এবার ১৫ দফা দাবিতে তিন বিভাগে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট

১৫ দফা দাবি আদায়ে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা দেশের এই তিন বিভাগের সব জেলায় এবং বৃহত্তর ফরিদপুরের কয়েক জেলায় আজ (১ ডিসেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট (কর্মবিরতি) শুরু করেছে পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এ কারণে এসব জেলার সব পেট্রলপাম্পে সকাল ৬টা থেকে বন্ধ রয়েছে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি।

এদিকে ধর্মঘটের ফলে তেল উত্তোলন করতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। এ সময় ট্যাংকলরিগুলোকে ডিপো ও বিভিন্ন পেট্রলপাম্পের সামনে অলসভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে শনিবার বেশিরভাগ পাম্পে গ্রাহকদের অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করতে দেখা গেছে।

আন্দোলনকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক অমীমাংসিত দাবিসমূহ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা টালবাহানা করছে। বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। ফিলিং স্টেশন তথা জ্বালানি ব্যবসায়ীদের ওপর অযথা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন দফতর থেকে বিভিন্ন ধরনের বিধান। যা মেনে নিয়ে জ্বালানি ব্যবসা করা আদৌ সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে জ্বালানি ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন।

ধর্মঘটের বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর জেলা পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু বলেন, সরকার ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে না নেয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তে ১৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজ সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ডিলার ডিস্ট্রিবিউটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম-মহাসচিব ও খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে সাত শতাংশ প্রদান, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিষয়টি সুনির্দিষ্টকরণ, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের ৫ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রথা প্রণয়ন, ট্যাংকলরির ভাড়া বৃদ্ধি, পেট্রলপাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রলপাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদফতরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রলপাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট, জেনারেল স্ট্রোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রলপাম্পের প্রবেশদ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতীত অন্য দফতর বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ৫ বছর অন্তর বাধ্যতামূলক ক্যালিব্রেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল, ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, সুনির্দিষ্ট দফতর ব্যতীত সরকারি অন্যান্য দাফতরিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিলার বা এজেন্টদেরকে অযথা হয়রানি বন্ধ, নতুন কোনো পেট্রলপাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানি তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু, পেট্রলপাম্পের পাশে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণের পূর্বে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক ও বিভিন্ন জেলায় ট্যাংকলরি থেকে জোরপূর্বক পৌরসভার চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করা। এই ১৫টি দাবিতে আমরা ধর্মঘট পালন করছি।

তেল পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুরাদ হোসেন বলেন, কর্মবিরতি চলাকালে খুলনার পদ্মা, মেঘনা, যমুনা তেল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ রয়েছে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের কয়েক জেলায় চলছে না ট্যাংকলরির চাকা। একই সঙ্গে পেট্রলপাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

এর আগে গত ২৬ নভেম্বর দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব এবং পেট্রলপাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রতন এ আলটিমেটাম দেন।

এরপর শনিবার (৩০ নভেম্বর) খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় কর্মসূচি সফলের আহ্বান জানানো হয়।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here