শ ম রেজাউল হারালেন পূর্ত মন্ত্রণালয়

আওয়ামী লীগের পদবি থেকে বাদ পড়ার পর এবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকেও সরে যেতে হলো শ ম রেজাউল করিমকে। তাকে এই মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে রেজাউল করিমসহ তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর রদবদলের কথা জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরুকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এই রদবদলের ফলে এখন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে কোনো পূর্ণ মন্ত্রী নেই।

সংশ্নিষ্ট সূত্র বলছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে রেজাউল করিমকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী করায় তার এক ধরনের পদাবনতিই হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মন্ত্রী হওয়ার পর রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ ও সমালোচনার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার ওপর কিছুটা ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ‘বালিশ কেলেঙ্কারি’ নিয়ে সারাদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই ঘটনা সঠিকভাবে মোকাবিলাসহ যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হন রেজাউল করিম। এটা নিয়েও প্রধানমন্ত্রী তার ওপর অসন্তুষ্ট হন।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের কাজেও সাবেক এই আইনজীবী নেতা ততটা দক্ষতা ও পারদর্শিতা দেখাতে পারেননি বলে অনেকে মনে করেন। প্রথমবারের মতো এমপি ও মন্ত্রী হওয়ায় তার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অনেকটা প্রত্যাশাও ছিল। তার সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়াতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে এনেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতি আনতে শরীফ আহমেদকে নতুন করে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় এসেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বলে মনে করা হয়।

গত ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে বাদ দেওয়া হয় রেজাউল করিমকে। সরকার ও দলকে আলাদা করার পরিকল্পনা থেকে তিনিসহ নয়জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে দলীয় পদ-পদবি থেকে বাদ দেওয়া হয়। রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দলীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও কিছুটা শৈথিল্য ও অদক্ষতার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, শিগগিরই মন্ত্রিসভায় আরেক দফা রদবদলের গুঞ্জন রয়েছে। সে ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার সদস্যদের দপ্তর পুনর্বণ্টনের পাশাপাশি নতুন করে কাউকে কাউকে মন্ত্রিসভায় দেখা যাওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে। গতকাল তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বদলের মাধ্যমে এ গুঞ্জন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

নতুন সরকার গঠনের পর গতকাল তৃতীয়বারের মতো মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হলো। তবে এখন পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর গত বছরের ১৯ মে মন্ত্রিসভায় প্রথম রদবদল আনা হয়। সে সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ছাড়াও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বরত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়। একই বছরের ১৩ জুলাই প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদকে পদোন্নতি দিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের গত কমিটির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরাকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে দ্বিতীয় দফায় মন্ত্রিসভায় সামান্য রদবদল আনা হয়।

বর্তমানে মন্ত্রিসভায় ২৫ মন্ত্রী, ২০ প্রতিমন্ত্রী এবং তিন উপমন্ত্রী মিলিয়ে ৪৮ জন সদস্য রয়েছেন।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here