শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করবে এটুআই-রুম টু রিড

0
10

প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষকগণের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ বিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে আজ অনলাইন মাধ্যমে রুম-টু-রিড-এর সঙ্গে এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

উক্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. আব্দুল মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন এটুআই প্রোগ্রামরে যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) সেলিনা পারভেজ। অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে যুক্ত ছিলেন রুম-টু-রিড-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর রাখী সরকার।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় রুম-টু-রিড তাদের চলমান কার্যক্রমসমূহ ডিজিটাল মাধ্যমে রুপান্তর এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এটুআই-এর কারিগরি সহায়তায় গ্রহণ করবে এবং ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ‘মুক্তপাঠ’, শিক্ষক বাতায়ন এবং কিশোর বাতায়নের মাধ্যমে এই বিষয়ক ডিজিটাল কনটেন্ট প্রশিক্ষণ এবং সরবরাহ করবে। এই সমঝোতার মাধ্যমে গৃহীত উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়িত হলে স্বল্পতম সময়ে সর্বাধিক সংখ্যক উপকারভোগী তথা প্রায় ৪.৫ লাখ প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের নিকট পৌঁছানো এবং তাদের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতার উন্নয়নে ভুমিকা রাখা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, রুম-টু-রিড-এর সাথে সম্মিলিত এই প্রয়াস আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের এই যৌথ কর্মপরিকল্পনা সামনে শিক্ষা খাতে নতুন কাজের পরিধি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেলিনা পারভেজ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে মুক্তপাঠ, শিক্ষক বাতায়ন ও কিশোর বাতায়নের মতো প্লাটফর্মগুলোর সাথে অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তার সাথে আজ যুক্ত হলো রুম-টু-রিড। এই সমঝোতার মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবো আমরা। আমাদের এই পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমরা আরো অগ্রসর হব।

সভাপতির বক্তব্যে জনাব রাখী সরকার বলেন, করোনার কারণে শিশুদের যে শিক্ষা ক্ষতি হয়েছে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। রুম-টু-রিড শিশুদের ঘরে বসে থাকাকালীন সময়ে শিক্ষা চলমান রাখার জন্য অনেক ডিজিটাল এডুকেশন রিসোর্স তৈরি ও বিতরণ করেছে। এটুআই-এর প্লাটফর্মগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আরো বেশি লার্নিং রিসোর্স তৈরি করা এবং অনেক বেশি মানুষের কাছে এই রিসোর্সগুলো পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

রুম-টু-রিড বাংলাদেশ-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার জনাব তনিমা ফেরদৌস এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান আরো উপস্থিত ছিলেন এটুআই-এর ই-লার্নিং স্পেশালিষ্ট জনাব মো. আফজাল হোসেন সারওয়ার, রুম-টু-রিড বাংলাদেশের লিটারেসি ডিরেক্টর মো. জিল্লুর রহমান সিদ্দিকি, এটুআই-এর ন্যাশনাল কনসালটেন্ট জনাব মেহদি হাসান, রুম-টু-রিড বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব সাকিনা খানম এবং এটুআই ও রুম-টু-রিড বাংলাদেশের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এর বাস্তবায়নাধীন ও ইউএনডিপি এর সহায়তায় পরিচালিত এটুআই প্রোগ্রাম শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে নানা ডিজিটাল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। অন্যদিকে রুম-টু-রিড ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা যারা বাংলাদেশসহ ২২-টি দেশে ১৬.৬ মিলিয়ন শিশুদের সাক্ষরতা উন্নয়ন ও শিক্ষায় লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। রুম-টু-রিড বাংলাদেশে ২০০৮ সালে কার্যক্রম শুরু করে এবং পরবর্তীতে প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনক্রমে দেশব্যাপী প্রায় ১৬৫০-টির অধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কার্যক্রম মোবাইল লাইব্রেরি পরিচালনা করছে। পাশাপাশি, পঠন-শিক্ষণ পদ্ধতিতে নতুনত্ব আনতে শিক্ষকগণের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের জন্য পঠন-শিক্ষণ বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ (যেমন- বেসিক লিটারেসি ইন্সট্রাকশন, রিডিং ইন্সট্রাকশন, রিডিং অ্যাসেসমেন্ট, ই-বুক ডেভেলপমেন্ট, লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি) পরিচালনা করে আসছে।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here