ভাগিনার খোলা চিঠি (৮)

0
223

এ বি সিদ্দিক

মামা,
বিল গেটসের নাম বললেই টাকা টাকা একটা গন্ধ ভেসে আসে। আব্দুল্লাহ আবু সাইয়ীদ স্যারের কথা বললে জ্ঞানের একটা বাতাস আসে। আইছুব বাচ্চুর প্রসংগ আসলে গিটারের একটা সুর ভাবনায় চলে আসে। শাইখ সিরাজের কথা বললে কৃষি বিপ্লবের আভাস আর কৃষককূলের নব জাগরণের গতিধারা, মনের ক্যানভাসে দোলনা খেলে। হাজী সেলিমের কথা বললে দখল আতংক আর বুড়িগঙ্গার বোবা কান্নার করুণ আর্তনাদ কানে ভেসে আসে। আমার নাম শুনলে ভাগিনা ভাগিনা বলে সবাই আওয়াজ তোলে। বাবা মায়ের দেওয়া আদরের নামটি দিনের পর দিন যেন মুছে যাচ্ছে। মনে হয় মুছেই যাবে। নামে কি আসে যায়?
আসলে যোগ বিয়োগ গুন ভাগ,
করে কি লাভ?
জীবন চলবে জীবনের মত
ক্ষণে সুখ ক্ষণে দুঃখবিলাস।
মামা,
কি আর বলব? এ সমাজে আইনের চেয়ে পুলিশ, নীতির চেয়ে ভীতি, সংবিধানের চেয়ে সংশোধনী, ফরযের চেয়ে নফল, মন্ত্রীর চেয়ে সচিব, সংগীতের যেয়ে সংগতের, আলেমের চেয়ে জালেমের, রাজনীতির চেয়ে বিবৃতির প্রাধান্য বেশি। এ সমাজ কতটুকু অনৈতিকতায় ডুবে আছে, তা কিন্তু অংক কষে জানার দরকার হয় না। নীতি নৈতিকতার প্রশ্নে আবালবৃদ্ধবণিতা বুদ্ধিজীবিসহ সকল জীবিরাই এখন নির্বাক ও বোবা হয়ে রয়েছে। সবাই এখন “চাচা! আপন প্রাণ বাঁচা।“
মামা,
কোটিপতির সাথে গরিবের পার্থক্য টাকায়, ক্লাসের ফার্স্টবয়ের সাথে লাস্টবয়ের পার্থক্য মেধায়, রিকশাওয়ালার সাথে পাইলটের পার্থক্য দক্ষতায়। অফিসের বসের সাথে পিয়নের পার্থক্য পদের ক্ষমতায়। ভিনদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে আমাদের দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পার্থক্য পরমত সহিষ্ণুতায়। মাদার তেরেসার সাথে আমাদের পার্থক্য মানবতায়। অথচ, আমি আপনি, রাজা বাদশাহ, মন্ত্রী সচিব, জজ ব্যারিস্টার, ধনাঢ্য বর্ণাঢ্য সবাই এক জায়গায় সমান। সেটা হল, মসজিদ, ঈদ্গাহের নামাজ ও লাশের জানাজায়। এ ছাড়া সর্বত্রই ক্ষমতার দাপট, আত্মঅহংকার ও বাহাদুরি। এক বারের জন্যও ক্ষমতা হারানোর চিন্তা মাথায় আসে না। আসলেও তোষামোদকারীরাই আসতে দেয় না। ভাবতেও দেয় না, ভাবার সুযোগও থাকে না মনে হয়।
নদীর এ কূল ভাঙ্গে ও কূল গড়ে,
এইতো নদীর খেলা,
সকালবেলায় আমির রে ভাই
ফকির সন্ধ্যাবেলা।
মাঝির মুখে গান আর নবাবের চোখের জল। সে এক বিষণœতার চাদরে ঢাকা হৃদয়বিদারক দৃশ্য। এই সেই বাংলার শেষ নবাব, অশ্রæসিক্ত নয়নে নৌকায় বসে আছে। দাম্ভিকতা আর পাশবিকতার সীমারকেও হার মানিয়েছি। ডিজিটাল নিরাপত্তা মামলায় কারাবন্দী থাকা অবস্থায় লেখক মুশতাকের কাশিমপুর কারাগারে মৃত্যুর সংবাদে দেশে বিদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে। প্রায় ১০ মাস কারাগারে বন্দী ছিলেন। মহামান্য আদালত ছয় বার তার জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। স্বামীর দুর্দশা দেখার পর থেকে লেখক মুশতাকের স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দিন