ভাগিনার খোলা চিঠি (৪)

0
341

এ বি সিদ্দিক :

মামা,
আমার অবস্থা দুমড়ানো মোচড়ানো পুরাতন দুই টাকার নোটের মত। কাজ কর্মহীন অবস্থায় বিরতিহীন অবসর। বারান্দায় বসে আকাশের সাত রঙের খেলা দেখি, টিয়াপাখির কন্ঠে গান শুনি, রোদের ঝিলিক দেখি, বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ শুনি, অতিবৃষ্টিতে রাস্তার জলাবদ্ধতায় রিকশা ভ্যান থেকে মানুষ উল্টিয়ে পড়ার দৃশ্য দেখি আর তাদের কষ্ট হজম করি। মাঝে মধ্যে বিভূতিভূষণ, সৈয়দ মুজতবা আলী, ডা. লুৎফর রহমানের বই এর দুই-একটি পাতা উল্টিয়ে সময় কাটাই। কিন্তু কাজ আর আড্ডা ছাড়া মন তো ভরে না। তৃপ্তি পাই না। হতাশার চাপ দিনে দিনে ঘণীভূত হচ্ছে।
মামা, কোন ঝড় বৃষ্টি ছাড়াই হঠাৎ একেবারেই দূরে সরে গেলেন। চোখের আড়াল হলে মনের আড়ালও হয়। আমার উপর রাগ করে আছেন কিনা জানিনা। এতটুকু বুঝি, রাগ আর অভিমান হৃদয়েরই টান। তবে মামা মনে কষ্ট নেবেন না। আর সৃষ্টিজীবের কাউকে কষ্ট দেবেন না। জেনে শুনে কারো অনিষ্ট করবেন না। কারণ, একটি মন ভাঙ্গা আর একটি মসজিদ ভাঙ্গা সমান কথা। আমি আপনার নির্ভেজাল আদর যত্নে বেড়ে উঠা কাছের জন। আপনি তো মানবতাবাদী। অসহায়ের সহায়।
মামা, “এমন জীবন করিবে গঠন, মরণে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভূবন”। মরণের পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতকর্মের জন্য যেন সমালোচনার ঝড় না উঠে। আপনার কারণে বিনা দোষে কেউ যেন দোষী না হয়। আর আমি যেন লাশের পাশে দাঁড়িয়ে সবাইকে নিয়ে বলতে পারি, “মামা বড় ভাল লোক ছিলেন”। ওইদিন দেখলাম ট্রান্সকম চেয়ারম্যান শিল্পপতি লতিফুর রহমান আর রাজনীতিবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক এমাজউদ্দীনের মৃত্যুতে মানুষের কান্নার রোল। বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত চোখের পানি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একে অপরকে দোষারোপ আর সীমাহীন দুর্নীতি দেখে মানুষ হতাশ। অর্থাৎ অল্প সুখে কাতর, অধিক শোকে পাথর। নমুনা পরীক্ষার উপর আস্থাহীনতার কারণে মানুষ হাসপাতাল বিমুখ হয়ে পড়েছে। তার অন্যতম কারণ জেকেজি, রিজেন্ট হাসপাতাল ও সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এই আস্থাহীনতা দিনে দিনে ঘণীভূত হচ্ছে এবং মানুষ বাসা ও কবরকে বেশি নিরাপদ স্থান মনে করছে। বৈশ্বিক রোগী শনাক্তের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান দশম। মোট আক্রান্ত ২ লাখেরও বেশি। মৃত্যু তিন হাজারের কাছাকাছি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার জন শনাক্ত হচ্ছে। টেস্ট ল্যাবরেটরি বাড়ছে কিন্তু টেস্টের সংখ্যা কমছে।
মামা, করোনা যত বড় তার চেয়ে বড় সমস্যা। এই মহামারী নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্ববাসী। পাল্টিয়ে দিচ্ছে মানুষের ধ্যান ধারনা। ক্ষমতাধর ট্রাম্পও মাস্ক পড়া শুরু করেছেন। বিশ্ববাসী আরো বেশি আতংকিত এবং শঙ্কিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের বিবৃতি আর উপদেশের কারণে। তার মতে করোনা এখন আমাদের গণশত্রু । মানুষকে খুঁজে খুঁজে আক্রমণ করছে। সংক্রমণ ঠেকাতে আর জীবন বাঁচাতে ব্যাপক কৌশল প্রণয়ন করে কাজ না করলে এবং জনগণ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চললে মহামারী থেকে যাবে। দিনে দিনে আরো ভয়ংকর হবে। এই নির্দেশনা বরফগলা নদীর মত মানুষকে ধৈর্য রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আসলে কিন্তু ঢাল নাই তলোয়ার নাই, নিধিরাম সর্দার।
মামা, খতমে ইউনূস বা পবিত্র কুরআন খতমের মাধ্যমে এই করোনাকালে প্রতি শুক্রবার ঢাকাস্থ ধর্মপুর ইউনিয়ন সোসাইটির (ফেনী জেলার) উদ্যোগে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সকল মানবের কল্যাণে এবং মহামারী করোনা থেকে মুক্তির জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ভার্চুয়াল এই দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহনের কারণে আপনার টেলিফোনের জবাব দিতে পারিনি। তবে আমাকে ভুল বুঝে আপনার মায়া মমতা থেকে বঞ্চিত করবেন না। এই আয়োজন চলমান করোনা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত। তবে আবার সন্দিহান যে, কখন কোন মাওলানা সাহেব নাজায়েযের ফতোয়া দান করেন তা বলা মুশকিল। কারন নামাজের পরে মোনাজাতের বিষয়টি ঢাকার অনেক মসজিদে নেই। আমরা শুধু মাওলানা সাহেবদের মুখে হাদীস কুরআনের বাংলা তর্জমা, বোয়াল মাছের মত হা করে তাকিয়ে শুনি। কিন্তু তর্জমার মর্মার্থ অথবা সবল/ দুর্বল হাদিস নির্ণয় করার মত দ্বীনি শিক্ষার গভীরতা নেই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন চট্টগ্রামের আলোচিত ও সমাদৃত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অগ্রদূত ইসলামী চিন্তাবিদ মরহুম মাওলানা নুরুল ইসলাম হাশেমী ও মরহুম মাওলানা ওবায়দুল হক নঈমী এদের জীবিতকালীন সময়ে ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত থাকার সুযোগ আমার হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি। আলোচনায় উনারা কওমি গোষ্ঠীদের (কওমি মাদ্রাসায় লেখাপড়াকারীদের) কঠিন সমালোচনা করেন এবং কাফের ফতোয়া দেন। বিষয়টি আমাকে কিছুটা বিচলিত করেছিল। সারা পৃথিবীব্যাপী শিয়া সুন্নি দ্বন্দ্ব তো আছেই। কাদিয়ানী, আহলে হাদিস (যারা মাযহাব অনুসরণ করে না) ছাড়াও মাজারভক্ত, মাঈজভান্ডারী, খাজাবাবা, আটরশি দেওয়ানবাগী অনুসারীসহ ভিন্ন মতাবলম্বী নানা দল উপদল রয়েছে। পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও মতবিরোধের কারনে মুসলমানরা পিছিয়ে পড়ছে। দিশেহারা এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ়। বর্তমানে তাবলীগ জামাতের সাদ গ্রুপ ও জোবায়ের গ্রুপের দ্বন্দ্বে মানুষ তাবলীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এই বিষয়ে ছোটকালের কথা মনে পড়ে। গরমে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, চৈত্র মাস। অনাবৃষ্টির কারনে ক্ষেতের ফসল নষ্ট। বৃষ্টির জন্য গ্রামবাসী মাঠে খোলা আকাশের নিচে দোয়া দরুদের ব্যবস্থা করতেন। এলাকার মুত্তাকীন ও হক্কানী আলেমদের উপস্থিতিতে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন। আল্লাহর দরবারে ক্রন্দনরত অবস্থায় আকাশে মেঘ। বাড়ি আসার সাথে সাথে বৃষ্টি। গ্রামে কলেরা ও অন্যান্য মহামারীর সময় একই অবস্থা দেখেছি। এখন আর ত্বরিত গতিতে ফলাফল দেখি না। বজলু মামা বললেন, “পুকুরে তো মাছ আছে সত্য, কিন্তু জাল ফুটা হলে জালে মাছ আসবে না”। আমাদের ঈমানে গলদ আছে। তাই আগের মত ফলাফল পাই না। আমলের বড়ই অভাব। প্রিন্স মামা বললেন তাদের মসজিদের খতিব সাহেব মুসল্লিদের অঙ্গীকার করালেন যে সকলে মসজিদে এসে নামাজ আদায় করবে, যত করোনাই থাকুক। কিন্তু পরদিন থেকে খতিব সাহেব উধাও। করোনার ভয়ে খতিব সাহেব বরিশাল চলে গেছেন, অনেকদিন থেকে অনুপস্থিত বলে প্রিন্স মামা জানালেন।
