সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে দূতাবাসে প্রবাসী

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

0
2

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট গ্রামে এক সরকারি কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ইতালি প্রবাসীর জায়গা-জমি দখলে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পরিত্রাণ চেয়ে প্রবাসী তাজুল ইসলাম ইতালির বাংলাদেশি দূতাবাসে লিখিত আবেদন করেছেন। ওই আবেদনের অনুলিপি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে দেয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা ছদর উদ্দিন মানিকের প্রভাবে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী তাজুল ইসলামের।

এছাড়া প্রবাসীর জায়গায় লাগানো লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগে কাস্টমস বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মানিক ও তার মা-বাবাসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

মানিক বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন তিনি।

দূতাবাসে করা আবেদনে বলা হয়, প্রবাসী তাজুলের বড় ভাই আবু শামীমের ছেলে মানিক ও তার পরিবারের অন্যান্যরা মিলে পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে তাজুলের পাওয়া বাড়ি সংলগ্ন ১১ শতাংশ জমি ও ২৪ শতাংশের একটি পুকুরের জায়গা গ্রাস করে নিয়েছেন।

প্রবাসী তাজুল জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে তিনি প্রবাসে অবস্থান করছেন। তার পরিবারের সদস্যরাও প্রবাসে আছেন। তার বাড়ি সংলগ্ন ১১ শতাংশ জায়গাসহ ২৪ শতাংশের একটি পুকুর মৃত তঞ্জব আলীর ছেলে দুলাল মিয়ার কাছে লিজ দেন তিনি। কিন্তু লিজ দেয়া এই জায়গাগুলো ছদর উদ্দিন মানিক ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে গ্রাস করে নিয়েছেন। তারা লিজের মালিককে গাছ ও মাছ ভোগ করতে দিচ্ছেন না।

লিজ গ্রহীতা দুলাল মিয়া জানান, পাঁচ বছরের জন্য পুকুর ও তিন বছরের জন্য বাড়ি সংলগ্ন জায়গা লিজ নেন তিনি। এর মধ্যে পুকুরে চাষ করা মাছগুলো বিষ ঢেলে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন মানিক ও তার পরিবারের লোকজন। জমিতে লাগানো গাছগুলোও কেটে নিয়েছেন তারা।

গেল ৩ এপ্রিল গামারি ও মেহগনিসহ লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে নেয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে কোনো বিচার না পেয়ে ২০ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মানিকসহ চারজনের বিরেুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুলাল। তবে মামলা দায়েরের প্রায় এক মাস হতে চললেও অভিযুক্তরা আইনের আওতায় না আসায় ক্ষোভ জানান তিনি।

দুলালের মতো প্রবাসী তাজুলের মালিকানাধীন ৪১ শতাংশ আয়তনের আরেকটি জমি লিজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার গোকর্ণ গ্রামের হাজী গণি মিয়ার ছেলে আরস মিয়া। লিজের জায়গায় আরসের অনুমতি ছাড়াই দোকান দিয়েছেন তাজুলের বড় ভাই আবু তাহের।

আরস মিয়া বলেন, আমার লিজ নেয়া ৪১ শতাংশ জায়গায় একটি স্কুল রয়েছে। স্কুল কমিটি আমাকে ভাড়াও দিচ্ছে। কিন্তু আমার অনুমতি ছাড়াই তাজুলের বড় ভাই আবু তাহের জোর করে স্কুলের পাশে দোকান বসিয়েছে। দোকান সারিয়ে নিতে বললে আমাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় আমি মামলাও করেছি। সবকিছুই হচ্ছে মানিকের প্রভাবে।

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ছদর উদ্দিন মানিক তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।

এ ব্যাপারে নবীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, মামলার নথিপত্র দেখে ও তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে বলা যাবে।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here