যাপন করছেন। মৃত্যুর সেই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শাহবাগ থেকে প্রথম প্রতিবাদ শুরু হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব তরুন কান্তি শিকদারকে প্রধান করে সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রায় ১০ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পাওয়াকার্টুনিস্ট আহমদ কবির কিশোর তার উপর নির্যাতনের বিচারের আবেদন করেন। নির্যাতনের কারণে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না কার্টুনিস্ট কিশোর। কানে জোরে চড় মারার কারনে কান দিয়ে রক্তপাত হয়। লোহার পাত বসানো লাঠি দিয়ে গরু মহিষের মত পেটানো হয়। কিশোর হেফাজতে মৃত্যু নিবারন আইনে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন। একই মামলায় নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক কাজল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল আলম জামিনে মুক্তি পান। ডিজিটাল নিরাপত্তা মামলায় অপর আসামীদের মধ্যে রয়েছেন সুইডেন প্রবাসী তাসনিম খলীল, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক সহিদ আলম, জার্মান প্রবাসীব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, জুলকার নাইন, সায়ের খান, আশিক ইমরান, স্বপন ওয়াহিদ, ফিলিপ শুমাখার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সহ নাম না জানা আরো অনেকে। অনেকে এ মামলার আসামী, জামিনের অপেক্ষায় এমনকি আত্মগোপনে আছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধিকাংশ ধারাই জামিন অযোগ্য। সাংবাদিকসহ সকল মহল থেকে জোর দাবি উঠেছে এই আইন বাতিল কিংবা সংশোধনের। এই আইনে একদিকে মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ আইন বাতিল বা সংশোধন এখন সময়ের দাবি।
মামা,
গান্ধী হত্যাকারী নাথুরাম গডসের মন্দির হচ্ছে ভারতের মধ্য প্রদেশ রাজ্যে। বিষয়টি ব্যতিক্রমধর্মী। ভারতের কংগ্রেস বিজেপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে। বিজেপি সরকারের সমর্থনে জাতির পিতার হত্যাকারীর মন্দির নির্মাণ হচ্ছে বলে কংগ্রেস মনে করে।
হত্যাকারীর মন্দির নির্মাণ মানে জাতির পিতার প্রতি চরম অশ্রদ্ধা ছাড়া কিছু নয় বলে সচেতন মহল মনে করেন। ইতিহাসের চাকা উল্টো দিকে কিভাবে ঘুরে তা বুঝা মুশকিল। ২০১৫ সালে বিজেপির সাংসদ স্বাক্ষী মহারাজ গডসেকে দেশপ্রেমিক হিসেবেও আখ্যা দেন। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারী ভারতের জনক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে দিল্লির বিড়লা হাউজে বিকেলের প্রার্থনায় যাওয়ার সময় সম্মুখদিক থেকে পিস্তল থেকে পরপর তিনটি গুলি ছুঁড়ে হত্যা করেন নাথুরাম গডসে। গান্ধীকে দেশভাগের জন্য দায়ী করেন। নাথুরাম গডসে উগ্র হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। ১৯৪৯ সালের ১৫ নভেম্বর গডসে আর তার সহযোগী নারাছু আপ্তের ফাঁসি হয় পাঞ্জাব রাজ্যের আম্বালা