জরুরি অবস্থার মধ্যেও থাইল্যান্ডে বিক্ষোভ অব্যাহত

0
4

জরুরি অবস্থা অমান্য করে থাইল্যান্ডের রাস্তায় বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন হাজার হাজার মানুষ। বৃহস্পতিবার রাতেও দেশটির রাজধানী ব্যাংককে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমবেত হয়েছিলেন তারা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন একই জায়গায় সমবেত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংস্কারপন্থীরা।

বিক্ষোভকারীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে থাই রাজা মহা ভাজিলংকর্নের ক্ষমতা কমানো এবং প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচার পদত্যাগ।

বিক্ষোভকারীদের এক নেতা বলেন, কুকুর চিপায় পড়ার মতো আমরাও মৃত্যুর আগপর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব। আমরা পিছু হটব না, দৌঁড়ে পালাব না। আমরা কোথাও যাচ্ছি না।

সরকারি আদেশ অমান্য করেও রাস্তায় এত মানুষের বিক্ষোভ আশ্চর্যজনক কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন থাম্মাসাত বিজনেস স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক পাভিদা পানানন্দ। তিনি বলেন, মানুষের মনোভাব উত্তপ্ত। এই বিক্ষোভ ব্যাংককের মানুষদের রাগ ও হতাশার গভীরতা দেখিয়ে দিয়েছে। তারা এখন জরুরি অবস্থাকেও ভয় পাচ্ছে না।

প্রায় তিন মাসব্যাপী চলমান বিক্ষোভ দমনে গত বৃহস্পতিবার জরুরি অবস্থা জারি করে থাই সরকার। এ পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াই যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে নিরাপত্তাবাহিনী। প্রয়োজনে যেকোনও ধরনের ইলেক্ট্রিক সরঞ্জাম জব্দ করা যাবে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বার্তা আদান-প্রদানও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জরুরি অবস্থা জারির পরপরই সরকারি ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এসময় আটক করা হয় অন্তত ২০ জনকে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভ থেকে আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেয়ার দাবি জানানো হয়। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- থাই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন, সামরিক সরকারের লেখা সংবিধান সংশোধন, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ এবং রাজশাসন সংস্কার।

তবে বিক্ষোভ দমনে শুরু থেকেই বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ডের সরকার। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে এবং জনগণের শান্তি নষ্ট করছে। এই পরিস্থিতিতে কার্যকর ও তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক হয়ে পড়েছে।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here