সাতক্ষীরার সেই শিশুর দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় বেঁচে যাওয়া সেই শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ঘরে ঢুকে এক দম্পতি ও তাদের দুই শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুবৃর্ত্তরা। পাশে থাকা ও বেঁচে যাওয়া পাঁচ মাসের শিশু কন্যা মারিয়ার কান্না যেন থামছেই না। চারিদিকে খুঁজে বেড়াচ্ছে তার মা ও পরিচিত মুখগুলোকে।

বুধবার গভীর রাতে উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলসি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহতরা হলেন- খলসি গ্রামের মৃত শাহাজান আলীর ছেলে হ্যাচারি মালিক মাছ ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান (৩৭), শাহিনুরের স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩০), ছেলে সিয়াম হোসেন মাহি (১০) ও মেয়ে তাসনিম (৮)।

শিশু মারিয়ার কান্নার শব্দেই ঘরে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান নিহত শাহীনুরের ছোট ভাই। এ ঘটনায় তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

উঠানজুড়ে উৎসুক মানুষের ভিড়। পুরো একটি পরিবার নিঃশেষ হয়ে যাওয়ায় স্বজনদের আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের সময় ৫ মাসের ভাতিজি মারিয়ার কান্নার শব্দ শুনে মোবাইল ফোনে বড় ভাই শাহিনুরকে কল করেন ছোট ভাই রাহানুর রহমান। কেউ ফোন না ধরায় এবং মূল ফটক বন্ধ পাওয়ায় ছাদ দিয়ে ঢোকেন ঘরে। এ সময় শাহিনুর-শাহিদা দম্পতি, তাদের ১০ বছরের ছেলে সিয়াম ও ৮ বছরের মেয়ে তাসনিমের রক্তাক্ত মরদেহ খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাদের পাশেই শুয়ে কাঁদছিলো শিশু মারিয়া। প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি ও মাছ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড বলে দাবি স্বজন ও এলাকাবাসীর।

ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) হারান পাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিজের ঘরের মধ্যে শাহিনুর রহমান, তার স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে শাহিনুরের পা বাঁধা ছিল এবং তাদের চিলেকোঠার দরজা খোলা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে- ছাদের চিলেকোঠার দরজা দিয়ে হত্যাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here