দিশা হারাইনি: টক শোতে বিএনপি নেতা

0
124

বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকাতেই আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ব্যস্ততা নেই বলে জানিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী। তবে এ কারণে বিএনপি লক্ষ্যচ্যুত হয়নি বলেও জানিয়ে দেন তিনি।

বুধবার রাতে বেসরকারি যমুনা টেলিভিশনের টকশো ‘২৪ ঘন্টায়’ বাসা থেকে লাইভে অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন রুহুল।

মীর আহসানের সঞ্চালনায় টকশোতে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকদের সংগঠন ডিইউজে সভাপতি সাবান মাহমুদ, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ এবং জি নাইনের সাধারণ সম্পাদক শাখায়েত হোসেন শান্ত।

রুহুল আলম বলেন, ‘এখন বিএনপির সেই ব্যস্ততা নেই। তবে আমরা আমাদের দিশা হারাইনি। আমাদের লক্ষ্য গণতন্ত্রকে উদ্ধার করা।’

‘আমাদের প্রথম যে বাধা সেটা হলো আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় জেল খাটছেন। শত চেষ্টা করেও আমরা ওনাকে এখনো বের করে আনতে পারিনি। আমরা সাময়িক সময়ের জন্য দুরাবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা অবশ্যই এই অবস্থা থেকে উত্তরণ পাব।’

‘আমরা দেখতে চাই কীভাবে, কি জঘন্যভাবে একটার পর একটা আপিল, কেস, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়ে ওনাকে জামিন পাওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত জেলে রাখা হয়েছে।’

খালেদা জিয়া কারাগারে দুরবস্থায় আছে দাবি করে রুহুল আলম বলেন, ‘আজ বিএনপির মহাসচিবের একটা প্রেস কনফারেন্সে আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন খালেদা জিয়া কি দুর্বিসহ অবস্থার মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন।’

‘একটা সুষ্ঠু রাজনীতি করার জন্য আমাদের যেইখানে থাকার কথা ছিল সেই অবস্থায়, সেই জায়গায় বিএনপি নেই। কারণ আমাদের নেত্রীর শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা করে আমরা চিন্তিত।’

ভোট নিয়ে বিএনপির চিন্তা ব্যাখ্যা করে দলের ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি যেহেতু নির্বাচনমুখী দল। আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমরা সেই জায়গায় যেতে পারছি না।’

‘এটা আমাদের দুর্বলতা নয়। বর্তমান সরকার, পুলিশ প্রশাসন, ইলেকশন কমিশন, বিচার প্রশাসন সব কিছু মিলে আমাদের যে অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে, তাতে সেই পথ থেকে আমাদের উত্তরণ করতেই হবে।’

বিএনপির নেতার এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি স্বাধীনভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারছেন না। এটা যেমন সত্য তেমনি তাদের কর্মকাণ্ড করতে ক্ষমতাসীনরা যে ছাড় দেবে এটাও ভাবা যায় না। দুইটি বিবাদমান রাজনৈতিক দলের মধ্যে অন্তঃসম্পর্কটা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কেউ কাউকে টলারেট করতে পারছে না।’

‘কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড় দেবে না। এটা নিয়ে দিনের পর দিন আলোচনা করে লাভও নেই। এটাই বিএনপির জন্য ভবিতব্য।’

‘বেগম জিয়া শিগগিরই জেল থেকে ছাড়া পাবেন বলেও আমার মনে হচ্ছে না। যদি না কোনো মিরাকল ঘটে। বিএনপি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে অন্য কোনো দরকষাকষি আছে কি না আমরা জানি না। রাজনীতি এগুলো হয়। অতীতে আমরা তাও দেখেছি।’

‘এই অবস্থায় বিএনপি কি নীতিতে চলবে সেটা বিএনপির নীতি নির্ধারকরা ঠিক করবেন। যদিও বিএনপির নীতি নির্ধারণ কারা সেটা আমাদের কাছে স্পষ্ট না।’

সাংবাদিক সাবান মাহমুদ বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক চাপ না। এটা বিএনপি প্রমাণ করতে পারবে না। কারণ বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলে একটা মামলায়।’

‘পরবর্তীতে এই মামলা নিয়ে বিএনপি ১০ বছর আইনি লড়াই করেছে। বিএনপি কোনোভাবেই প্রমাণ করতে পারেনি যে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সে অভিযোগ মিথ্যা। আইনি লড়াইয়ে তারা হেরে গেছে।’

‘বিএনপির মহাসচিব সম্প্রতি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হলে তারা নির্বাচনে যাবে। এই ধরনের কন্ডিশন দেয়া ভোটারদের জিম্মি করার শামিল। কারণ বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে কারো দাবি মেনে জাতীয় নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই।’

আরেক আলোচক শাখায়েত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের এখন যে পলিটিক্যাল ক্রাইসিস, এই ক্রাইসিস একদিনে তৈরি হয়নি। …গণতন্ত্রটা একদম খাদের কিনারে আছে। কিংবা আইসিইউতে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে বলতে পারেন।’

‘এখন এটাকে মেরে ফেলবেন কিংবা খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবেন, নাকি এটাকে টেনে তুলবেন। সেটি হলো এখনকার প্রশ্ন। আজকের আলোচনার শুরুতেই বলা হয়ে আসছে বিএনপি ক্রাইসিসের মধ্যে আছে। এই ক্রাইসিসটা শুধু বিএনপির না, এই ক্রাইসিসটা সমস্ত দেশের। আমাদের গণতন্ত্রের এবং সমগ্র দেশবাসীর।’

‘কারণ একটা দেশের যখন প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে বৈরিতা এমন পর্যায়ে যায় যে, কেউ কাউকে টলারেট করবে না, নির্মূলের রাজনীতির দিকে যখন যাবে তখন সেটি স্বস্তিদায়ক না।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here