ড্রেসকোডের নামে হাসপাতালে হিজাব নিষিদ্ধ! পরিচালকের পদত্যাগ

0
18

রংপুর প্রতিনিধিঃ

রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত ২৩ সেপ্টেম্বর ড্রেসকোডের নামে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মেয়েদের হিজাব, বোরকা ও শাড়ির ওড়না পরাকে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে। কর্তৃপক্ষের এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কারণে হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফিকুল ইসলাম পদত্যাগ করেন।

রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে, তার প্রতিষ্ঠানে বোরকা কিংবা হিজাবকে নিষিদ্ধ করে। তবে পরের দিন আরেক অফিস আদেশে বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হয়।

পরিচালক ডা. রফিকুল ইসলামের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে দিয়ে বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধের আদেশ জারি করা হয়েছিল। এ নিয়ে মেডিকেল কলেজের মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে কর্তৃপক্ষ ডাক্তারের সঙ্গে অসদাচরণ করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অন্যায় আচরণে কারণে পরিচালক ডা. রফিকুল ইসলাম পদত্যাগ করেন।

জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘ড্রেসকোড সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি’র নামে একটি নোটিশ জারি করে। এতে ছেলেদের ক্ষেত্রে হাফ শার্ট, গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, জিন্স প্যান্ট, সেন্ডেল ও ময়লাযুক্ত/তিলা পরা পোশাক এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে বোরকা, হিজাব, শাড়ির ওড়না, প্লাজু, স্কাট পরিধান করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়।

মেয়েদের হিজাব বোরকা ও ওড়না নিষিদ্ধ করায় বিতর্কিত এ ড্রেসকোডের বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। আর তাতে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশেষত মেয়েদের বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধের ব্যাপারটি মেনে নিতে পারেননি খোদ হাসপাতালের পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম নিজেই।

পরে হাসপাতাল কর্তপক্ষের কাছে এক আবেদনে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি চান পরিচালক ডা. রফিকুল ইসলাম। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন-

অব্যাহতি পত্রে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন-
‘গত ২৪/০৯/১৯ইং তারিখে চেয়ারম্যান মহোদয় স্বাক্ষরিত প্রধান কার্যালয় ঢাকা থেকে অত্র হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ড্রেসকোড সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি আমার অজান্তে বাস্তবায়নের জন্য আদিষ্ট হলে আমি বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করি।’

‘ওই বিজ্ঞপ্তিটি জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। এতে আমি ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হই। বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত দেয়। যা আমি একজন মুসলিম হিসেবে মেনে নিতে পারছি না।’