ভাগিনার খোলা চিঠি (৭)

এ বিসিদ্দিক

0
277

মামা,
আমার এ চিঠি নাকি অনেকের কাছে মিছরির ছুরির মতই। চিঠি নিয়ে জমজমাট আলোচনা আর সমালোচনা পাঠক মহলে। এর বিস্তৃতি আসমুদ্র হিমাচল। নানা কূটকৌশলে পাঠক তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করছে। এ নিয়ে আমার তেমন মাথাব্যথা নেই, অনুশোচনাও নেই। অনুশোচনা হয় যখন চেনা মানুষ অচেনা হয়ে যায়। আসল-নকল, ভাল-মন্দ বুঝতে কষ্ট হয়। নিজেকে আরো বেশি শাসন করতে ইচ্ছে হয়। নশ্বর পৃথিবীতে আসা আর যাওয়ার বিষয়টি জিজ্ঞাসা হয়ে দাঁড়ায়, আসলে যা ঘটছে, তা শুধু নীরব দর্শকের ভূমিকায় অপলক নেত্রে চেয়ে দেখছি আর মানুষের হাসিকান্না অনুভব করছি।
আসলে সব হাসিই কি হাসি হয়?
কিছু হাসির আড়ালে তো মেঘও জমে রয়।
সব কান্নাই কি কান্না হয়?
কিছু কান্নার আড়ালে তো বিজয়ও লুকিয়ে রয়।
আমরা যে দেশে বাস করছি তাতে দেখছি হতাশা আর অন্ধকার। কারণ, যে দেশে বাঘ ছাগলের বন্ধু, মন্ত্রী প্রতারকের বন্ধু, সাংবাদিক সরকারের বন্ধু, সচিব কন্ট্রাক্টরের বন্ধু, পুলিশ চোরের বন্ধু। এ দেশে যা হবার সেটাই হচ্ছে। যা ঘটার সেটাই ঘটছে। এ অসম প্রতিযোগিতা যা জ্যামিতিক বিপ্রতীপ কোণের মতই। মসজিদের ইমাম আর মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে, অপকর্ম থেকে আলাদা করা যাচ্ছে না। এরা জেনে শুনে বিষ পান করছে। দুটোই তরল পদার্থ। পানির ঘনত্ব মাপা হয় তুল্যজলাংক দিয়ে আর দুধের ঘনত্ব মাপা হয় ল্যাক্টোমিটার দিয়ে। তারপরও আমরা কেন ভন্ড-সাধু নিরূপণ করতে পারছি না? আসলে আমরা তো সাধারণ। আঁকাবাঁকা তো বুঝিনা। তারাতো অসাধারণ সেজে সাধারণের সাথে লুকোচুরি খেলছে। এরা ফরমালিন ব্যবহারে সিদ্ধহস্ত। দেশটাকে রসাতলে নিয়ে যাচ্ছে। এদের কাছে মানবপ্রেম আর দেশপ্রেম তুচ্ছ। এদের ক্ষমতা আছে কিন্তু মমতা নেই।
দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, এই শিক্ষিত, বিদ্বান, বুদ্ধিমান অঢেল অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার পরও শুধুমাত্র চেয়ারের লোভে ঘুনে খাওয়া কাঠের মতই দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নষ্ট এবং দিনের পর দিন দুর্বল করছে। এরই মাঝে আপনি আমি সবাই হানিফ সংকেতের “ইত্যাদি”র মত বেঁচে আছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, সমাজচিন্তক আবুল কাশেম ফজলুল হক (২৮ আগস্ট ২০২০, প্রথম আলো) এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “সরকারী আইন কানুন, আদালতের নির্দেশ ইত্যাদি দ্বারা গত দশ বছরের মধ্যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাতন্ত্র দারুণভাবে খর্ব করা হয়েছে। ছাত্র তরুণেরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষকেরা ফেসবুকে নানা কথা প্রচারের জন্য গ্রেফতার হচ্ছেন এবং কারাদন্ড ভোগ করছেন। এক অস্বাভাবিক রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে দেশে। সরকারের চেয়ে সরকারী দল সমাজের স্তরে স্তরে এমনভাবে দৌরাত্ম্য করছে যে লোকে অনেক বিষয়ে একান্ত ন্যায়সংগত ও আইনসংগত কথাও বলতে সাহস করে না। বুদ্ধিজীবীরাও সরকারী দলের আবর্তে বন্দী। দেশে চিন্তার চর্চা নেই। চিন্তার চর্চা না থাকাটাই সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের লক্ষণ। আমাদের সকলকেই দেশ ও জাতির স্বার্থে এই বিপর্যয় থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। দেশের সংরক্ষিত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে রক্ষা করতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী সকল অপশক্তিদের এবং ঘরের শত্রæ বিভীষণদের চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

