শনিবার চূড়ান্ত হবে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন

একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম খাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কারণ এবার এত বেশি প্রার্থী যে কাকে রেখে কাকে মনোনয়ন দেবেন সেটা নিয়ে ভাবনায় পড়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। যেসব যোগ্যতায় সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী নির্বাচন করা হয় এবার সেসব যোগ্যতা রয়েছে অনেকেরই। ফলে দলের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। এবার প্রতিটি আসনের বিপরীতে দলটির ৩৫ জন প্রার্থী লড়ছেন। দলের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) বিকেল সাড়ে চারটায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন শনিবার একই সময় ও স্থানে স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। দু’টি সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ দু’টি সভা শেষে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া অনেকটা গুছিয়ে আনা হয়েছে। তবে বেশি প্রার্থী হওয়ায় বাছাইয়ে অনেকটা বেগ পেতে হচ্ছে।

জানা গেছে, এর আগের সংসদে যেসব জেলা বঞ্চিত হয়েছে তাদের মধ্যে ২৫টি জেলাকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন পেশার পরিচিত মুখ, দলে অবদান রাখা প্রয়াত নেতাদের সহধর্মিণী-সন্তান এবং সমাজে বিশেষ অবদান রাখা নারীদেরকে প্রাধান্য দেয়া হবে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৪ মার্চ ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন প্রাপ্তির হিসেবে এবারের সংসদে আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি ৪টি, বিএনপি ১টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি এবং অন্যান্যদের মধ্যে স্বতন্ত্র তিনটি আসনের বিপরীতে একটি আসনে প্রার্থী দিতে পারবে। তবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৬ জন এমপি শপথ নেওয়ার পরই তারা প্রার্থী দিতে পারবে। তার আগে সেই আসনটি স্থগিত থাকবে।

এদিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ১ হাজার ৫১৮ জন দলীয় মনোনয়নের ফরম জমা দিয়েছেন।

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, যেসব জেলা থেকে দশম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছে, সেসব জেলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর বাইরেও দলে ও সমাজে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে অবদান রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা, দলের দুর্দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এবং দলের যারা ত্যাগী নেতা মারা গেছেন তাদের স্ত্রী-সন্তানরাও প্রাধান্য পাবে। তবে মনোনয়নের বিষয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন