ভাগিনার খোলা চিঠি (৬)

0
280

এ বি সিদ্দিক :

মামা,
শুভ কামনা করেই বিবেকের তাড়নায় আপনাকে কিছু বলতে চাই। করোনা আতংক সর্বত্র। কিন্তু আমাদের কাজকর্ম থেমে নেই। বেঁচে থাকার তাগিদে সংগ্রাম আর লড়াই চলছে। মানুষের জীবিকা আর দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখার জন্য একজন ধন্যবাদ পাবেন। তিনি হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তার সঠিক সিদ্ধান্তের কারনে দেশ আশু দুর্ভিক্ষ থেকে রেহাই পেয়েছে। যা দিবালোকের মত সত্য। সমালোচনা আছে, থাকবে। জোসেফ স্ট্যালিনকে এখনো রাশিয়াতে কসাই এর সাথে তুলনা করা হয়। শাহবাগ মোড়ে কলার খোসার উপর পা পিছলিয়ে পড়ে রাতকানা আর দিনের কানা লোকেরা জননেত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনায় বিভোর থাকে। স্বাস্থ্যখাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার অভাবের বিষয়টি চন্দ্র সূর্যের মত সত্য। এ নিয়ে কেউ যদি নিজেদের কৃতিত্ব দাবী করে তাহলে বলব এরা বোকার স্বর্গে বাস করে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব অপকর্ম, দায়িত্বহীনতা আর হরিলুট এখন আর কারো অজানা নয়। মানুষ করোনাকে এখন আর ভয় করছে না। সাহস এবং উদ্দীপনা নিয়ে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। কিন্তু করোনা থেমে নেই। করোনার কাজ করোনা করছে। দরকার শুধু আমাদের সাবধানতা অবলম্বন।
মামা,
আমরা অবসর নিয়েছি এবং নিতে যাচ্ছি। এর মধ্যে অনন্তকালেও পাড়ি জমিয়েছেন অনেকেই। কথায় আছে, “শেষ ভালো যার, সব ভালো তার”। অনেকের শুরু এবং শেষ দুটোই ভাল। জীবনযুদ্ধে অনেকে আবার পরাজিত সৈনিক। একাল সেকাল সবটাই এদের জন্য সমান্তরাল। এদের ডান হাত বাম হাত ছাড়াও আরো একটি হাত ছিল, তা হলো অজুহাত। নিয়তির উপর নির্ভরশীল এরা যেদিকে চায়, সেদিকে সাগর শুকিয়ে যায়। এ বন্ধুদের যাপিত জীবন অমাবস্যার চাঁদের মত। পূর্ণিমার চাঁদ এদের কাছে ঝাপসা রুটি। জীবন বসন্ত এদের ভাগ্যে জোটেনি। করোনাকালে এদের জীবন দুঃখ কষ্ট ভরা এক বিষাদসিন্ধু। আলোচনাকালে বা চাক্ষুষ প্রমাণে এই চিত্রই দেখতে পাই। ভালো আছি যারা, তাদের চেহারায় ভেসে ওঠে সফলতার ভাস্কর্য। এরা সফল। এরা বরেণ্য লেখক হুমায়ুন আহমেদের গল্পের মিসির আলী সেজে ঘটকের আদলে সামাজিক যোগাযোগে সৌভাগ্যের বাজনা বাজায়। নাতি নাতনি কোলে নিয়ে ফেসবুকে খুশীর ঝলকে ঝলসে ওঠে। কিন্তু অনেকের আবার সুখে থাকতে ভূতে কিলায়। এরা হলেন ভেজাল মামাদের বংশধর। (সাইফুদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী, বর্তমানে ভেজাল মামা নামে খ্যাত)
সংসারে চলছে এদের দুর্যোগের ঘনঘটা। ভেজাল মামার অবস্থা হলো, “রঙ টেকেনা এক কাপড়ে, তাই-ই আবার অন্য কাপড়ে লাগলে ওঠেনা”। মামা যতই বলুক, চাবি দেওয়া পুতুলের মত মামী শুধু মাথা নাড়ে, কথা বলে না। সমস্যা ফেসবুক। বুড়া বয়সে মামার ভীমরতি।

দাও বলে দাও কবে
থাকবে সাথে কেমন করে
যেমন করে থাকছো অনুভবে।
ফেসবুকে এ ধরনের লেখা মামীর চোখ এড়াতে পারেনি বলে মামা আজ মহাসংকটে। সংসার ভাঙ্গার সুর বাজছে। এ হল আমার সহপাঠী ও বন্ধু বান্ধবদের অবস্থা।