মামা,
হতাশার মাঝেও হতাশার করুণ চিত্র। ওইদিন আমার এলাকার কিছু শিক্ষক তাদের অভিযোগের এক ফিরিস্তি পাঠিয়ে ভাগিনার খোলা চিঠিতে তুলে ধরার অনুরোধ জানায়। হতাশার ছাপ, আক্ষেপ আর দীর্ঘশ্বাসের মর্মধ্বনি অভিযোগে ফুটে উঠেছে। ফেনী সদর জেলার শাহীন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে যৌবনের সব কয়টি বছর শিক্ষকতার পেশায় কাটিয়ে এখন বিদায়ের প্রহর গুণছেন। শিক্ষার মান ও ফলাফল বিবেচনায় জেলার অন্যতম স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এটি। সুদীর্ঘ ৩৫ বছরের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই জামাত শিবিরের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকবৃন্দ নানানভাবে অবহেলিত, বঞ্চিত এবং কর্মক্ষেত্রেও কোণঠাসা। তাদের অবসর-ভাতা ফান্ড ও প্রভিডেন্ট ফান্ড কাগজে কলমে থাকলেও ব্যাংকে জমা নেই বলে অভিযোগে জানায়। কাজের নামে নানা ছল চাতুরি করে শিক্ষকদের এ ফান্ডের টাকাগুলো বিশেষ সিন্ডিকেট নিজেদের পকেটস্থ করেছে। এই দুর্নীতিবাজরা নাকি ইসলাম ইজমে বিশ্বাসী এবং নিজেদের ঈমানদার হিসেবে প্রচার এবং প্রকাশ করে। আসলে ভূতের মুখে রাম নাম। তদন্তের জন্য বারবার লোক আসে কিন্তু বিশেষ প্যাকেটের বিনিময়ে জামাই আদরে চলে যায়। তদন্তের ফলাফল শূন্য। বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ একরামুল হক ভুঁইয়া এক সাক্ষী গোপাল। কিন্তু কলেজের সকল অপকর্মের হোতা। এই জামাত নেতা ধরাছোঁয়ার বাইরের এক নাটের গুরু। তেল-পানি তার মূল হাতিয়ার। আরেক সহযোগী ফেনী জেলা জামাতের আমির শামসুদ্দিন (এসএসসি পাশ) প্রতিষ্ঠানের কেজির দায়িত্বে। প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠান থেকে লক্ষাধিক টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। এই সংঘবদ্ধ দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারো সাহস নেই। কপাল পোড়া শিক্ষা গুরুদের দুরবস্থা, হতাশার কারণ জিজ্ঞাসা করার ও তদন্ত করার কি কেউ নেই? হায়দার হোসেনের কথাগুলো মনে পড়ে যায়।
“কি দেখার কথা কি দেখছি,
কি শোনার কথা কি শুনছি,
কি ভাবার কথা কি ভাবছি,
কি বলার কথা কি বলছি,
তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি!”
৫০ তম বিজয় দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশার বাণী শুনিয়ে বললেন,“দেশের মানুষ প্রগতি, অগ্রগতি উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।” স্বপ্নের ও গৌরবের পদ্মা সেতুর সব কয়টি স্প্যান বসানো শেষ [যা ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ]। ঢাকা মেট্রো রেলের কাজ আবার পূর্ণ উদ্যমে শুরু। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ অবিরত চলছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে বিদ্যুতকেন্দ্র, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। মহাসড়কগুলোর চার লেনের উন্নয়নের কাজ চলছে। করোনার ভেতরেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আর্থ-সামাজিক সূচকের উন্নতি হয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। মুক্তিযোদ্ধা বিন্দু মামা বললেন, “দেশের বিরামহীন দুর্নীতি, নির্বাসিত সুশাসন, ভোটার ছাড়া নির্বাচন, দিনের ভোট রাতে হলেও উন্নয়নের গতিধারাতো থেমে নেই। পেটে খেলে পিঠে সয়।” ক্ষমতায় কে আসল বা কে গেল, তা নিয়ে কৃষক শ্রমিকের কোন মাথা ব্যথা নেই। ভাসানচরে রোহিঙ্গারা গেল কি গেল না, অথবা রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতাও সাধারণের চিন্তার বাহিরে বলে বিন্দু মামা মনে করেন।