মামা, শুধু দুর্নীতি আর অনিয়ম। মিডিয়া এবং পত্র-পত্রিকায় সমালোচনার ঝড়। বাংলা সিনেমার মত একটি ঘটনার পর আরেকটি ঘটনা শুধু মঞ্চায়ন হচ্ছে। সমালোচকরা মজা নিচ্ছেন। একবার দেখলাম সাংসদ শহীদ ইসলাম (পাপুল) এর মুদ্রা পাচার ও মানব পাচারের নানা গল্পকাহিনী। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ। এর রেশ কাটতে না কাটতেই জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী আর স্বামী আরিফুল হক চৌধুরী গ্রেফতার। অভিযোগ হল জেকেজি নামে এই সংস্থার মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ ও তা ফেলে দিয়ে ভুয়াসনদ প্রদানের মাধ্যমে টাকা আদায় (পজেটিভকে নেগেটিভ, নেগেটিভকে পজেটিভ)। একই অভিযোগ রিজেন্ট হাসপাতলের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে। তার রিজেন্ট হাসপাতালের (উত্তরা ও মিরপুর শাখা) মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ এবং ভুয়া সনদ প্রদান করে রোগী থেকে হাজার হাজার টাকা আদায় করেছে। তবে তার বিরুদ্ধে শুধু ভুয়া সনদ প্রদান নয়, সাহেদ করিম শ্রেষ্ঠ প্রতারক ও নয়টি ব্যাংকের ঋনখেলাপী। দশ বছর আগে ২০১০ সালে চেক জালিয়াতির অভিযোগে ছয় মাস জেল, ৫৩ লাখ টাকা জরিমানা। ২০১০ সাল থেকে সাজাপ্রাপ্ত এই আসামী আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির একজন সদস্য পরিচয়ে টক শোতে আসতেন এবং জোরালোভাবে বলতেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, রাজনৈতিক তকমা গায়ে দিয়ে কেউ রেহাই পাবে না।
মামা, নদীভাঙ্গন রোধে পাথর না ফেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারের দুর্নীতি আর ভুয়া সনদ প্রদান, ত্রুটিপূর্ণ পিপিই ও মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ সরবরাহ করার দুর্নীতি এক নয়। ভুয়া সনদ প্রদান, ত্রুটিপূর্ণ পিপিই ও মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ সরবরাহকারী গণখুনী। এ জন্য দায়ী কারা? সরকার সরকারী কাজে ব্যস্ত। মন্ত্রীর নজরে অনেক কিছু আসে না। ডিজি সাহেব সচিবের মৌখিক নির্দেশে কাজ করেছেন। সচিবের মৌখিক নির্দেশের লিখিত কোন দলিল পত্র নেই। তাহলে দায়ী জনগণ। এই অপকর্ম দেখা, শোনা, সহ্য করা এবং মৃত্যুবরণ সবকিছুর দায়িত্ব হতভাগা জনগণের। কারণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নিয়মিত বলে যাচ্ছেন, “আপনার সুরক্ষা আপনাকেই করতে হবে”। এই ভুয়া সনদের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীও কষ্ট পাচ্ছেন। কারণ বিদেশ থেকে লোক ফেরত আসছে। বিদেশীরা বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই ঝামেলা সামাল দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের উন্নয়ন, নানা প্রকল্প, কৃষক শ্রমিক অভিবাসীদের কঠোর পরিশ্রম, সরকারের ভাবমূর্তি করোনা ভাইরাসের মত সংক্রমিত হয়ে আইসিইউতে চলে যাচ্ছে। সমালোচনা সরকারকে সজাগ করে, এতে সরকার ভুল বুঝতে পারে। কিন্তু পাপুল, সাহেদ করিম ও সাবরিনা দেশের এবং সরকারের যে অপূরণীয় ক্ষতি করেছে তা পূরণ হবার নয় এবং দলের নিবেদিত কর্মীদের হতাশ করছে।
টিকা আবিষ্কার হবে একদিন। করোনা নির্মূল হবে। একদিন আমরা স্বাস্থ্যখাতের সকল দুর্নীতি, অপকর্ম, দায়িত্বহীনতা ভুলে যাব। ভুলে যাব করোনায় মৃতদের কথা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের কথা। বলব আমরাই পারি করোনাকে জয় করতে। বিজয় মিছিল হবে, আলোচনা সভা হবে। শহীদ মিনার থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত মোমের বাতি জ্বলবে। আলোচনায় দাওয়াত পাবো, অংশ নেব। কিন্তু মামা ভয়ের কারণ আছে। করোনাকালের সুবিধাভোগীরা করোনা চলে যাওয়ার দুঃখে কখন আলোচনা সভায়, বিজয় মিছিলে গুলি ছুড়ে। কারণ প্লেগ মহামারীর বিজয়োৎসবে কতার নামের সুবিধাভোগী লোকটি জনতার উপর গুলি ছুড়েছিল। সাহেদের কোমরে বেঁধে রাখা হাতিয়ার কখন কিভাবে গর্জে উঠে আরেকবার, চিন্তায় আছি।