জেলে। সেইদিন স্মরণ করেই হিন্দু মহাসভা গোয়ালিয়রে তাদের দপ্তরেই গডসের মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তাদের মৃতদেহ পরিবারের হাতে না দিয়ে জেল কর্তৃপক্ষ অন্তিম সৎকারের ব্যবস্থা করেন। চিতার আগুন নিভে যাওয়ার সময় অত্রী নামে হিন্দু মহাসভার এক কর্মী সেই শ্মশানে যান। সেখান থেকে কিছুটা অস্থি সংগ্রহ করে গডসের পরিবারের কাছে তুলে দেন। যা একটি রূপোর কলসে রাখা হয়েছে। তার অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী যখন অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠিত হবে তখন সিন্ধু নদে অস্থি বিসর্জন দেওয়া হবে। মন্দির নির্মাণ যেমন নিন্দনীয় তেমনি শিক্ষণীয়ও বটে। ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অন্যতম হোতা। অথচ তারাই আবার ক্ষমতায় এমনকি আমাদের কাছে পূজনীয় ও বরণীয়। ভারতের কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী এক সমাবেশে নাথুরাম গডসে ও মোদির মতাদর্শ একই বলে মন্তব্য করেন। নিজ দেশের জাতির পিতার হত্যাকারীর মন্দির নির্মাণের অনুমতি (প্রতিবাদ না জানিয়ে) দিয়ে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো স্ববিরোধী মনোভাব এবং মাছের মায়ের পুত্রশোকের মতই।
মামা,
করোনা ভাইরাস বিষয়ে আলোচনা করা থেকে বিরত ছিলাম দীর্ঘদিন। এই অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাসকে শুরু থেকে চরম বিস্বাসঘাতক বলে মনে হয়েছে। মানবজাতিকে ধ্বংস এবং কিছু শিক্ষা দিয়ে যাওয়ার জন্য এই করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি বা জন্ম। এই ভাইরাস আমাকে বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনহারা করেছে। চাকরি জীবনের শুভাকাঙ্খী এবং অত্যন্ত কাছের জন সাংবাদিক নেতা আবদুস শহীদ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। দেখার জন্য হাসপাতাল কিংবা লাশের দাফন বা জানাযায় উপস্থিত থাকতে পারিনি। করোনায় মৃত্যুবরণ করা শ্বশুরের মুখখানিও শেষবারের মত দেখার সুযোগ হয়নি। দুঃখ কষ্ট এবং এদের সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অনেক স্মৃতি মনের মাঝে ভেসে উঠে। এই ভাইরাস মৃত্যুকালে বাবা থেকে ছেলেমেয়েকে, মা থেকে ছেলেমেয়েকে, স্বামী থেকে স্ত্রীকে, প্রেমিক থেকে প্রেমিকাকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। সভ্যতার এই চরম উৎকর্ষের দিনেও এই ভাইরাস অল্প সময়ে বিশ্বজনপদের ভাঁজে ভাঁজে পৌঁছতে দেরী হয়নি। এই করোনাকে তস্কর বলে গালিমন্দ করলেও সিঁদকাটা চোরের মত অতি সন্তর্পণে মানুষের নাক মুখ চোখ দিয়ে গলদেশে অনুপ্রবেশ করে। সর্দি কাশি জ্বরের মাধ্যমে এমনকি শ্বাসকষ্টের মাধ্যমে জীবননাশের হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি মৃত্যু ঘটিয়ে ছাড়ে। এ যাবত বিশ্বে প্রায় ১৩ কোটি মানুষ করোনাতে আক্রান্ত। ২৭ লাখের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। এছাড়া সংক্রমণ ও মৃত্যু লাগাতার চলছে। কোন কোন দেশে করোনার দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। আবার ভ্যাকসিনের ব্যবহারও চলছে। তারপরও করোনার বীভৎসতা এখনো কমেনি। তবে করোনা মানবজাতিকে কিছু মৌলিক শিক্ষা দিয়েছে। তা হলো