মামা,
আমি কিছুটা অস্থির ও চিন্তিত। প্রায় বাকরুদ্ধ। যার ফলে আপনার সাথে আমার যোগাযোগের দীর্ঘসূত্রতা। আমার বাসার পোষা পাখিটার হঠাৎ পরিবর্তন। তার এই অসম পরিবর্তনে পরিবারের সবাই চিন্তিত। এই নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাদশাহ আকবরের সভার নবরতœদের মত গবেষণায় নিমগ্ন। ছোট্ট টিয়া পাখি রাস্তামুখী বারান্দায় লোহার খাঁচায় বন্দি। ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ আওয়াজ আর মিষ্টি মিষ্টি কথা। এ কারণে পাখিটি পরিবারের সকলের কাছে আদরনীয়। এমন কি মেহমানদের কাছেও। নজরকাড়া দৃষ্টিনন্দন পাখিটির করোনাকাল এমন কি ইহকাল পরকাল ভাবার সময় নেই। মনের আনন্দে শুধু মনিবের বন্দনা করে। মেলোডি সুরে বলে, “মামা ভাল, মামী ভাল, পরিবারের সবাই ভাল।” মেহমানদের সামনে পাখির বন্দনায় বাসার সবাই তৃপ্তির ঢেকুর তোলে। ইদানীং পাখিটা তার বোল/সুর বদল করে ফেলছে। এখন বলে, “মামা চোর, মামী চোর, পরিবারের সবাই চোর”। অদ্ভুত কান্ড! মেজবানদের সামনে লজ্জা পেতে হয়। পাকিস্তানের দোসর, স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের মানুষ ভুলে গিয়েছিল। জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ এর “বহুব্রীহি” নাটকে টিয়া পাখির মুখে “তুই রাজাকার, তুই রাজাকার” কথাটি উঠে আসে। বরেণ্য সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের টিয়া পাখির এই সংলাপ শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের কালজয়ী স্লোগান হয়ে ওঠে। প্রতিবাদী, প্রত্যয়ী, আশাবাদী দুর্বিনীত তারুণ্যের কন্ঠে উচ্চারিত এই স্লোগান হয়ে উঠেছিল গোটা জাতির বিবেকের কণ্ঠস্বর। রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম প্রাণশক্তি এই স্লোগান। ওটাতো ছিল নাটকের সংলাপ। আমার টিয়া পাখিকে এই বুলি কে শেখালো? আসলে রাস্তার পাশে বাসা আর বারান্দায় পাখির খাঁচা। রাস্তার ওপর ভ্যানগাড়ি ওয়ায়ালদের থেকে পুলিশ রোজই চাঁদা উঠায়। পাখি বারান্দা থেকে স্বচক্ষে দেখে। অন্যদিকে রাতে নিয়মিত টকশোতে ৬ হাজার টাকার বালিশ, ২৭ লাখ টাকার পর্দা, ৬ লাখ টাকার চেয়ার, ৩ লাখ টাকার দুধে মেশানো পানির পরিমাণ মাপার যন্ত্র নিয়ে আলোচনা হয়। এসব সাগর চুরির ফলে অনেকে আঙ্গুল ফুলে বট গাছ বনে যাওয়ার কাহিনী শুনতে শুনতে পাখির মনে চুরি আর হরিলুটের বিষয়টি ঢেউ খেলছে। চোর ও চুরির বিষয়গুলো ভুলতে পারছে না। এজন্য সবাইকে চোর চোর বলছে। কারণ এদের শ্রবণশক্তি প্রখর। সকলের আদরের দীর্ঘদিনের পোষা পাখি পুষব না আকাশে ছেড়ে দেব ভাবছি। পাখিরই বা দোষ কি? যে যেখানে আছে সবাই সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে। সরকারী চাকরী না জমিদারি, ভূমি অফিস অথবা হাউজিং অফিসে গেলে সহজেই অনুমান করা যায়।
মামা,
