বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। এ সূচকে ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। বাংলাদেশ ছাড়া দক্ষিণ এশীয় অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারত ১০২, পাকিস্তান ৯৪, নেপাল ৭৩, মিয়ানমার ৬৯ ও শ্রীলঙ্কা ৬৬তম অবস্থানে রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলেছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে ধারাবাহিক। মোট স্কোর গতবারের ২৬.১ থেকে কমে হয়েছে ২৫.৮। তার পরও বাংলাদেশ বৈশ্বিক অবস্থানে দুই ধাপ পিছিয়েছে, কারণ অন্যদের উন্নতি ঘটছে আরো দ্রুতগতিতে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব ক্ষুধা সূচক ২০১৯ প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশে সার্বিকভাবে উন্নতির দিকেই রয়েছে। বাংলাদেশ শিশুমৃত্যু হ্রাসে ভালো করেছে এবং অন্যান্য সূচকে বাংলাদেশ ভালো করবেই। ড. রাজ্জাক বলেন, অর্থনৈতিক বিকাশ, পিতামাতার শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য উন্নয়নে সাফল্যের ফলে দেশে খর্বাকার শিশু, পুষ্টিহীনতা হ্রাস পেয়েছে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য একটি চেইন, এখানে কৃষক ভোক্তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যাপারগুলো জড়িত। সরকার সামাজিক নিরাপত্তার নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদেশ থেকে ক্ষুধা দারিদ্র্য দূর হবেই।

চলতি বছরসহ পাঁচ বছরে অবস্থান খুব সামান্য তারতম্য হলেও দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের ক্রমোন্নতির চিত্র। ২০০০ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০০’র মধ্যে ৩৬ দশমিক ১, অর্থাৎ ‘ভীতিকর’। এর ৫ বছর পর, ২০০৫ সালের সূচকে সেই স্কোর কমে ৩০ দশমিক ৭ এ দাঁড়ায়। অর্থাৎ ‘ভীতিকর’ থেকে ‘তীব্র’ ক্ষুধাপীড়িত দেশের পর্যায়ে চলে আসে। আরো পাঁচ বছর পর ২০১০ সালে স্কোর সামান্য একটু কমে ৩০ দশমিক ৩ হয়। পরে টানা ৯ বছরের ব্যবধানে এবারের সূচকে বাংলাদেশ পেল ২৫ দশমিক ৮, যা ধারাবাহিক উন্নতিকেই সামনে এনেছে।

গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) তৈরি হয়েছে চারটি মাপকাঠিতে প্রতিটি দেশের পরিস্থিতি বিচার করে। অপুষ্টির পাশাপাশি ৫ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে কম ওজনের শিশু, ৫ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশু, ৫ বছরের কম বয়সি শিশুমৃত্যু এই চারটি মাপকাঠিতে প্রতিটি দেশের স্কোর হিসাব করা হয়েছে ১০০ পয়েন্টের ভিত্তিতে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুষ্টি কাউন্সিলের মহাপরিচালক ডা. শাহ নেওয়াজ, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর এ কে এম মুসা, হেলভেটাস বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর উম্মে হাবিবা।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here