আজ রাজপথে ফুল ছিটানোর কথা, ঝরল রক্ত

0
4

আমার কাগজ প্রতিবেদক :
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে প্রতিবাদী মিছিলে হামলার ঘটনাকে নির্মম, ন্যক্কারজনক ও অমানবিক উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, হামলায় গুলিতে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। স্বাধীনতা দিবসের মতো উৎসব ও আনন্দের দিনে রাজপথে ফুল ছিটানোর কথা থাকলেও সেখানে রাজপথে রক্ত ঝরানো হলো।

শুক্রবার (২৬ মার্চ) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজ ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সাধারণ মুসুল্লিদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণ ও বেধড়ক লাঠিচার্জের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার সাধারণ ছাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে মিছিল বের করলে পুলিশ শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর বেপরোয়া গুলি চালিয়ে এ পর্যন্ত চার জনকে হত্যা ও অসংখ্য ছাত্রকে গুরুতর আহত করে। এর প্রতিবাদে সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবাদরত মানুষদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে এক জনকে হত্যা ও অসংখ্য মানুষকে আহত করা হয়। এ ধরনের নির্মম, ন্যক্কারজনক ও অমানবিক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় উৎসবের দিনে বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের যৌথ হামলা এবং হত্যার ঘটনা বর্তমান সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের আরও একটি জঘন্য দৃষ্টান্ত। হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনীর নির্মম হামলায় এ পর্যন্ত পাঁচ জনের প্রাণ গেছে, অসংখ্য গুরুতর আহত হয়েছে।

স্বাধীনতা দিবসের মতো উৎসব ও আনন্দের দিনে রাজপথে ফুল ছিটানোর কথা বলে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সেখানে রাজপথে রক্ত ঝরানো হলো। এই নির্মম ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।

স্বাধীন দেশে যেকোনো কর্মসূচি পালন করার বা স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার অধিকার সব নাগরিকের আছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মুহূর্তে বলতে হচ্ছে, স্বাধীন দেশে জনগণ আজ যেন পরাধীন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে রক্তের নিষ্ঠুর হোলিখেলা চলছে। বিরোধী দল-বিরুদ্ধ মতের সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশ এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত নির্যাতন এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আওয়ামী সরকার যেন জনগণের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ চালাচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় ও দলীয় ভয়াবহ সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত রেখে রাষ্ট্রক্ষমতা ধরে রাখতে দেশ যেন এখন গুম, খুন, অপহরণ ও নির্যাতন-নিপীড়নের ভয়াল উপত্যকায় পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, এসব অপকর্মের জবাব দেওয়ার জন্য আওয়ামী ভোটারবিহীন সরকারকে অবশ্যই এক দিন জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। জনগণ এই বর্বর আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হেফাজতের মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- রবিউল ইসলাম (২৩), মেরাজুল ইসলাম (২২) মিরাজুল ইসলাম, জামিল (২০) ও মিজান (৪০)।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

আহতদের মধ্যে ইব্রাহিম খলিল (২৫), ইমরান হোসেন (২৪), ইমাম উদ্দিন (২২), বেলাল হোসেন (২২) ও সাইফুল ইসলাম (২৪) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তবে তাদের নাম জানা যায়নি।

এএসআই আলাউদ্দিন জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন মাদরাসাছাত্র ও একজন স্থানীয় দর্জির দোকানে কাজ করতেন।

মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে মাদরাসাছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলার খবরে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়াও। শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা সদরের বিভিন্নস্থানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধরা। বিক্ষোভের ঘটনায় আশিক (২০) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার মৃত্যু হয়। নিহত আশিক জেলা শহরের দাতিয়ারা এলাকার সাগর মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে বিক্ষুব্ধ মাদরাসাছাত্ররা জেলা শহরের কাউতলি এলাকায় পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং ২নং পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা করে। এ সময় পুলিশ শটগানের গুলি ছুড়ে। এ ঘটনায় আশিক এবং পুলিশ পরিদর্শক নূরে আলমসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আশিককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশ পরিদর্শক নূরে আলমকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই তরুণের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এটি গুলির কিনা সেটি স্পষ্ট নয় বলে জানান তিনি।

এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশে আসার প্রতিবাদে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ যাত্রাবাড়ীর আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেও বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায়  বিষয়টি নিশ্চিত করেন যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম কাজল। তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী মাদরাসার সামনে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করেন। ফলে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর ঘিরে এর প্রতিবাদে নেমে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ইসলামী দলগুলোর নেতাকর্মীরা। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে হওয়া এ সংঘর্ষে আহত হন অর্ধশতাধিক। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।

আহতদের বেশিরভাগই স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মী। এছাড়া হেফাজতে ইসলামের কয়েকজন নেতাকর্মীও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। সংঘর্ষে আটজন সাংবাদিকও আহত হন বলে জানা গেছে।

 

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here