বাসের অপেক্ষায় দুর্ভোগ চরমে

0
6

আমার কাগজ ডেস্ক :
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আজও বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। অনেক সময় অপেক্ষার পরও গন্তব্যে যেতে বাস না পেয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী ও বয়স্করা।

করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সরকার গত ২৯ মার্চ ১৮টি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে গণপরিবহনে ৫০ শতাংশ সিট ফাঁকা রাখার কথা বলা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী দুই সপ্তাহের জন্য গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। যা বুধবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে কার্যকর হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) কলাবাগান এলাকায় বাসের জন্য দীর্ঘসময় অপেক্ষা করছিলেন খালেদা বেগম। তিনি বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা বা অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা না করে হুট করে সরকারের এ ধরনের নির্দেশনার ফলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। পুরুষরা হুড়োহুড়ি করে বাসে উঠতে পারছে, কিন্তু আমরা নারীরাতো পারছি না। কতক্ষণ পর বাসে উঠতে পারব, আর কখন যে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারব তা অনিশ্চিত।

সিরাজুল ইসলাম নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ঢাকা মেডিকেলে ডাক্তার দেখাতে যাব। কিন্তু কোনো বাসেই উঠতে পারছি না। বাস আসামাত্র একটি বা দুটি ফাঁকা সিটে হুড়োহুড়ি করে লোকজন উঠতে পারছেন। অধিকাংশ বাসই সিট পূর্ণ করে আসছে। এমন ভোগান্তিতে পড়তে হবে জানলে ঘর থেকেই বের হতাম না।

একই অবস্থা নীলক্ষেত-আজিমপুর এলাকায়। দীর্ঘসময় বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে উঠতে না পেরে বিরক্তি প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষজন। অনেকেই আবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া নিয়ে। রফিকুল ইসলাম নামের এক চাকরিজীবী বলেন, করোনায় আমাদের আয় আরও সংকুচিত হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দামও বেড়েছে। এখন আবার যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। সবকিছু মিলিয়ে এটি আমাদের জন্য গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।

বাসে উঠতে না পেরে গন্তব্যে পৌঁছাতে অফিসমুখী মানুষজনকে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের দ্বারস্থ হতে দেখা যায়। আর এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্দেশনা অমান্য করায় অনেক রাইডারকে জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছে।

ডিএমপির ট্রাফিক ইনস্পেক্টর মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, আজ থেকে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং বন্ধের নির্দেশনা আমরা পেয়েছি। এরপরও দেখছি অনেকে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করছেন। যারা নির্দেশনা অমান্য করছেন তাদের জরিমানার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এছাড়াও গণপরিবহন চলাচলে সরকারি নির্দেশনার ব্যত্যয় যেন না ঘটে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে বলে জানান ট্রাফিক পুলিশের ধানমন্ডি জোনের উপ-কমিশনার জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারের নির্দেশনার যেন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ঘটে সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি।

এদিকে বাসে উঠতে না পেরে রাজধানীর খিলক্ষেত সড়কে বিক্ষোভ করেছেন কর্মস্থলগামী যাত্রীরা। এ সময় যাত্রীরা কয়েকটি বাস আটকে রাস্তায় বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে যাত্রীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here