মামা, করোনা মহামারী মোকাবেলায় প্রথম সারির যোদ্ধা হচ্ছেন ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। দেশে বিগত পাঁচ মাসে করোনা এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে ৮৮ জন চিকিৎসক মৃত্যুবরণ করেছেন। গত ১৫ এপ্রিল করোনা সংক্রমিত হয়ে প্রথম একজন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়। বিএমএর তথ্য অনুযায়ী (১৮ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো) ২৭৬২ জন চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া ১৯৫৩ জন নার্স এবং ৩২৪৮ জন অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মী সংক্রমিত হয়েছেন। করোনায় ৮৮ জন চিকিৎসকের মৃত্যুর বিষয়টি উদ্বেগের। আসলে সান্ত্বনা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই। করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে বিশ্বব্যাপী চিকিৎসকসহ হাজার স্বাস্থ্য কর্মী মারা গেছেন। বিশ্বব্যাপী তাদের এই সেবা ও ত্যাগকে সম্মান জানানোর জন্য লাটভিয়ার (ইউরোপিয়ান দেশ) এক খ্যাতিমান ভাস্কর এইগারস বিকসে নির্মাণ করেছেন এক নারী চিকিৎসকের ২০ ফুট উচু এক ভাস্কর্য। তার মুখে পরিয়ে দেয়া হয়েছে মাস্ক। লাটভিয়ার জাতীয় জাদুঘরের সামনে গত ১৬ জুন ‘Medics to the world’ নামে এই ভাস্কর্যটি উন্মোচন করা হয়। ডাক্তার নার্সগণ জীবন বাজি রেখে ইতালীসহ বিভিন্ন দেশের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। ঘন্টার পর ঘন্টা মাস্ক পরিধান করে থাকায় তাদের মুখমণ্ডলে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। এই চিন্তাভাবনা থেকে এবং তাদের এই মহৎ সেবা কার্যক্রম স্মরণ করে লাটভিয়ার আর্ট একাডেমীর প্রফেসর এইগারস এই ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। করোনা মহামারী মোকাবেলায় আমাদের দেশের ডাক্তার নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ত্যাগ এবং অবদানের কথা স্মরণীয় করে রাখার জন্য এ ধরণের স্মৃতিফলক নির্মাণ করা উচিত।
মামা, কাশিমপুর কারাগার-২ থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী পালিয়ে যায়। পরনে কিন্তু কয়েদীর পোষাক ছিলনা। সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়। গত ৬ আগস্ট সোয়া এগারোটার সময় কাঁধে মই নিয়ে সাধারন পোষাকে ব্রক্ষ্মপুত্র ভবনের প্রধান ফটক দিয়ে বের হয়। মৃত্যুদন্ড থেকে পরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী ২০১৫ সালে একবার নিখোঁজ হয়ে যায়। কারাগারে সে কয়েদীর পোষাকে থাকত না। কারাগার একটি সুরক্ষিত এলাকা। এখান থেকে কোন আসামী দিনের বেলায় যদি বের হয়ে যায় তা হলে বুঝা যায় কারা কর্তৃপক্ষ কি দায়িত্ব পালন করছে?! প্রসংগক্রমে একটি গল্প মনে পড়ে গেল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা। আমাদের এক সহপাঠি বাংলা বিভাগে মৌখিক (viva) পরীক্ষা দিয়েছে। মৌখিক পরীক্ষার তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে who অর্থ কী? উত্তরে সে বলেছে who অর্থ কেমন। সে নিশ্চিত ছিল যে বাংলা বিভাগে তার ভর্তির কোন সুযোগ হবে না। কিন্তু কিছুদিন পর তাকে ভর্তির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। উত্তরে সে বলল, “ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে আমার ৩ নং সিরিয়াল। এ বিভাগে ২৫ জন ছাত্র নিয়েছে”। কথার সাথে আরো যোগ করে বলল, “আমি বেকুব who অর্থ কেমন বলে ৩ নং এ টিকেছি। পরের গুলো কেমন বেকুব তোমরা চিন্তা করে দেখ”। ফাঁসির আসামী যদি সুরক্ষিত এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে পারে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা চুরি হয়ে যেতে পারে, তা হলে অন্যান্য প্রশাসনের অবস্থা কি তা সহজেই অনুমেয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকেরা কি দায়িত্ব পালন করছে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মামা, এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি? এ দেশে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির ১০ বছর পরও গ্রেফতার হয়না বরং এ আসামী বংগভবন এবং গনভবনে রঙ্গে ঢঙে প্রবেশ করে বিশেষ মেহমানের মর্যাদা পায়। এ আসামী রাস্তাঘাটে বিশেষ প্রটোকল পায়। আবার টকশো তে এসে জাতিকে জ্ঞান দেয়। অদ্ভুত! আবার জেলখানার আসামী দেশের বড় হাসপাতালে রোগীর খাতায় নাম লিখে মাসের পর মাস স্ত্রী পুত্র নিয়ে হাসপাতালকে মিনি পর্যটন কেন্দ্র বানায়। কারা কর্তৃপক্ষ চিঠির পর চিঠি দিয়েও আসামীকে কারাগারে ফেরত নিতে পারেনা। এর মধ্যে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীও আছে। দুঃখের বিষয় হল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে বলেন, “এরা কে কখন আসছে বা কখন যাচ্ছে তা আমার নলেজে নেই বা আমাকে জানানো হয়নি”। অথচ একজন আসামীকে ফেরত চেয়ে ৩০ বারের অধিক চিঠি দেয়া হয় কারা কর্তৃপক্ষ থেকে। যাদু বাস্তবতার দেশ বাংলাদেশ। এ দেশে নর্দমা দিয়ে টাকা ভেসে যায় আর মানুষ মাছ ধরার মত ৫০০ টাকার নোট, ১০০০ টাকার নোট ধরে ফেলে। এখানে অফিসের কাগজপত্রের ভিতরও টাকা থাকে। এ দেশে শুধু বোনাস পাওয়ার আশায় ১০ হাজার টাকার বিদ্যুতের বিল ২ লাখ টাকার বানিয়ে গ্রাহকের কাছে পাঠানো হয়। অর্থাৎ কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ। আবার বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো অর্থ বছরের শেষ দিকে আয় বেশি দেখানোর জন্য বরাবর বাড়তি বিল করা হয় যা গ্রাহককেই পরিশোধ করতে হয়। এমন দেশটি কোথায় পাবেন? এদের ঠেলায় মাছ বাজারের বড় মাছটা কিনতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পুঁটি মাছ নিয়ে আমজনতা ঘরে ফিরে বউয়ের বকুনি শুনতে হয়। এ দেশে টাকা থাকে বালিশে। আবার এ বালিশ নীচতলা থেকে তিনতলায় উঠাতে হাজার টাকা খরচ হয়। এদেশের বিশ হাজার টাকা বেতনের মিটার রিডার চল্লিশ হাজার টাকা বেতন দিয়ে তিনজনকে নিয়োগ করে। আর সে পাজেরো গাড়ী হাঁকিয়ে গোটা কয়েক ছয় তলা বাড়ির ভাড়া তুলে খায়। যে মেয়েটি আদৌ মারা যায়নি তাকে হত্যার দায় স্বীকার করে তিন আসামী রিমান্ডে জবানবন্দী দেয়। নিখোঁজের ৫১ দিন পর সেই মৃত কিশোরী মুঠোফোনে কথা বলে মায়ের কাছে ফিরে আসে। এদিকে পুলিশ আসামীদের থেকে নেয়া টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বাসায় বাসায় ধর্না দিচ্ছে। আজব ব্যাপার! এখানে চুরি হয়ে যাওয়া মালের জন্য পুলিশকে টাকা দিয়ে মামলা রজু করতে হয়। আবার টাকা নিয়ে পুলিশের পিছে পিছে দৌড়াতে হয় আসামী ধরার জন্য। এক সময়ে দেখা যায় মালও যায়, টাকাও যায়।
শুধুমাত্র রাজনীতি পরিচয়ে মাত্র সাড়ে ৭ বছরে বিনা পুঁজিতে আড়াই হাজার বিঘা জমির মালিক আর হাজার হাজার কোটি টাকা নগদ অর্থের মালিক হওয়া যায় (ফরিদপুরের দুই ভাই)। রাজনীতির ছত্রছায়ায় আর সাংসদীয় দাপট খাটিয়ে অন্যের ঋণের টাকা দিয়ে হাসপাতাল কেনা এবং মালিক হওয়ার মত অপূর্ব সুযোগ আর কোন দেশে নেই। এখানে পুকুর খননের জন্য বিদেশে ট্রেনিং নেওয়ার সুযোগ আবার খিচুড়ী রান্না শেখার জন্য পাচ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০০ কর্মকর্তার বিদেশে যাওয়ার বাজেট পাশ হয়। অবাক কান্ড!
এখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়ী চালক আবদুল মালেক হতে পারলে দুটি সাততলা ভবন, একটি দশতলা ভবন, জমি ও গরুর খামার সহ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়া যায়। (আলাদিনের চেরাগ!!)
