অভিযান দক্ষতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান অর্জন অবিচল চেষ্টা, উৎসর্গ, প্রণোদনা ও সাংস্কৃতিক অভিযোজনের ফল।

ব্লু হেলমেটে যুক্ত হওয়ার এক দশক পর থেকেই বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শীর্ষস্থানীয় সৈন্য অবদানকারী দেশ হয়ে ওঠে। ১৯৯০ সালে প্রথমবারের মতো ‘অপারেশন ডেজার্ট শিল্ডে’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইরাকে বড় বহুজাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করে। তখন থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠন’-এ অংশ নিয়ে এ অঞ্চলে তার উপস্থিতি বজায় রেখেছে। এ পর্যন্ত ২২ হাজার ২২২ জন বাংলাদেশি সেনা এ অভিযানে অংশ নিয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার অধীনে এই অভিযান নতুন দিগন্ত খুলে দিয়ে আন্ত-অভিযান দক্ষতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের অধীনে আমরা সৌদি আরবের দক্ষিণ প্রদেশগুলোতে দুটি মাইন অপসারণকারী প্রকৌশলী ব্যাটালিয়ন পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই অংশগ্রহণ, সংহতি ও সহযোগিতার মাধ্যমে আন্ত-অভিযান সক্ষমতার মান আরও বাড়বে। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য ইউরোপ এবং আমেরিকায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। অদ্যাবধি ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ৪০টি দেশের ৫৪টি শান্তিরক্ষা অভিযানে অংশ নিয়েছে। জাতিসংঘ এখন বাংলাদেশি কন্টিনজেন্টের কাছে বিপজ্জনক পরিবেশে অভিযানের গুরুদায়িত্ব দিতে প্রস্তুত, যেখানে আরও বেশি আন্ত-অভিযান সক্ষমতা প্রয়োজন। কঙ্গোতে বাংলাদেশি বাহিনী বিভিন্ন দেশের মিত্র ও সহযোগী বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় মাত্রার আন্ত-অভিযান সক্ষমতার মাধ্যমে সুচারুভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দক্ষিণ সুদান, মালি ও মধ্য আফ্রিকার চলমান শান্তি অভিযানেও অংশ নিচ্ছে, যেখানকার অভিযানের পরিবেশে আন্ত-অভিযান সক্ষমতা অত্যাবশ্যক।

বহুজাতিক পরিবেশে অন্য বাহিনীর সঙ্গে সংগতি রেখে কার্যকরী শক্তি প্রয়োগের অন্যতম মৌলিক বিষয় হলো শান্তি অভিযান পরিচালনার পেছনের সমস্যাটি সম্পর্কে সম্যক ধারণা। অভিযানের ধারণাটির যেখানে উদ্ভব, সেই শান্তি অধিদপ্তর (ডিপিও) থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে সেনা প্রেরণকারী দেশগুলোর যথাযথ প্রতিনিধিত্বের অনুপস্থিতি যথাযথ সময়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বাহিনীর প্রস্তুতিতে বিশেষ করে তাদের অস্ত্রসজ্জা এবং আন্ত-অভিযান সক্ষমতা ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

শান্তি অভিযান মিশনে সাধারণত তিনটি বিভাগ থাকে: বেসামরিক, সামরিক ও পুলিশ। কোনো মিশনের সাফল্য নির্ভর করে এদের মধ্যে কাজের ঐকতানের ওপর। সামরিক পরিমণ্ডলে বাহিনী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সব স্তরের কর্মকর্তারা তাঁদের নিজস্ব দর্শনে অধীনস্থ কন্টিনজেন্টগুলো পরিচালনা করতে চান। এই দর্শন মাঝেমধ্যে মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির দেওয়া বৃহত্তর দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়। এসব দ্বন্দ্ব আন্ত-অভিযান সক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটায়। এ ছাড়া সেনা দলগুলো মিশন এলাকায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই আভিযানিক কাজ শুরু করে। ভিন্ন পরিবেশে খাপ খাওয়ার মতো সময় তারা পায় না। প্রাথমিক পরিবেশ সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণা সেখানে নিযুক্ত সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগের কার্যকরী একীকরণ এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিম্নমানের আন্ত-অভিযান সক্ষমতায় পর্যবসিত করে। তা অনেক সময় আভিযানিক সমস্যা ঘটায়, শান্তিরক্ষীদের জীবনের খেসারতেরও কারণ হয়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বেসামরিক, সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর ঐকতানের অভাবটি তাই গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে রয়েছে।

