কেরু’জ স্যানিটাইজারঃ প্রশংসনীয় উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতেই এমডিকে বদলির পাঁয়তারা

0
43

তোফায়েল হোসন :

বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চাহিদা বেড়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের। এই চাহিদা মেটাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন শুরু করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দেশের একমাত্র ডিস্টিলারি কেরু এন্ড কোং (বাংলাদেশ) লিমিটেড। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘কেরু’জ হ্যান্ড স্যানিটাইজার’ নামে সুলভ মূল্যের এই স্যানিটাইজার বাজারজাত করে প্রশংসিত হয়েছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। তবে একই সঙ্গে প্রশংসনীয় এই উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাকে তড়িঘড়ি বদলির উদ্যোগে এ আশংকা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, করোনার ভয়াবহ প্রভাবে দেশে এক সংকটময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে করোনা প্রতিরোধে সব ধরনের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হলেও দেশে সংকট তৈরি হয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের। সুযোগ বুঝে বেশ কিছু কোম্পানিও দাম হাঁকিয়ে বসেছে কয়েকগুণ। এই পরিস্থিতিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন ও বিপণন শুরু করেছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাহিদ আলী আনছারীর কঠোর নজরদারি ও তত্ত¡াবধানে দ্রæততম সময়ের মধ্যে এটির বাজারজাতও শুরু হয়। এ হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ জীবাণু নষ্ট হবে বলে দাবি করেছেন কেরুর রসায়নবিদরা। কেরু’জ হ্যান্ড স্যানিটাইজার’ নামে এ পণ্য বাজারেও সাড়া ফেলে। বাজারের অন্যান্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের তুলনায় অনেক উন্নত ও কার্যকর হওয়ায় শুরুতে এর চাহিদাও অনেক বাড়তি। প্রতিটি ১০০ এমএল বোতলের পাইকারী মূল্য ৫০ টাকা ও খুচরা মূল্য ৬০ টাকা রাখা হয়েছে। আর ১৮০ এমএল বোতলের পাইকারী মূল্য ৯০ টাকা ও খুচরা মূল্য ১০০ টাকা রাখা হয়েছে। অথচ বাজারে স্কয়ারের ৪০ এমএল সেফনিল হ্যান্ড স্যানিটাইজার ৮০ টাকা এবং ডেটল ৫০ এমএল হ্যান্ড স্যানিটাইজার ১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। সংকটকালে এ মূল্যেও স্যানিটাইজার মিলছে না।

গত ২৩ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ স্যানিটাইজারের বিপণন শুরু হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম দিকে ৪০-৫০ কার্টন (প্রতি কার্টনে ১০০ বোতল) উৎপাদন করা হয়েছে। তবে রোববার (২৯ মার্চ) থেকে ১০০ কার্টন উৎপাদন শুরু হয়েছে। শিগগিরই এটি আরো বাড়ানো হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই উদ্যোগে প্রশংসার জোয়ারে ভেসেছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। খোদ শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল হালিম এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান সনৎ কুমার সাহা এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে গণমাধ্যমে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। অথচ উৎপাদিত স্যানিটাইজার বিপণন শুরুর পরের দিনই তড়িঘড়ি করে বদলি করা হয় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ আলী আনছারীকে। গত ২৪ মার্চ বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চিফ অব পার্সোনেল মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অবসর গমনের সুবিধার্থে কেরুর এমডি জাহিদ আলী আনছারীকে সদর দপ্তরের ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা পরিদপ্তরে সংযুক্তির কথা বলা হয়।

অভিযোগ ওঠেছে, স্যানিটাইজার উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করতেই এমডি কে বদলির তড়িঘড়ি আদেশ জারি হয়। বিএসএফআইসি’র একটি প্রভাবশালী দুষ্টচক্র এ অপতৎপরতায় লিপ্ত। তবে শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিমের দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্তে সেই অপচেষ্টায় ছেদ পড়েছে। শিল্প সচিবের মৌখিক আদেশে বিতর্কিত বদলি আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here