অপেক্ষার প্রহর গুনছে ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশীরা

গত ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯ তম জাতীয় সম্মেলন শেষ হলেও এখন পর্যন্ত দেখা মেলেনি নতুন নেতৃত্বের। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে কখনো সাত দিনের বেশি সময় নেওয়া হয়নি। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ ব্যাতিক্রম সম্মেলনের পর তিন সপ্তাহ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। কখন কমিটি ঘোষণা হতে পারে তারও কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেনি আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। তাই অপেক্ষার প্রহর গুনছে পদ প্রত্যাশীরা।

২৯ তম সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নিজেই কমিটি গঠন করার ইঙ্গিত দেন। ভোটে নয় সমোঝতার মাধ্যমে গঠন করা হবে নতুন কমিটি। এবং কমিটির নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের প্রভাব থাকছে না তাও স্পষ্ট হয় তার বক্তব্যে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম তাদের সূত্র উল্লেখ করে বলছে, অধিকতর যোগ্য প্রার্থীকে খুঁজে বের কারতেই প্রধানমন্ত্রী সময় নিচ্ছেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সব কাজের ব্যস্ততায় তিনি সময় বের করতে পারছেন না। আর ছাত্রলীগ নিয়ে তিনি এবার অন্য কারও ওপর আর ভরসা রাখতে চান না। ছাত্রলীগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণও প্রায় শেষের দিকে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর শেষে করে দেশে এসেছেন। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই কমিটি ঘোষণা হবে। বিলম্ব হলেও রোজার ঈদের আগেই কমিটি ঘোষণা করবেন শেখ হাসিনা।

২৯ তম জাতীয় সম্মেলনে সভাপতি পদের জন্য ১১১ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ২১২ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।

নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আগেই পদপ্রত্যাশী কিছু ছাত্রলীগ নেতার নামে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ বিবাহিত, মাদক ব্যবসায়ী অথবা ছাত্রত্ব নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রায় ৪০ জনের সাথে বিএনপি ও জামাত-শিবিরের সম্পৃক্ততা আছে বলে জানা গেছে।

সম্মেলন শেষ হওয়ার পরপরই সিন্ডিকেট বিরোধী সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা চিটাগাং ও কুড়িগ্রামের দুজন পদপ্রত্যাশীকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হবেন বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের মধ্যে একজন গত বছরের ৭ জুলাই মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন।

নতুন কমিটি ঘোষণা ও সংগঠনটির বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ‘আমরা পদপ্রত্যাশীদের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর নিকট জমা দিয়েছি। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ব্যাপারটি প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেখছেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত নতুন কমিটি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবো।’

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here