কড়াকড়িতে নীলফামারীতে বেড়েছে মাস্কের দাম

0
73

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী:

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে জনসাধারণের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সব সরকারি-আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রহণ করা হয়েছে ‘নো-মাস্ক নো-সার্ভিস’ পলিসি। মানুষকে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি পালনে বাধ্য করতে নীলফামারীতে গত সপ্তাহ হতে অভিযান শুরু করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাস্ক না পরলে করা হচ্ছে জরিমানাও। এতে বাজারে মাস্কের চাহিদা ও বিক্রি দুটোই বেড়ে গেছে। এ সুযোগে সব ধরনের মাস্কের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এছাড়া বেড়েছে হ্যান্ডস্যানেটাইজারের দাম। জেলার বিভিন্ন ওষুধের দোকান ও ফার্মেসিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাঝে কিছুদিন মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ করোনা প্রতিরোধ সামগ্রীর বিক্রি কমে গেলেও স¤প্রতি তা আবার বেড়েছে। এসব পণ্যের সরবরাহেও ঘাটতি নেই। কিন্তু তবু কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে বেড়ে গেছে মাস্কের দাম। কেন দাম বাড়ছে- এমন প্রশ্নের কোনো যৌক্তিক জবাবও দিতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। কিছু দোকানে আগের দামে পাওয়া গেলেও বেশির ভাগ দোকানে বেশি দামে মাস্ক বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও সার্জিক্যাল মাস্ক ও সাধারণ ডিসপোজিবল মাস্কের দাম বক্স প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হচ্ছে।
বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি পিস সার্জিক্যাল মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। অথচ কয়দিন আগেও ১০ টাকায় পাওয়া গেছে ৩টি মাস্ক। আগে ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাপড়ের মাস্কের দামও এখন ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ফিল্টার মাস্ক এখন আর ততটা পাওয়া যায় না। সেটার দামও পিসপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। আগে ২০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। এ ছাড়া কেএন-৯৫ মাস্কের দাম ২০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। এন-৯৫ মাস্কের দাম ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় মিলছে এ মাস্ক। অন্যদিকে পাইকারী পঞ্চাশটির এক প্যাকেট সার্জিক্যাল মাস্ক ৭০ টাকা, এবং দশটির এন-৯৫ মাস্কের প্যাকেট ২২৫ টাকা পাইকারি ক্রয় মূল্য ছিল। বর্তমানে সার্জিক্যাল মাস্ক ১২৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা এবং এন-৯৫ মাস্ক ২৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন। নীলফামারী সদর হাসপাতালের সামনে পাইকারি ও খুচরা মাস্ক বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা স্বীকার করেন মাস্কের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে করোনা থেকে বাঁচার অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রীর দাম পূর্বের মতোই রয়েছে বলেও দাবী করেন তারা।
মাস্কের দাম বেশি কেন জানতে চাইলে নীলফামারী আদালত ভবনের সামনে মাস্কের পসরা সাজিয়ে বসা সাজিদ হোসেন বলেন, সরকার মাস্ক পরার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। তাই এখন মাস্কের চাহিদা বাড়ায় দাম আগের চেয়ে বেড়েছে।
মাস্ক কিনতে আসা ক্রেতাদের দাবি, করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে কেউ যেন অবৈধ সুযোগ গ্রহণ না করতে পারে এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া উচিত। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় ফার্মেসিতে মাস্ক কিনতে আসা শাহনাজ পারভীনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী যেদিন থেকে সবাইকে মাস্ক পরতে বলছেন, সেদিন থেকেই অসাধু ব্যবসায়ীরা মাস্কের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে নীলফামারী জেলার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, যে সব অসাধু ব্যবসায়ীরা মাস্ক এর বাড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here