মিশন এলাকার সামগ্রিক কর্মক্ষম পরিবেশের উপবিভাগ হিসেবে সামাজিক নির্মাণ সর্বদাই সুষ্ঠু কাজের অন্তর্নিহিত সমস্যা হয়ে রয়েছে। স্থানীয় সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও সামাজিক অনুশীলনের প্রতি নিয়োজিত বাহিনীর বিচিত্র দৃষ্টিভঙ্গি আন্ত-অভিযান সক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত ব্যবধান আন্ত-অভিযান সক্ষমতার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হয়ে উঠেছে।

জাতীয় সামরিক পন্থাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যের কারণে উদ্ভূত ব্যবহারিক সমস্যা বহুজাতিক বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রভাবিত করে। ব্যবহারিক ক্ষেত্রে নানা দেশের নিজস্ব সমর-দর্শন এবং আন্ত-অভিযান সক্ষমতার প্রতিকূল সমরাস্ত্র থেকে জাত বিচিত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কন্টিনজেন্টগুলোর মধ্যে সংহতির অভাব লক্ষ করা যায়। তা ছাড়া আত্মরক্ষা ও শান্তি অভিযানের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ণয়ে কন্টিনজেন্টগুলোর পার্থক্যও মাঝেমধ্যে সংহতির জন্য দারুণ সংকট তৈরি করে।

মিশন এলাকায় অবস্থান নেওয়ার আগেই বাহিনীকে সম্মত অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করা বহুজাতিক পরিসরে সংহতির অন্যতম বড় সমস্যা। শান্তি অধিদপ্তরের (ডিপিও) সর্বস্তরে যথাযথ প্রতিনিধিত্বের অভাব সমস্যাটিকে আরও তীব্র করেছে। এ সমস্যা মোকাবিলার উপায় হিসেবে শান্তি অভিযানে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আসন্ন শান্তি অভিযানে নিয়োজিত সাজসরঞ্জামের ধরন ও পরিমাণ মূল্যায়নের একটি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কাঠামো তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে পাওয়া পূর্বাভাস শান্তি অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে যতটা সম্ভব যাচাই করা হয়। এ প্রচেষ্টা সংক্ষিপ্ত সময়ে আমাদের কন্টিনজেন্টগুলোর আন্ত-অভিযান সক্ষমতা বাড়িয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযান অঞ্চলে অবস্থান নিতে যথেষ্ট সমর্থ করে তুলেছে।

একাধিক অংশীদারের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে পারস্পরিক বোঝাপড়া প্রয়োজন। বহুজাতিক পরিসরে কাজের সাফল্যের এটাই চাবি। জাতি হিসেবে আমরা সমৃদ্ধ সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী। বহুজাতিক পরিবেশে আমাদের শান্তিরক্ষীরা তাই সহজাতভাবেই অন্য সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি উঁচু মাত্রার শ্রদ্ধা দেখিয়ে আমরা স্থানীয় জনগণ এবং মিশনে কর্মরত অন্য দেশের বাহিনীর মন জয়ের চেষ্টা করি। এটি মিশন এলাকার সামাজিক নির্মাণের সমস্যা কমিয়ে আনে।

প্রশিক্ষণ আন্ত-অভিযান সক্ষমতা অর্জনে অতি গুরুত্বপূর্ণ। অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একাধিক অংশীদারের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবধান কমায় এবং দক্ষতা বাড়ায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী BIPSOT-এ প্রাক্-মোতায়েন প্রশিক্ষণ চলাকালে ব্যাপক তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নেয়। সেখানে মিশন ম্যান্ডেট, আভিযানিক ধারণা এবং সম্পৃক্ততার নিয়মকানুনের বিশদ ব্যাখ্যা এবং মহড়া দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বহুজাতিক অংশীদারের সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে আন্ত-অভিযান সক্ষমতা বাড়াতে কৌশল ও পদ্ধতির নিয়মিত মূল্যায়ন করে এবং শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। BIPSOT বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ড এবং বিশ্বশান্তি উদ্যোগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত যৌথ অনুশীলনে বহুজাতিক অংশীদারের সঙ্গে বড় মাত্রায় প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আমাদের সেনাবাহিনীর আন্ত-অভিযান সক্ষমতা বাড়াতে এসব কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

