তিস্তার গর্জন অব্যাহত, সতর্ক সংকেত জারি

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী

0
4

গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও ভারতের উজানের পাহাড়ী ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা আবারো গর্জন শুরু করেছে। গত শুক্রবার সকালে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৮ সে.মি উপর দিয়ে প্রভাহিত হওয়া শুরু হয়। ওই প্রবাহ গতকাল শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে এর আগের দিন শুক্রবার সকালে বিপদসীমার ২০ সে:মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ওই দিন বেলা বাড়ার সাথে ২ সে:মি নিচে নেমে যায়। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের বৃহত্তম ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪ টি গেটেরই জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান হলুদ সংকেতের মাধ্যমে নদীপারের লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সূত্র হতে জানা যায়, ওই পয়েন্টের অববাহিকায় গত ৪৮ ঘন্টায় ২৪০ মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ওই পয়েন্টে পানি প্রবাহের বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৬০ মিটার। গত বৃহস্পতিবার বিপদসীমার ৫ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও শুক্রাবার মাত্র ১২ ঘন্টার ব্যবধানে ৪৫ সে.মি বৃদ্ধি তা বিপদসীমার ২০ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কিছু এলাকা বিশেষ করে চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃস্টি হয়েছে। এলাকাবাসীরা জানান, শুক্রবার রাতে নদীর পানি হু হু করে বাড়তে থাকে। এতে ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই,খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানি,ঝুনাগাছ চাপানি, গয়াবাড়ি এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৈলমারী ও কৈমারী উপজেলার ১৫ টি তিস্তার চর নদীর পানিতে প্লাবিত হয়। খালিশা চাপানি ইউনিয়নের কৃষক আলমগীর বলেন,যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আতঙ্কে আছি। তিনি আরো জানান চরের জমিতে তার লাগানো বাদাম ক্ষেত এবং আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের শিক্ষক রাশেদ জানান, বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে। নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর ররহমান চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে ২৪ ঘন্টায় সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে। বন্যাদূর্গত এলাকায় ত্রান পৌছে দেয়া হবে।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here