উড়ন্ত গাড়ির জন্য এয়ারপোর্ট নির্মাণ করছে যুক্তরাজ্য

0
13

সেদিন বেশি দূরে নয় যখন আমরা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর সিনেমাগুলোর মতো উড়ন্ত গাড়ির চরে বেড়ানো দেখতে পাবো। তবে এই সমস্ত ‘ইভিটিওএল’ যানবাহনের (বৈদ্যুতিক বাহন উড্ডয়ন ও অবতরণ) উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য জায়গা প্রয়োজন। যুক্তরাজ্য সরকার ইতমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আরবান এয়ার পোর্ট’ নামে একটি সংস্থাকে সমর্থন দিচ্ছে। এ সংস্থাটি দেশটিতে তাদের প্রথম তথাকথিত আরবান এয়ারপোর্ট খুলতে চায়। মূলত এটি এমন একটি জায়গা যেখানে মানবচালিত এবং সংক্রিয় উভয় প্রকারের বৈদ্যুতিক যান চলাচল করতে সক্ষম হবে। ‘আরবান এয়ারপোর্ট’ ধারণার পিছনে থাকা সংস্থাটির বিশ্বজুড়ে ২০০টির মতো পোর্ট নির্মানের পরিকল্পনা রয়েছে।

হুন্ডাইয়ের আরবান এয়ার মবিলিটি বিভাগও ইভিটিওএল যানবাহন তৈরির নিজস্ব লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্পের অংশ হয়েছে। বিশ্বাস করুন বা না করুন, এই বিভাগের মাধ্যমে হুন্ডাই ২০২৮ সালের প্রথম দিকে এই জাতীয় যানবাহন বাজারে আনতে চায়।

আরবান এয়ার পোর্টের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান রিকি সান্ধু সংস্থাটির উচ্চাভিলাষের প্রতি দৃষ্টিপাত করে বলেছেন, গাড়ি চলার জন্য রাস্তা প্রয়োজন। ট্রেনের জন্য দরকার রেলপথ। বিমানের বিমানবন্দর দরকার। ইভিটিওএলগুলির প্রয়োজন হবে আরবান এয়ার পোর্টগুলি। তিনি বলেন, একশ বছর আগে, প্রথম বাণিজ্যিক বিমান যাত্রা শুরু করেছিল। এর ফলে আধুনিক সংযুক্ত বিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে। আরবান এয়ার পোর্টও আমাদের শহরগুলির সঙ্গে যোগাযোগকে আরো উন্নত করবে, উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে তুলবে এবং যুক্তরাজ্যকে বিশ্বব্যাপী সম্পূর্ন নতুন অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিতে সহায়তা করবে।

যুক্তরাজ্যে প্রথম পোর্টটির জন্য ইতমধ্যে যায়গা বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি কোভেন্ট্রিতে (২০২০ সালে বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য যুক্তরাজ্যের সেরা শহর হিসাবে পরিচিত) নির্মাণ করা হবে। এবং প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এটির নির্মাণ কাজ এ বছরের শেষদিকে শেষ হবে।

আরবান এয়ার বন্দর প্রকল্পকে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের ফিউচার ফ্লাইট চ্যালেঞ্জ মোকবিলায় ১২লাখ ইউরো অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিল্প কৌশল চ্যালেঞ্জ তহবিল থেকে এই শিল্পটিকে ১২৫ মিলিয়ন ইউরো অর্থায়ন করা হয়েছে। এবং শিল্প প্রকল্পের অর্থ ১৭৫ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নির্মাণ শেষ হলে, যুক্তরাজ্যের ম্যালোই অ্যারোনটিক্স নির্মিত বড় কার্গো ড্রোনগুলির ডকিং প্ল্যাটফর্ম হিসাবে এটি প্রথম ব্যবহার করা হবে। ম্যালোই অ্যারোনটিকসের সিইও ওরিওল বদিয়ার মতে, এটি ম্যালোই-য়ের মূল লক্ষের একটি। শহরের পরিবেশে মনুষ্যবিহীন এয়ার লজিস্টিকগুলিকে পরিচিত করা এবং এটির অবকাঠামোতে নমনীয় এবং স্থিতিস্থাপক, বুদ্ধিমান অপারেটিং সিস্টেম এবং শিল্প উদ্ভাবনে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা তাদের লক্ষ। এয়ার ওয়ান ভবিষ্যতের একাধিক পরিবহণ প্রয়োজনীয়তা সরবরাহের সক্ষমতা রাখে বলে মনেকরেন তিনি। তিনি আরো বলেন, দুর্যোগের সময় ত্রাণ থেকে শুরু করে ইউকে জুড়ে নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় এবং দৈনন্দিন সেবা সরবরাহ করতে সক্ষম হবে এটি।

তিনি আরো বলেন, এখন এই সব এটি বড় চুক্তির মতো নাও লাগতে পারে (কারণ এটি এখনকার জন্য কেবল একটি পোর্ট হতে চলেছে), তবে প্রথম কার্গো ড্রোন যখন সাফল্যের সঙ্গে এয়ার ওয়ান ব্যবহার করবে তখন পের্টিটির আসল উপযোগ জানা যাবে। এটি সত্যই ঐতিহাসিক হবে ও একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। এ যুগে শুধু পণ্য বহনে নয়, রাস্তাঘাটের প্রয়োজন ছাড়াই মানুষও পরিবহন করতে সক্ষম হবে।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here