সামাজিক মাধ্যমে যেসব কর্মকাণ্ডে ব্যক্তিত্ব নষ্ট হতে পারে

0
4

আমার কাগজ ডেস্ক :

ডিজিটাল যুগে এসে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে অনেক কিছুই এখন সম্ভব যা আগে মোটেও সম্ভব ছিল না। তবে এর বিড়ম্বনাও কম নয়। সামাজিক মাধ্যমের সুবিধা যেমন রয়েছে তেমন অসুবিধাও কম নয়। এখানে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি খেয়াল করা উচিত তা হলো নিজেকে উপস্থাপন। কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকা অ্যাকাউন্ট আপনার ব্যক্তিত্বের অনেকখানি প্রকাশ করে। সামাজিক মাধ্যমে যেসব বিষয়ে আপনার খেয়াল রাখা জরুরি সেগুলো হলো-

প্রোফাইল পিকচার

ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে দ্রুত এবং সহজে চেনার উপায় হলো তার প্রোফাইল পিকচার। অনেকেই প্রোফাইলে নিজের ছবি না দিয়ে অন্যান্য ছবি দিয়ে রাখেন। যদি নিরাপত্তা বা উদ্বেগের বিষয় না থাকে তাহলে প্রোফাইলে নিজের ছবি দেয়া উচিত। তাছাড়া প্রোফাইল ছবিটি অবশ্যই মার্জিত হওয়া প্রয়োজন। প্রোফাইলে যদি কেউ এমন কোনো ছবি দেন যা কোনো কারণে বিরক্তিকর মনে হয় তাহলে সেটি অবশ্যই আপনার ব্যক্তিত্বকে ছোট করবে।

পরিচিতি

বেশিরভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীই তাদের পরিচয় উল্লেখ করেন। অনেকে আংশিক আবার অনেকে বিস্তারিত পরিচয় তুলে ধরেন। তবে সামাজিক মাধ্যম যেহেতু একটি পাবলিক প্লাটফর্ম সেখানে বেশি বিস্তারিত পরিচয় না তুলে ধরাই ভালো। এছাড়া কিছু দরকারি পরিচয় ছাড়া বাকিগুলো প্রাইভেসি করেও রাখতে পারেন। আপনি যদি আপনার পরিচয় দিতে গিয়ে বা কর্ম সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ছোট বড় অনেককিছু এক করে বিশাল বড় করে ফেলেন তবে সেটি দেখতেও খুব বেশি ভালো দেখায় না। নিজের আকর্ষণীয় পরিচয় প্রকাশ করুন।

অপ্রয়োজনীয় ও ঘন ঘন পোস্ট

এমন অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী রয়েছেন যারা দিনে বেশ কয়েকটি পোস্ট করেন, যার বেশিরভাগই বলতে গেলে অপ্রয়োজনীয়। আপনিও যদি এমনটি করে থাকেন তাহলে সেটি আপনার ব্যক্তিত্বকে নষ্ট করছে। আপনার যারা ফ্রেন্ড বা ফলোয়ার তারা আপনার প্রতি বিরক্তও হতে পারে।

গ্রুপ বা পেজে ইনভাইটেশন

ফেসবুকের বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই এ নিয়ে বিরক্তির কথা জানিয়েছেন। অনেকে বলেছেন যে দিনে তার অনেকগুলো গ্রুপ বা পেজের ইনভাইটেশনের নোটিফিকেশন আসে, যেগুলো বিরক্তিকর মনে হয়। এখন অনেকেই অনলাইনে ব্যবসা করছেন। আপনার যদি এমন কোনো ব্যবসা থাকে তাহলে তার জন্য আপনি বন্ধুদের ইনভাইট করতে পারেন তবে আগে তাদের সঙ্গে কথা বলে নেয়া জরুরি। এছাড়া হরহামেশা কোনো গ্রুপে বন্ধুদের ইভাইট করার মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।

মেসেজ গ্রুপে অ্যাড করা

আপনি কোনো একটা উদ্দেশ্যে মেসেজ গ্রুপ খুলেছেন। সেটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ হতে পারে। তবে সেই মেসেজ গ্রুপে যাদের অ্যাড করবেন অবশ্যই তাদের থেকে আগে অনুমতি নেয়া জরুরি। কারণ আপনার কাছে জরুরি মনে হলেও যাকে অ্যাড করছেন তার কাছে এটি ততটা জরুরি নাও হতে পারে। আবার তিনি অন্য কাজে ব্যস্তও থাকতে পারেন।

ট্যাগ করা

নিজের পোস্টে অপ্রয়োজনে অনেককে ট্যাগ করার প্রবণতা অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর মধ্যেই রয়েছে। এই অভ্যাসটি আপনার জন্য সুখকর হলেও যাদেরকে ট্যাগ করছেন তারা বিরক্ত হতে পারেন।

না বুঝে ভিডিও বা পোস্ট শেয়ার করা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যের ভিডিও ও পোস্ট কমবেশি সবাই শেয়ার করেন। তবে এক্ষেত্রে খুব বেশি সতর্ক হতে হবে। কী শেয়ার দিচ্ছেন তা ভালোভাবে জেনেবুঝে করতে হবে। কারণ নকল বা আইনবিরোধী কোনো ভিডিও বা পোস্ট যদি শেয়ার দেন তাহলে ফেঁসে যেতে পারেন আপনিও।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here