সদরঘাটে লঞ্চ বেশি ভোগান্তিও বেশি

ঈদে বাড়ি ফিরতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঢল নামতে শুরু করেছে দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের। শুক্রবার (৯ আগস্ট) সকাল থেকেই যাত্রীরা লঞ্চ টার্মিনালে আসতে শুরু করেছেন। তবে দুপুর গড়াতে না গড়াতেই যাত্রীদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

সরেজমিনে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, বরগুনা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে যাত্রী বোঝাই লঞ্চ। তবে দিনের তুলনায় রাতে বেশি যাত্রী নিয়ে সদরঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে বলে জানান ঘাট কর্মকর্তারা। লঞ্চ বেশি থাকায় যাত্রীদের ওঠানামা করতে অসুবিধা হচ্ছে।

পটুয়াখালীর বাউফলের যাত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সকালে বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তা বেশ ফাঁকাই পেয়েছি। কিন্তু সদরঘাটে লঞ্চ টার্মিনালের আগে প্রচণ্ড যানজট। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সব ধরনের যানবাহন আটকে দিয়েছে পুলিশ। ফলে বাধ্য হয়ে সেখান থেকে স্ত্রী-কন্যাদের নিয়ে হেঁটেই এসেছি। টার্মিনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ঈদে সবাই মিলে একসঙ্গে আনন্দ করব, তাই এত কষ্ট সত্ত্বেও বাড়িতে যাওয়া।’

বরিশালের মো. মোশারফ হোসেন পরিবারসহ টার্মিনালে এসেছেন বেলা ১১টায়। তার লঞ্চ ছাড়বে রাত ৮টার পর। তিনি বলেন, টিকিট পাব কি না এই চিন্তা করেই আগে চলে এসেছি। দেরিতে এসে যদি লঞ্চের টিকিট না পাই কিংবা ভালো কোনো লঞ্চে টিকিট না পাই সেই চিন্তা করেই আগেই পরিবার নিয়ে এসেছি।’

যাত্রীদের থেকে লঞ্চ ভাড়া স্বাভাবিক নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে, কোনো সিন্ডিকেট চক্র নেই বলে জানান যাত্রীরা। তবে লঞ্চ ছাড়ার ক্ষেত্রে শিডিউল বিপর্যয়ের ফলে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে তাদের। পটুয়াখালীর দুমকির জাহাঙ্গীর শিকদার অভিযোগ করে বলেন, তিনি লঞ্চের জন্য সকাল থেকে অপেক্ষা করছিলেন। ছাড়ার কথা ছিল দুপুর ১২টায় কিন্তু পরবর্তীতে সেটি ছেড়ে যায় দুপুর ১টায়।

একই অভিযোগ করেন বরগুনার আবু দানিয়েল মারুফ। তিনি বলেন, ‘বেশি যাত্রী তুলতে অসাধু লঞ্চ মালিকরা এটি করছেন। সময়মতো লঞ্চ ছাড়ছে না। সকাল থেকে দেখছি যে, লঞ্চ যখন ছাড়ার কথা তার অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরে ছাড়ছে। সময়মতো নোঙর করা লঞ্চ না ছাড়ার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা লঞ্চগুলো ঠিকভাবে নোঙর করতে পারছে না। ফলে একটির সঙ্গে অপরটির ধাক্কাধাক্কি হচ্ছে।’

তবে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে কোনো লঞ্চ টিকিট কাউন্টার কিংবা লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) দায়িত্বরত বিএস আব্দুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, মূল টার্মিনালে যাতে ৩১টি লঞ্চ ভিড়তে সেজন্য ১১টি পল্টুন রয়েছে। কিন্তু ঈদে যাত্রী ও লঞ্চের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে কিছুটা এদিক সেদিক হতে পারে। কিন্তু যাত্রী পেতে দেরি করা হচ্ছে-এই অভিযোগ সঠিক নয়।’

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ফকিংয়ের মাধ্যমে মশা নিধন কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।

Leave a Reply