মানিক চন্দ্র দে’র কবিতা 

0
25
দুঃখ
দুঃখের কোদাল দিয়ে বেদনা খুঁড়ে
 বের করেছে সবাই কত কী!
হয়েছে মহান, অমর  মানুষের কাছে।
আমার ছাই  কিছুই  হয়না!
শুধু শুধু  ‘বুঁদ’ হয়ে বসে থাকা
দু’ পেগের স্হলে  ছ’ পেগ গেলার মতই।
লালন থেকে রবীন্দ্রনাথ,  নজরুল
জীবনানন্দ বা শাহ  করিমেরা
গান, কবিতা, উপন্যাস দিয়ে
 এনেছেন  কত আনন্দের,  বিদ্রোহের
স্রোতস্বিনী ধারা, গঙ্গারই মত।
ব্রহ্মার তেজে যার সৃষ্টি, মহাদেবের জটায় পড়ে, নির্মল।
গুণীজনেরা, মরমী কবিরা  বলেন দুঃখের
আগুনে না পুড়লে নাকি  সোনা খাঁটি হয়না।
আমিতো ছাই সোনা দূরে থাক
রূপোও হতে পারলাম না!
পুড়ে পুড়ে খাক হয়ে  ক্রমশ
ভরে দিচ্ছি পৃথিবী ছাই আর নোনা জলে
আমার ছাই কিছুই নামেনা
বিশ্বময় দুঃখের মাঝে  কত  আনন্দ,কত সত্য।
আমারএমনই  কষ্ট, দূর ছাই!
বলতেও পারিনা কাউকে।
কেবলই জ্বলে মরি, গলে পড়ি
বেদনার নীল দংশনে  অদৃশ্য চোখের জলে।
স্বপ্নে দুঃখ, জাগরণে দুঃখ,  স্মৃতিতে দুঃখ
এত দুঃখ লালন, কবি গুরুরা  পেলে
হিরা মণিতে আরো  পূর্ণ করে দিতেন
তাঁদের ভান্ডার – অবলীলায়।
আমি একটা গাধা,  নাকি  বোকা?
না হয় খুঁড়ে খুঁড়ে,   ইচ্ছে করে এত বেদনা জাগাই কেন?
চুপটি মেরে বসে থাকি,
 অনর্থক সময় নষ্ট!
দু;খ দিয়ে সৃষ্টি করে অনিঃশেষ হওয়ার
কায়দাটা আগে রপ্ত করো!
সময় যে চলে গেল!
অকারণে অবহেলায় ।
মূল্যহীন গড়িয়ে  যায় অমূল্য  এ সময়!

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here