এখানে থানা হাজতে পুলিশী নির্যাতনে আসামীর মৃত্যু হয়। নির্যাতনকালে আসামী পানি খেতে চাইলে মুখে থুতু দেয়া হয়। যেখানে পুলিশ কিনা আমাদের পরম বন্ধু! [ মিরপুর পল্লবী থানার এস আই জাহিদুর রহমান] এদেশে একটি প্রতিষ্ঠানে ৫ বার নিয়োগের পর, এগার বছর একই পদে থাকার পরও, নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ষষ্ঠ বার নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যাক্তি হিসাবে মনোনিত হয় (ওয়াসার এমডি তাকসিম এ. খান)। বেসিক ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির সাথে জড়িত মুল আসামী সে সময়কার ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর নাম দুদকের মামলা থেকে উধাও হয়ে যায়। আসলে বিষয় হচ্ছে: কুইনাইন জ্বর সারাবে, কুইনাইন সারাবে কে? দুর্নীতি দমন ব্যুরোর লোকদের থামাবে কে? ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে দুদক দায়িত্ব পালন করছে, এমন দৃষ্টান্ত নেই বললেই চলে! তারপরও বলব, সকল দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভূমি। (একটু কষ্ট হয়)
লঞ্চ এমভি ময়ুর-২ এর ধাক্কায় এমএল মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। ৩৪ জন যাত্রী মারা যায়। এর মধ্যে ১৩ ঘন্টা পর ডুবন্ত লঞ্চ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। কয়েক ঘন্টা পর সুস্থ হয়ে উঠে। অলৌকিক ব্যাপার! রাখে আল্লাহ, মারে কে? সেই একইভাবে বেঁচে যায় সাভারের রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে উদ্ধারকৃত (১৭ দিন পর) গার্মেন্টস শ্রমিক রেশমা বেগম। বর্তমানে কোথায় কিভাবে আছেন, আদৌ বেঁচে আছেন কিনা জানতে ইচ্ছা করে। তবে চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন বেঁচে থাকলে তার অনুসন্ধানীমূলক রিপোর্টে বিস্তারিত জানতে পারতাম। রানা প্লাজা ধসে পড়ার ১৭ দিন পর রেশমা বেগমকে উদ্ধারের ঘটনা সাজানো নাটক বলে দেশী বিদেশী পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর তুমুল তর্ক বিতর্ক চলে। ব্রিটেনের ডেইলি মেইল, সানডে মিরর (ট্যাবলয়েড) এবং বাংলাদেশের দৈনিক আমার দেশ (বর্তমানে প্রকাশনা বন্ধ) এটাকে সাজানো নাটক বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ইমেজ সংকট দূর করার জন্য সরকারের আরেকটি কৌশল বলে উল্লেখ করেছিল। সরাসরি রেশমাকে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয় নি। তবে উদ্ধার কাজে জড়িত সেনাবাহিনী এটাকে সাজানো নাটক বলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রেশমার বাড়িওয়ালা, তার সহকর্মী, তার বাবা মা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং সেনাবাহিনীর সাথে একমত প্রকাশ করেছেন। নয় তলা ভবন ধসে পড়ে, ১ হাজার ১৩১ জন নিহত হন এবং অনেকে নিখোঁজ।
ভারতে দুর্র্ধষ ফুলন দেবীর জীবন কাহিনী নিয়ে সিনেমা হয়েছে। বাংলাদেশে জহির রায়হানের “জীবন থেকে নেয়া”, আজিজুর রহমানের “ছুটির ঘন্টা” এর মত জীবনধর্মী সিনেমা হয়েছে। সফল পরিচালক মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী, খ্যাতিমান অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশাকে নিয়ে রানা প্লাজার রেশমার মরা বাঁচার জীবন নিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন বাংলা সিনেমা তৈরীর উদ্যোগ নিলে আমজনতা এ ঘটনা উপলব্ধি করতে পারতো। যদি সরকারের কোন বিধি নিষেধ না থাকে। পরিশেষে একটি গল্প দিয়ে শেষ করতে চাই। এক লোকের নামের আগে মৃত ছাপা হয়েছে। লোকটি তালিকাওয়ালাদের কাছে সংশোধনের জন্য গেলে তারা বলল, “আপনি যে মারা যাননি তার কোন প্রমান কি আপনার কাছে আছে? আপনি সার্টিফিকেট দেখান যে আপনি মরেননি”। নারায়ণগঞ্জের পুলিশের খাতায় মৃত ১৫ বছরের কিশোরী জিসামনি ও এই অবস্থায় পড়ে কিনা, তাকেও কি আবার প্রমান করতে হবে কিনা সে জীবিত না মৃত, এ চিন্তায় আছি।
ইতি
আপনার ভাগিনা
এ বি সিদ্দিক
মিরপুর, ঢাকা।(চলবে…)

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here