‘৬ লাখ টাকা দেয়ার পরও নিয়োগপত্র ভুয়া’

সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেয়া সোহেল শিকদার (৪৮) নামে প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার ভাষানটেক থানাধীন রূপালী হাউজ ১৬০/সি থেকে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় সোহেলের কাছ থেকে ভুয়া নথি ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রতারণার শিকার মতিঝিল গোপিবাগের বাসিন্দা শিপন প্রতাব (২৪) পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) অফিসে অভিযোগ করেন। চাকরি খোঁজের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রতারক সোহেল শিকদার ও সেলিনা বেগম (৪২) নামে দুজনের সঙ্গে পরিচয় হয় শিপনের। সোহেল নিজেকে এমইএস-এর ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাকরি পেতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

ভুক্তভোগী শিপন প্রতাব এইচএসসি, এসএসসি এবং অন্যান্য কাগজপত্রের মূলকপি সরবরাহ করেন। পরবর্তীতে চাকরি হয়ে গেছে জানিয়ে শিপনের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন তারা। চাকরির আশায় শিপন তার মা, বোন ও ভাবির স্বর্ণের গহনা বিক্রি করে গত ৭ ফেব্রুয়ারি তিন লাখ টাকা দেন।

Sohel-2.jpg

এরপর প্রতারকরা শিপনের হাতে ঢাকা সেনানিবাসের ইইনসি’র শাখা পূর্ত পরিদফতরের অফিস সহকারী পদে একটি নিয়োগপত্র দেয়। এতে যোগদানের জন্য ২৪ ফেব্রুয়ারি উল্লেখ থাকে। শিপন প্রতাব উল্লেখিত তারিখে যোগাযোগ করলে পুনরায় ৯ মার্চ যোগদানের জন্য একই পদে একই অফিসের ভিন্ন একটি নিয়োগপত্র প্রদান করেন। এ বাবদ শিপনের কাছ থেকে আরও তিন লাখ টাকা দাবি করেন সোহেল। শিপন আত্মীয়-স্বজন, পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে ধার করে ৯ মার্চ সেলিনার উপস্থিতিতে ফের তিন লাখ টাকা সোহেলকে দেন।

ওই নিয়োগপত্রে যোগদানের উল্লেখিত তারিখে যোগদান করতে গেলে সিএমএইচ হাসপাতালে মেডিকেল টেস্ট করতে বলে। শিপনের ব্যবহৃত মোবাইলে গত ১৭ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় মেডিকেল টেস্ট করার ম্যাসেজ আসে। ওইদিন সোহেল শিকদার ভুক্তভোগী শিপনকে ক্যান্টনমেন্ট মাটিকাটা চেকপোস্টে রেখে চলে যায়। এভাবে ফের নতুন তারিখের মেডিকেল টেস্ট বাবদ ম্যাসেজ আসে। শিপন প্রতাব প্রতারিত হচ্ছেন বুঝে ৬ লাখ টাকা ও প্রদান করা কাগজপত্র ফেরত চাইলে আত্মগোপন করে সোহেল।

Sohel-2.jpg

অভিযোগ পাওয়ার পর পিবিআই ঢাকা মেট্রোর একটি বিশেষ টিম সোহেল শিকদারকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল জানায়, তার স্ত্রী সেলিনা বেগম ও জনৈক খলিলুর রহমানের সহযোগিতায় শিপন প্রতাব ও দেবাশীষ বিশ্বাস নামে আরেকজনের কাছ থেকে একই কায়দায় ৬ লাখ করে মোট ১২ লাখ আত্মসাৎ করেছে তারা।

এছাড়া অজ্ঞাত আরও কয়েকজন পরস্পর যোগসাজশ করে প্রতারণারমূলকভাবে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে। এরপর মূল কাগজপত্র আটকে রেখে টাকা আদায় ও আত্মসাৎ করে আসছিল। সোহেল শিকদারসহ বাকিদের বিরুদ্ধে মামলা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ।