মানিক চন্দ্র দে’র কবিতা

পৃথিবীর ভেজা বুক

আজকের এই ঝরো ঝরো বাদল ধারা,
করেনি আমায় আত্মহারা।
মূহুর্মুহু বিদ্যুৎ চমক করেনি আমায় রোমাঞ্চিত
আমি দুঃখিত।
আমার পরমপূজনীয় রবীঠাকুর!
ক্ষমা করো আজ আমায় তুমি।
আমার বুকেই যে আজ বিদ্যুৎচমক
চোখ থকে ঝরে অবিরত ধারা।

আমাদের আজ মহাঅসুখ;
পৃথিবীর বুক আজ ভিজে গেছে
তার প্রিয় মানুষের কান্নার জলে।

চারিদিকে আজ হাহাকার!
পিতার কাঁধে বইতে না পারা
পুত্রের লাশের বিশাল শিলার মত শোকের পাথর।
স্বামীহারা বিধবার আর্তনাদে
আকাশ বাতাস আজ প্রকম্পিত।

মৃত সন্তানের মুখ মমতাময়ী মা দেখেনা,
পিতা তার রক্ত জল করা লালিত পুত্রের লাশ দেখেনা,
মৃত স্ত্রীকে প্রিয়তম স্বামী ছোঁয়না,
মৃত প্রেমিকার বুক প্রেমিক জড়িয়ে ধরেনা,
এ কেমন মৃত্যু,
কেমন অশ্রুজল!
কেমন এ বাদলধারা?
পড়েনা লাশের গায়ে,পড়ে পৃথিবীর গা’য়!
বিরহী প্রেমিকের বিষের করুণ বাঁশির রাগিনী
শরতের নীলিমাকে গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে দেয়।
অন্ধকার নেমে আসে চারদিকে,
বানের প্রবল স্রোতে পাড় ভেঙে বিলীন হয় নদীতে,
ধ্বসেপড়ে ঘর – বাড়ি, সাজানো বাগান, কাঁচের মত চূর্ণবিচূর্ণ স্বপ্নগুলো সব ভেসে যায় অনিকেত পানে।

তবে কি পৃথিবী ও আজ কাঁদছে তারই প্রিয়তম সৃষ্টি,
এই মানুষের জন্য?
যাকে অসাধারণ একটি মাথা দিয়ে, অতুলনীয় হৃদয় দিয়ে,মায়াময় দুটো চোখ দিয়ে গড়েছিল একদিন–
পরম মমতায়।
সে তো তার সবচেয়ে প্রিয়, সব প্রাণীর চেয়ে সেরা
হবেই।
বুঝি, তা’র অকাল প্রয়ানে প্রকৃতির বুকে আজ
শোকের অনল, কাদাজলে বিবর্ণ শরীর।

এ কথা জানাতেই কি আজকের এই বর্ষণ, বিদ্যুতের এই চমক?
জনিনে, জানিনে জানিনে।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here