পদ্মায় ডুবে গেছে চাঁদপুরের সাইক্লোন শেল্টার

0
13

চাঁদপুর প্রতিনিধি :

চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি ও প্রচন্ড স্রোতে নির্মাণের দুই মাসের মধ্যে তলিয়ে গেছে দুই কোটি ২৯ লাখ টাকায় নির্মিত স্কুল কাম দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারটি ।

গত কয়েকদিন চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রথমে ভবনটি পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলেও আর শেষ রক্ষা হয়নি।

বৃহস্পতিবার শেষ বিকালে জোয়ারের পানি বৃদ্ধির পরে ধীরে ধীরে ভবনটি হেলে পড়ে পদ্মা নদীতে। একই সঙ্গে স্কুল এলাকার লক্ষ্মীরচরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ওই এলাকার প্রায় ৪০০ পরিবার ভাঙন শুরু হওয়ায় তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছে।

ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় নামে ওই ইউনিয়নের একমাত্র বিদ্যালয় হিসেবে নির্মিত হয় ভবনটি। এর আগে ২০০০ সাল থেকে ওই বিদ্যালয়টি ১০বার পদ্মার ভাঙনের শিকার হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিউল্লাহ সরকার জানান, গত রবিবার থেকে ভবনটি নদীর মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলেও বৃহস্পতিবার তলিয়ে যায়। এতে ইউনিয়নের একমাত্র বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া হুমকির মধ্যে পড়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী জানান, গত বছর জানুয়ারিতে সাইট সিলেকশনের সময় মেঘনা নদী প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে ছিল। তখন কেউ ভাবেনি নদী ভাঙতে ভাঙতে ভবনটির কাছে চলে আসবে।

নির্মাণ শেষে মাত্র দুই মাস আগে ভবনটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এটি দুই কোটি ২৯ লাখ টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে বলে ঠিকাদারের প্রতিনিধি ইউপি সদস্য পারভেজ গজী রনি জানিয়েছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমা জানান, স্থায়ী কোন বাধ নির্মাণ করা ছাড়া কোন কিছুই রক্ষা করা সম্ভব নয়। ভবন কিংবা এলাকা ভাঙন রোধে বাধ নির্মাণের বিকল্প নাই।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার জানান, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নটি চারপাশে পদ্মা-মেঘনা নদী দ্বারা বেষ্টিত। বর্তমানে পদ্মা-মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি ও প্রচণ্ড স্রোতে ভবনটি তলিয়ে গেছে। এই ভবনটি নির্মাণের পূর্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন পরামর্শ নেয়া হয়েছে কিনা তা এই কর্মকর্তা জানেন না।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here