গৌরবগাঁথা এই বিজয়ের মাসে শহীদদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ বাঙ্গালী ইতিহাসের মহা ঘটনা। কোটি মানুষের স্বপ্নে, ত্যাগে, বীরত্বে রচিত হয়েছে এর ইতিহাস। বীর মুক্তিযোদ্ধা উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী। ২০০১ সালের ১৮ মে, অস্ট্রেলিয়ার পার্থের হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ১৯৭০ সালে প্রথম ঢাকায় আসেন এবং বাটা জুতা কোম্পানীর প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে বাটা জুতা কোম্পানীর টঙ্গীর কারখানায় নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী “অপারেশন সার্চলাইট” এর নামে গণহত্যা চালায়। সে সময়ের কিছু ছবি তুলে পাঠান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। বাটা কোম্পানীর মত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হওয়াতে তার বিচরণ ছিল সর্বত্র। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলেন টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী ও নিয়াজীর সাথে। তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্ণেল এম এ জি ওসমানীর সাথেও যোগাযোগ ছিল। বাটা কোম্পানীর শ্রমিকদের নিয়ে গড়ে তোলেন গেরিলা বাহিনী। যাদেরকে নিজে প্রশিক্ষণ দিতেন। কারণ তিনি নিজে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একজন সৈনিক ছিলেন। বাঙ্গালী যোদ্ধাদের নিয়ে টঙ্গী ভৈরব রেল লাইনের ব্রিজ কালভার্ট ধবংস করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। দীর্ঘ নয় মাস তিনি জীবনবাজি রেখে শত্রæপক্ষকে দমন করেন। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে ছিলেন। তিনি একমাত্র বিদেশী যিনি মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ‘বীর প্রতীক’ খেতাব পান। এ মহান মুক্তিযোদ্ধার গৌরবগাঁথা, বীরত্বের কাহিনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
হাট্টিমা টিম টিম
তাদের খাড়া দুটো শিং
তারা মাঠে পাড়ে ডিম।
এ সব পড়ার বদলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়লে নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেম বাড়বে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ জানবে। দেশের ক্ষতি করার কথা মাথায় আসবে না। কখনো দেশের সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দিবে না।
মামা,
একটা গল্প দিয়ে আজকের লেখা শেষ করব। গ্রামের এক বাড়িতে এক শ্বাশুড়ি ছিল। আচার আচরণে কৃপণ এবং স্বৈরশাসক। তার হুকুম ছাড়া বাড়ির কোন কিছুই এদিক সেদিক হয়না। তার নির্দেশ-আদেশেরই প্রাধান্য। একদিন শ্বাশুড়ি পুকুর পাড়ে ছিলেন। এরই ফাঁকে এক ভিক্ষুক বাড়িতে ঢুকে পড়ল। ভেতরে গিয়ে ছেলের বউর সাথে দেখা। ভিক্ষা চাইলে বউমা সরাসরি বলে দিল, “এ বাড়িতে ভিক্ষা দেওয়া হয় না”। ভিক্ষুক চলে যাওয়ার পথে শ্বাশুড়ির নজর ভিক্ষুকের উপর পড়ল। চলে যাচ্ছ কেন জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে বলল, “আপনাদের বউমা এ বাড়িতে ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দেওয়া হয় না বলে তাড়িয়ে দিল”। শ্বাশুড়ি তখন ওই ভিক্ষুককে আবার ঘরে নিয়ে গেল এবং বলল, “এ বাড়িতে ভিক্ষা দেওয়া হয় না”। ভিক্ষুক তখন রাগতস্বরে বলল, “এ কথাটি আপনার বউমা বলেইতো তাড়িয়ে দিল, আপনি আবার একই কথা ডেকে এনে বলার অর্থ কি? আমাকে কষ্ট দেওয়ার কারন কি?” উত্তরে শ্বাশুড়ি বলল, “এ বাড়ির কর্তৃত্ব আমার, ভিক্ষা দেওয়া, না দেওয়ার কথা বলার অধিকারও আমার”।

ভাল থেকো মামা। যতটুকু ভাল থাকতে চেয়েছিলে তার চেয়ে অনেক বেশী ভাল থেকো এই কামনাই করি।

ইতি
তোমারই ভাগিনা

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here