বিদেশে অভিযান শেষে ফিরে এসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলো আভিযানিক সমস্যা এবং অর্জিত জ্ঞান লিপিবদ্ধ করে। গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমাদের বিদেশি অভিযানবিষয়ক পরিদপ্তর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও শান্তি অভিযানের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ ও সংশোধন করে থাকে। এই চলমান প্রক্রিয়াটি আন্ত-অভিযান সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে। বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের কর্মকর্তারা নিজেদের পাশাপাশি মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর মতবাদও শিখতে পারে। অন্যান্য দেশের মতবাদের প্রাসঙ্গিক দিকগুলোর অন্তর্ভুক্তি আমাদের মতবাদকে দৃঢ় করেছে। আর তা আমাদের সেনাবাহিনীকে কঠিন পরিবেশে কাজ করতে সক্ষম করে গড়ে তুলছে।

আন্ত-অভিযান সক্ষমতা বাড়াতে BIPSOT আয়োজিত বহুজাতিক প্রশিক্ষণ ছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অন্যান্য দেশের স্থলবাহিনীর সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, সিঙ্গাপুর ইত্যাদি দেশের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যৌথ কমান্ড পোস্ট এক্সারসাইজ, স্পেশাল ফোর্সেস এক্সারসাইজ এবং ফায়ার অ্যান্ড ম্যানুভার এক্সারসাইজ পরিচালনা করি। সাধারণ কৌশলের পাশাপাশি আমাদের সৈন্যরা মিত্র ও সহযোগীদের সমাজ, সংস্কৃতি ও ভাষার বৈচিত্র্য সম্পর্কেও শিখে থাকে। এ শিক্ষা প্রকৃত অর্থেই আন্ত-অভিযান সক্ষমতা বাড়ানোতে ভূমিকা রাখছে।

আন্ত-অভিযান সক্ষমতার ক্ষেত্রে ফাঁকফোকর শনাক্ত করা এবং তা সংশোধনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সঠিক পন্থা হলো যৌথ অভিযানের আয়োজন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন দেশের সহযোগিতায় যৌথ অভিযানের আয়োজন করছে, তবে তা অপ্রতুল। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাহিনীগুলোর মধ্যে আন্ত-অভিযান সক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত বিরতিতে আরও যৌথ প্রশিক্ষণ অভিযানের পরিকল্পনা নেওয়া যায়।

উন্নয়নশীল দেশের সেনাবাহিনীর সামর্থ্য বাড়াতে প্রযুক্তি হস্তান্তর, জ্ঞান ভাগাভাগি, বর্ধিত বিনিময় কর্মসূচি এবং যুদ্ধ ছাড়া অন্যান্য অভিযানে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তির বিচারে উন্নত দেশের চেয়ে উন্নয়নশীল দেশের সেনাবাহিনী পিছিয়ে আছে। উন্নয়নশীল দেশের প্রযুক্তিগত আন্ত-অভিযান সক্ষমতা বাড়াতে প্রযুক্তি হস্তান্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উন্নত সহযোগিতা আন্ত-অভিযান সক্ষমতা বাড়ানোয় সহায়ক হতে পারে। যৌথ সেমিনার, অনুষদ বিনিময়, প্রশিক্ষণ প্যাকেজ বিনিময়, গবেষণা ও উন্নতির বিষয় আদান-প্রদান হতে পারে এই সহযোগিতার ক্ষেত্র। আন্ত-অভিযান সক্ষমতার ওপর জোর দিলে শান্তি ও যুদ্ধ উভয় ধরনের অভিযানের জন্যই তা বাহিনীকে প্রস্তুত করবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আন্ত-অভিযান সক্ষমতার ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। এটিই হবে শান্তি অভিযানে সাফল্যের চাবি। এই দৃষ্টিভঙ্গি অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিত কাজের পরিস্থিতি তৈরি করে পারস্পরিক মৈত্রীর ক্ষেত্র তৈরি করবে; একাধিক অংশীদারের সঙ্গে কাজ করার মনস্তাত্ত্বিক ধারণাগুলো সুসংহত করবে। বাংলাদেশ বা অন্য যেসব দেশ বহুজাতিক কর্মকাণ্ডে ভালো করতে চায়, তারা তাই আন্ত-অভিযান সক্ষমতা বিষয়টিকে প্রাধান্য দেবে। তা ছাড়া অংশীদার দেশগুলোর সমর্থনে কোনো আভিযানিক দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তুতির মাত্রা নির্ণয়ের জন্য আন্ত-অভিযান সক্ষমতা অনন্য মাপকাঠি হিসেবে থাকবে।

২২ মে ২০১৯ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইতে সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড এক্সপোজিশন অব ল্যান্ড ফোর্সেস অব দ্য প্যাসিফিকে পঠিত সন্দর্ভ

জেনারেল আজিজ আহমেদ: বিএসপি, বিজিবিএম, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, পিএসসি, জি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধান

Leave a Reply