তিন বিভাগে চলছে দ্বিতীয় দিনে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট

কমিশন বৃদ্ধি ও পেট্রোল পাম্প স্থাপনে পরিবেশ অধিদপ্তর ও কলকারখানা পরিদর্শন প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেয়া বাতিলসহ ১৫ দফা দাবিতে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট চলছে।

এদিকে, ধর্মঘটের বিষয়ে আজ সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকায় পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও তিনটি তেল ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠকের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাম্প মালিকদের সংগঠন পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম কাবুল। ওই সভার ওপরই ধর্মঘটের বিষয়ে পরবর্র্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে রবিবার সকাল ৬টা থেকে ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিসহ জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা এ কর্মবিরতি শুরু করে। পাশাপাশি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর শ্রমিকরা তেল উত্তোলন, বিপণন ও সরবরাহ বন্ধ রাখায় ২৬ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। এতে যানবাহন চলাচলে ব্যহত হচ্ছে।

তেল পরিবশেকদের সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবিসমূহ নিয়ে কর্তৃপক্ষ তালবাহানা করছে। বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। ফিলিং স্টেশন তথা জ্বালানি ব্যবসায়ীদের ওপর অযথা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন দপ্তর থেকে বিভিন্ন ধরনের বিধান। যা মেনে নিয়ে জ্বালানি ব্যবসা করা আদৌ সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে জ্বালানি ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন।

সূত্র আরো জানায়, আজকের মধ্যে বিষয়টির সুরাহা না হলে আগামীকাল থেকে সংকট প্রকট আকার ধারণ করবে।

এর আগে গত ২৬ নভেম্বর দুপুরে জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন এবং ট্যাংকলরি ভাড়া বাড়ানোসহ ১৫ দফা দাবি আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান রতন। দাবিগুলো হলো- জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ করা, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান-বিষয়টি সুনির্দিষ্টকরণ, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের পাঁচ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রথা প্রণয়ন, ট্যাংকলরির ভাড়া বাড়ানো, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট, জেনারেল স্টোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশ দ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতিত অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) কর্তৃক আন্ডার গ্রাউন্ড ট্যাংক পাঁচ বছর অন্তর বাধ্যতামূলক ক্যালিব্রেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল, ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশী হয়রানি বন্ধ, সুনির্দিষ্ট দপ্তর ব্যতিত সরকারি অন্যান্য দাপ্তরিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিলার বা এজেন্টদের অযথা হয়রানি বন্ধ, নতুন কোনো পেট্রোল পাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানি তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু, পেট্রোল পাম্পের পাশে যেকোন স্থাপনা নির্মাণের পূর্বে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক ও বিভিন্ন জেলায় ট্যাংকলরি থেকে জোরপূর্বক পৌরসভার চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করা।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here