* সব ক্ষেত্রে মানুষ মানুষের জন্য নয়। কখনো কখনো মানুষ বড় একা ও চরম অসহায়।
* প্রচুর অর্থ সম্পদ এক পর্যায়ে কোন কাজে আসে না। যমুনা গ্রুপের বাবুল সাহেব এর প্রমাণ দিয়ে গেলেন। মৃত্যু শয্যায় বাবুল সাহেব ডাক্তারকে বললেন, “ডাক্তার সাহেব, আমার সব সম্পদ লিখে নিন। তারপরও আমাকে শান্তি দিন, বাঁচতে দিন।
* আধুনিক সমরাস্ত্র মিসাইল, গোলাবারুদ, বোমারু বিমান করোনার কাছে একেবারে তুচ্ছ। উন্নয়ন সভ্যতার নব নব সৃষ্টি সব কিছুই ক্ষুদ্র। করোনার কাছে নিষ্প্রভ হয়ে গেছে। একটা সীমারেখার মধ্যে মানুষের চলা উচিত। প্রকৃতি মানুষকে রক্ষা করে, মানুষেরও প্রকৃতিকে রক্ষা করা উচিত। চন্দ্র বা সূর্য নির্দিষ্ট গতিতে নিজ কক্ষপথে ঘুরছে। যদি একবার গতি পরিবর্তন করে উল্টো পথে চলে তাহলে পৃথিবীর কি অবস্থা হবে? মানুষ কি কখনো সীমারেখার কথা ভাবে? প্রকৃতির গতি প্রবাহকে রদ করে উন্নয়ন ও সভ্যতার নামে নিজেদের সর্বনাশ নিজেরাই ডেকে এনে, আধিপত্যবাদের কৃতদাস হয়ে মারছে লক্ষ লক্ষ মানুষ।
* যা পাই, তাই খাই নীতি বর্জন করে সুষম খাদ্যাভাস গড়ে তোলা, যা শরীর গঠন ও রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
আসলে মামা, করোনার সাথে আমাদের মানুষেরও সাদৃশ্য রয়েছে। মনুষ্য সমাজে ঘুষখোর, অসুস্থ ব্যবসায়ী, অধিক মুনাফাখোর, অসৎ আমলা, অসৎ রাজনীতিবিদ, ভূমিদস্যু, ধাপ্পাবাজ, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, অধিক সুবিধাভোগী যারা বাড়ি, গাড়ি, একাধিক ব্যাংক ও অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক। এদের অধিকাংশের চেহারা করোনার মত গোলগাল নাদুস নুদুস এবং এরাই বরাহ জাতকের চোয়ালের মত এদের চোয়ালে চর্বি জমে গেছে।
স্বনামে বেনামে দেশে বিদেশে অনেক সম্পত্তি এদের। এরা চলে অতি সন্তর্পণে এবং ধীর গতিতে। লক্ষ্য অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা। করোনা যেমন একেক দেশে একেক রূপ ধারন করে, এরাও তেমনি একেক সময় একেক রাজনৈতিক দলে যোগ দেয় এবং ভোল পাল্টায়। আবার কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দল বা ব্যক্তিকে তোষামোদ, আনুগত্য বা অতি লেহনের মাধ্যমে কাজ হাসিল করে। মানব সমাজে এরা সবাই একেকটা কোভিড ভাইরাস। করোনা ভাইরাস মানবদেহে ঢুকে ক্রমান্বয়ে ফুসফুস, হার্ট, কিডনী ও অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে কব্জা করে। এই মানুষরূপী ভাইরাসরাও কিন্তু সমাজদেহের বিচার প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, সভ্যতা, বিবেক, আস্থা ও বিশ্বাস সবকিছুকে ক্রমান্বয়ে কব্জা করে ফেলে। করোনার আক্রমণ ক্ষণস্থায়ী কিন্তু এদের আক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী। করোনার