প্রথম আলো, ২২ জুন এর সূত্রমতে, ইউপি চেয়ারম্যান ৩০ জন, ইউপি সদস্য ৬৪ জন, পৌর কাউন্সিলর ৪ জন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ১ জন, জেলা পরিষদ সদস্য ১ জন, মোট ১০০ জন প্রতিনিধি প্রশাসনের তদন্তে দুর্নীতিতে প্রমাণিত এবং সাময়িক ভাবে বরখাস্ত। টিভি স্ক্রলে এই সংখ্যা ১১১ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। এই দুরবস্থা দেখে ত্রাণ কার্যক্রমের ভার স্থানীয় প্রশাসনের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এই বিষয়ে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। ৭০ এর নির্বাচনের সময় চাকাওয়ালা কাঠের নৌকা নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘামঝরা মিছিল করতাম। মহান নেতার উপর স্লোগান কিন্তু নেতাকে দেখিনি। ১৯৭৩ সাল। সেই নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ফেনীতে আসবেন। স্কুলে যাওয়ার পরেই দপ্তরি সালাম ছুটির ঘন্টা বাজিয়ে দিল। হেডমাস্টার মরহুম শামসুল হুদা চৌধুরী নিজেই ছেলেদেরকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে দেখতে রওনা দিলেন। ব্রিটিশ আমলের অব্যবহৃত বিমান বন্দর, বর্তমান ফেনী মহিলা ক্যাডেট কলেজের স্থানে স্টেজ। হেলিকপ্টার থেকে নেমে লাল গালিচা সংবর্ধনা নিয়ে জাতির পিতা সরাসরি স্টেজে উঠলেন। ঠেলাঠেলিতে আমি সামনে এসে পড়লাম। বক্তৃতার মাঝে আঙ্গুল উচিয়ে বললেন, “সবাই পায় স্বর্ণের খনি, আমি পাই চোরের খনি। আমার কম্বলটি কোথায়?” নেতাদের চোখে মুখে অপরাধের ছাপ। জনপ্রতিনিধিদের এই চুরির ঘটনা দেখে অতীতের কথাগুলো ভেসে উঠল। এই ধারাবাহিকতায় আমরা এখনো আছি। আসলে এদের তো দায় দায়িত্ব নেই। কারণ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ভোটারবিহীন নির্বাচনে দলীয় টিকেটে প্রতিনিধি। এদের শাস্তি সাময়িক, লোক দেখানো মাত্র। কিছুদিন পর আবার স্ব অবস্থানে ফিরে আসবে। দক্ষিণা আর তৈলমর্দন এদের মূল অস্ত্র। মামুন মামাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “মামা, বিগত সরকারের আমলে আপনি চুরির দায়ে চাকরিচ্যুত, বর্তমানে আবার চাকরিতে বহাল”। মামা উত্তরে বললেন,“দক্ষিণা, তৈলমর্দন আর কিছু কলাকৌশল আমাকে এগিয়ে দিয়েছে। মনে রেখ, এই তেল কিন্তু সেই তেল নয়। এক তেলে চাকা ঘোরে আরেক তেলে মানুষের মন ফেরে”।
মামা, লাজ ফার্মাকে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি দেখে আমি ভীত হয়ে পড়েছি। এই ফার্মা থেকে অনেক ওষুধ নিজে খেয়েছি, বন্ধু বান্ধবকে ঠিকানা দিয়েছি। আসলে বনের বাঘে খায়না, খায় তো মনের বাঘে। চারদিকে যে অবস্থা দেখছি, আপনার আমার কপালে কি আছে, জানিনা। তবে এই বিষয়ে একটি গল্প আছে। এক সাধক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মরা মানুষের কংকাল পেলেন। হাতে নিয়ে দেখলেন কপালে আছে ‘পথে মরণ আরো আছে কি? সাধু চিন্তা করলেন, পথে তো মারা গেছে। আবার কি থাকতে পারে? গবেষণার জন্য কংকালটি বাড়িতে নিয়ে ঘরের ভিতর বাঁশের উপর টাঙ্গিয়ে রাখলেন। বউ দেখে অমংগল ও ছেলেমেয়েদের ক্ষতি হওয়ার চিন্তা করে কংকালটি পায়খানায় ফেলে দিলেন। সাধু বাড়িতে এসে কংকাল না দেখে বউ এর উপর রাগারাগি করলেন। কংকালটি পায়খানায় ফেলে দিয়েছে বলে বউ তার কাছে স্বীকার করল। রাগারাগির পর সাধু ধ্যানে বসে উত্তর বের করলেন, কপালে আছে পথে মরণ, আরো আছে পায়খানায় পড়ন।

ইতি
আপনার ভাগিনা
মিরপুর, ঢাকা।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here