টেস্টে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই: মুমিনুল

0
7

ক্রীড়া ডেস্ক:

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভালো করলেও লংগার ভার্সনে প্রায়ই বাজে অবস্থার সম্মুখীন হতে হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। তাই টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির জন্য কিছু ছোট ছোট পরিকল্পনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। অধিকাংশ ক্রিকেট জাতির ন্যায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পরিবর্তে কোনো সুনির্দিষ্ট সিরিজ নিয়েই পরিকল্পনা করতে চায় টাইগাররা।

তবে সিরিজ বাই সিরিজ পরিকল্পনায় বাংলাদেশ বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে বলে জানিয়েছেন টাইগার দলের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। তার বিশ্বাস এই পরিকল্পনাই খেলোয়াড়দের সুনির্দিষ্ট বিষয়ে মনোনিবেশ করার সুযোগ করে দেয়।

এই বছর আটটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু কোভিড-১৯ ভাইরাস মাহামারী আকার ধারণ তা অনেকটাই ভেস্তে গেছে।

এক সাক্ষাৎকারে মুমিনুল হক বলেছেন, ‘আমাদের দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং সিরিজ বাই সিরিজ পরিকল্পনা রয়েছে। যা আমাদের খেলোয়াড়দেরকে একই সময় একটি বিষয়ে মনোযোগী থাকার সুযোগ করে দেবে বলে আমরা মনে করি। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় আপনাকে সামগ্রিক বিষয়ে চিন্তা করার স্বাধীনতা দেবে। তবে আমরা এখনো সুনির্দিষ্ট ছোট ছোট বিষয়ে মনোযোগী থাকার পরিকল্পনা করছি। যা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই। আমরা জানি, টেস্টে আমরা খুব ভালো নই। তবে আমরা এটিও জানি যে আমাদের মধ্যে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সিরিজ বাই সিরিজ এগুনোই বরং ভালো।’

বাংলাদেশ দলের টেস্ট বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত মুমিনুল বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস ফেরাতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়টি খুবই দরকার ছিল। পাকিস্তান ও ভারতের কাছে হেরে আমাদের আত্মবিশ্বাসে ভাটা পড়েছিল। এটি ঠিক যে অধিানয়ক হিসেবে আমার শুরুটা ভালো হয়নি। তবে আমি মনে করি, এটি একটি আশীর্বাদ। প্রথম সুযোগেই নিজেদের ঘাটতি কোথায় রয়েছে সেটি বুঝে নেয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে।’

মুমিনুল বলেন, ‘ওই বড় পরাজয়ের পর আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমরা নিজেদের ঘাটতি খুঁজে নিয়ে তা পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা বেশ ভালভাবেই সেটি পুষিয়ে নিয়েছি। যার ফলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে আমরা খুব ভাল করেছি। এটি একটি ভালো দিক। আমরা পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টেস্টের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। কারণ সেখানেই নিজেদের সঠিকভাবে জানার সুযোগ ছিল। বুঝতে পারতাম আমরা সঠিক পথে আছে কিনা।’

কোভিড-১৯ এর সংক্রমণে অনেকগুলো টেস্ট স্থগিত হয়ে যাওয়ায় হতাশ মুমিনুল। তবে আশা করছেন ম্যাচগুলো খেলার উপায় বের করে দিবে আইসিসি। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘এটি সত্যিই হতাশার। তবে আমাদের কি-ই বা করার আছে? আশা করি অচিরেই বিদায় নিবে এই ভাইরাস। আর আমরা ক্রিকেটে ফিরে আসব। এক বছরে বাংলাদেশ খুব কম টেস্টই খেলার সুযোগ পেয়ে থাকে। আশা করি, আইসিসি আমাদের টেস্টগুলো পুনরায় খেলার সুযোগ করে দিবে। কারণ ওই টেস্টগুলো ছিল আইসসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আওতাধীন ম্যাচ। যদিও জানি, ব্যস্ত এই সূচির মধ্যে এমন সময় বের করে আনা কঠিন। তারপরও আমি আশাবাদী।’

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here