এমপি পাপুল সম্পর্কে তদন্ত চলছে : সিআইডি

মানবপাচারের দায়ে কুয়েতে গ্রেফতার বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. শহিদ ইসলাম পাপুলের ব্যাপারে ধৈর্য ধরতে বলেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান বলা হলেও এখনই কিছু বলতে রাজি নন সংস্থাটির কর্তাব্যক্তিরা।

পাশাপাশি লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় তিন মূলহোতাকে শনাক্ত করেছে সিআইডি। তাদের ধনসম্পদেরও খোঁজ নেয়া হচ্ছে। শিগগিরই তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। আপাতত তাদের নাম তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করছে না সিআইডি।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মানবপাচারসহ সিআইডির সামগ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান ও সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ।

কুয়েতে মানবপাচারের দায়ে গ্রেফতার এমপি মো. শহিদ ইসলাম পাপুলের বিষয়ে কুয়েতে তদন্ত চলছে। যে অভিযোগ কুয়েত সরকার তুলেছে, তা ভিত্তিহীন কিনা- জানতে চাইলে সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আমরা বলব, ধৈর্য ধরুন।

তার সম্পর্কে সিআইডি কী ব্যবস্থা নিয়েছে? জানতে চাইলে অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। এছাড়াও এটি আন্তর্জাতিক একটি ইস্যু হওয়ায় অনেক বিষয়ে বিবেচনা করেই কাজ করতে হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ বিষয়ে জানাতে পারব।

ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, লিবিয়ায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত গডফাদাররা নজরদারিতে রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদেরও নজরদারিতে রেখেছে সিআইডি।

তিনি বলেন, মানবপাচারকারীদের বিষয়ে সরকারের দুটি মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আমরা দুটি তালিকা পেয়েছি। এছাড়াও পাচার হওয়া ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার ও বিভিন্ন দেশের অ্যাম্বাসি থেকে অনেক নাম পাওয়া গেছে। তাদেরও আমরা নজরদারিতে রেখেছি।

সিআইডির প্রধান বলেন, লিবিয়ার মানবপাচারের ঘটনায় ২৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১১ জন। এ ঘটনায় জড়িত গডফাদারদের তিনজনের সম্পর্কে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই আমরা কিছু বলতে চাচ্ছি না।

মানবপাচারকারী যারা আটক হয়েছে তাদের কাছ থেকেও আমরা অনেক নাম পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়াও আমরা মানবপাচারকারী চক্রের গডফাদারদের বিষয়ে বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান করছি। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে অবশ্যই সামনে নিয়ে আসব।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা মানিলন্ডারিংয়ের মামলার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছি। প্রথমে প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান করতে হয় এরপর যে তথ্য পাওয়া যাবে তার ভিত্তিতে মামলা হয়। এবং সেই মামলার তদন্ত সিআইডি করে থাকে। এখন পর্যন্ত আমরা তিনজন ব্যক্তির ফাইল অপেন করেছি। তাদের বিষয় তদন্ত চলছে।

মাহবুবুর রহমান জানান, সিআইডির তদন্তকে আরও গতিশীল করার কাজ চলছে। আগে ষাট বা সত্তর শতাংশ ক্ষেত্রে মৌখিক স্বীকারোক্তির ওপর সিআইডি নির্ভর করতে, এখন ষাট থেকে সত্তর শতাংশ ফরেনসিক সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা চলছে।

সিআইডি প্রধান বলেন, বিভাগটি ২২ ধরনের মামলা তদন্ত করে থাকে। ৮২ ভাগ ক্ষেত্রে তারা অভিযোগপত্র দিয়েছে, তবে সাজা হয়েছে ২৪ ভাগ ক্ষেত্রে।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন শাস্তির হার কম জানতে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। বিচারক, আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত কমিটি মাসখানেকের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here