কারণে ১ থেকে ২% মানুষের মৃত্যু ঘটে। অথচ এদের আক্রমনে শতভাগ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদের কারণে অধিক সংখ্যক মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়। আরেক প্রজাতি যারা আধিপত্য বিস্তারকারী যুদ্ধংদেহী ও সন্ত্রাসী ভাইরাস, যাদের কারণে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটে। মনুষ্যরূপী ভাইরাসকে প্রতিহত করার কোন সঠিক প্রয়াস নেই। এদের সংখ্যা দিনের পর দিন বাড়ছে। করোনা ভাইরাস নির্মূল করার জন্য বিজ্ঞানীরা যেমন উঠে পড়ে লেগেছে, তেমনি মনুষ্যরূপী করোনা ভাইরাসকে নির্মূল করার জন্য সমাজচিন্তকদের জেগে উঠতে হবে। একটি সামাজিক বিপ্লবের মাধ্যমে শোষনমুক্ত নির্ভেজাল সমাজ গড়ে তুলে সমাজে শান্তি ও সমতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
মামা,
ছোট একটি গল্প দিয়ে আজকের চিঠি শেষ করছি। এক দেশে খালেক এবং মালেক নামে দুই বন্ধু ছিল। এক বিবাহ অনুষ্ঠানে দুই জনই আমন্ত্রণ পান। এক সাথে বসে খাওয়া দাওয়া করছিল। খাওয়ার এক পর্যায়ে খালেক মালেককে তার পাতের ডিমটি তুলে দিয়ে বলল, “ডিমটি খেয়ে ফেল, তবে সময়মত বাজারদর অনুযায়ী ডিমের মূল্য দিয়ে দিও।” শর্ত মেনে মালেক ডিম খেয়ে ফেলে। দাম আর পরিশোধ করা হলো না। কয়েক বছর পর খালেক মালেকের কাছে ডিমের দাম চেয়ে বসল। হিসেব করে বলল, “এই ডিম থেকে বাচ্চা এবং বাচ্চা থেকে আরো অনেকগুলো বাচ্চা হতো। বিক্রি করলে এত বছর পর আমার লক্ষাধিক টাকা হতো।“ খালেক মালেকের কাছে ডিমের দাম বাবদ লক্ষাধিক টাকা দাবি করল। বিষয়টি রাজদরবার পর্যন্ত গড়ালো। রাজামশাই বিষয়টি শুনে ডিমের দাম নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে না পারলে মালেকের গর্দান কেটে নেওয়া হবে ঘোষণা দিলেন। বেচারা মালেকের কান্নাকাটি। রাজ দরবার থেকে বের হয়ে ক্রন্দনরত অবস্থায় বাড়ির দিকে রওনা দিল। পথিমধ্যে রাজকুমারের সাথে দেখা। রাজকুমার ঘটনা ও রায় শুনে মালেককে বললেন, “তুমি আগামীকাল ভোরে রাজামশাই উঠার আগে, রাজপ্রাসাদের চতুর্দিকে ভাত ছিটাতে থাকবে। কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলবে রাজকুমারের আদেশ এবং এই ভাত থেকে ধান হবে।” কান্ড দেখে রাজদরবারের পাইক পেয়াদারা তাকে বেঁধে রাজদরবারে নিয়ে আসল। রাজামশাই খুব ক্ষিপ্ত হয়ে সাথে সাথে রাজকুমারকে রাজদরবারে তলব করলেন। রাজা তার রাজ আসনে বসল এবং পুত্রধন কে জিজ্ঞেস করলেন, “কেন ওই লোককে ভাত ছিটানোর নির্দেশ দিয়েছ?” উত্তরে রাজকুমার বললেন, “এই লোকটি যে ডিম খেয়েছে তা ছিল সিদ্ধ। সেই সিদ্ধ ডিম থেকে যদি বাচ্চা হয়, তবে ভাত থেকে ধান হবে না কেন রাজামশাই?” রাজামশাই তার ভুল বুঝতে পারলেন ও লোকটিকে মাফ করে দিলেন। রাজকুমারকে রাজ সিংহাসনে বসিয়ে রাজা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেন।
ইতি
তোমারই ভাগিনা
(চলবে)

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here