২৫ কোটি টাকার ইউনিট কাগজে আছে, বাস্তবে নেই

0
26

ঢাকা শিশু হাসপাতালে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক সব যন্ত্রপাতিসম্পন্ন একটি স্টেম সেল থেরাপি ইউনিট নিয়ে নয়ছয় হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও ঢাকা শিশু হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তেলেসমাতিতে প্রকল্পটি কাগজ-কলমে থাকলেও বাস্তবে নেই। অথচ টাকা ঠিকই খরচ হয়ে গেছে।
হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মূলত সমাজসেবা অধিদপ্তরে থাকা এই প্রকল্পের পরিচালক, ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক ও তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক চিকিৎসক মিলেমিশে প্রকল্পটি দৃশ্যমান না করেই টাকা ‘অদৃশ্য’ করে দিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় ‘ঢাকা শিশু হাসপাতালের অ্যাডভান্সড শিশু সার্জারি অ্যান্ড স্টেম সেল থেরাপি ইউনিট স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১৮ সালের জুলাই মাসে। আর শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের ডিসেম্বরে। তবে প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, ‘প্রকল্পের কাজ গত বছরই শেষ হয়ে গেছে। কেনাকাটার বিলও পরিশোধ করা হয়েছে।’
প্রকল্পের মোট ব্যয় ২৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উন্নয়ন খাত থেকে ১৪ কোটি ৭০ লাখ ও ঢাকা শিশু হাসপাতালের খাত থেকে ৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ধরা আছে। প্রকল্পের সারসংক্ষেপে দেখা যায়, ব্যয়ের খাতে মুদ্রণ ও প্রকাশনা বাবদ ২০ লাখ, প্রচার ও বিজ্ঞাপন বাবদ ২৫ লাখ, বিদেশে প্রশিক্ষণ বাবদ দুই কোটি ২০ লাখ, এম এস আর বাবদ এক কোটি ৪০ লাখ, গবেষণা বাবদ ৫০ লাখ, বুকস অ্যান্ড পিরিয়ডিক্যালস বাবদ ৫০ লাখ, সম্মানী ভাতা আট লাখ, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ দুই লাখ, কম্পিউটার মেরামত বাবদ এক লাখ, অফিস ইক্যুইপমেন্ট ও যন্ত্রপাতি মেরামত বাবদ পাঁচ লাখ, চার সেট যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনা বাবদ ১৭ কোটি ৮০ লাখ, ২৭ সেট আসবাবপত্র বাবদ তিন লাখ, অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামো (দুটি রিফার্বিশমেন্ট) ৪০ লাখ, সিডি ভ্যাট বাবদ ৬০ লাখ, প্রাইস কন্টিজেন্সি বাবদ ৪০ লাখ ও অন্যান্য বাবদ পাঁচ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে সব কিছু কেনাকাটার বা ক্রয় অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপরিচালক হেলালউদ্দিন ভূঁইয়া। যিনি কেনাকাটা থেকে শুরু করে সব কাজ বাস্তবায়ন করেছেন ডা. খালেদ মাহমুদকে নিয়ে। প্রকল্প অনুসারে চার সেট যন্ত্রপাতি হস্তান্তরের মেয়াদ ছিল গত বছরের ২৫ জুলাই পর্যন্ত, এম এস আর কেনাকাটার মেয়াদ ছিল গত বছরের ২০ জুলাই পর্যন্ত, বই ও সাময়িকী কেনার মেয়াদ ছিল গত বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এবং ২৭ সেট আসবাবপত্র কেনার মেয়াদ ছিল গত বছরের ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
অন্যদিকে এই প্রকল্পের আওতায় স্টেম সেল থেরাপি ও অ্যাডভান্স শিশু সার্জারি বিষয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে পৃথক সাতটি বিভাগের ৮০ জন চিকিৎসকের ভারত এবং প্রয়োজনে অধিকতর ও উচ্চ বিশেষায়িত কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য নিকটতম অন্য কোনো দেশে যাওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে সার্জারি বিভাগের ২০ জন দুই সপ্তাহের জন্য জনপ্রতি চার লাখ টাকা করে, হেমোটোঅনকোলজি বিভাগের ১০ জন চিকিৎসক এক সপ্তাহের জন্য জনপ্রতি তিন লাখ টাকা করে, নিউরোলজি বিভাগের ১০ জন এক সপ্তাহ করে জনপ্রতি দুই লাখ টাকা করে, পালমনোলজি বিভাগের ১০ জন এক সপ্তাহের জন্য জনপ্রতি দুই লাখ টাকা করে, নেফ্রোলজি বিভাগের ১০ জন এক সপ্তাহের জন্য দুই লাখ টাকা করে, কার্ডিওলজি বিভাগের ১০ জন এক সপ্তাহের জন্য তিন লাখ টাকা করে, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের ১০ জন এক সপ্তাহের জন্য দুই লাখ টাকা করে মোট দুই কোটি ২০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল।
এ ছাড়া যন্ত্রপাতির তালিকা অনুযায়ী এক সেট মডিউল অপারেশন থিয়েটার উইথ সেলুলার থেরাপি সাত কোটি ৩০ লাখ টাকা, এক সেট অ্যাডভান্স ল্যাপারোস্কোপিক অ্যান্ড এন্ডোস্কোপিক সিস্টেম ৫৭ লাখ টাকা, এক সেট ইন্ট্রাঅপারেটিভ ইমেজিং সিস্টেম ছয় কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং এক সেট হাইপারব্যারিক চেম্বার উইথ স্টেম সেল থেরাপি আট কোটি ৯০ লাখ টাকায় কেনার কথা ছিল। সেই সঙ্গে হাসপাতালে অবকাঠামো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় একটি মডুলার অপারেশন থিয়েটার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো সংস্কারকাজ বাবদ ২৫ লাখ টাকা এবং পোস্ট অপারেটিভ ও পোস্ট আইসিইউ রিফারবিশড কাজের জন্য ১৫ লাখ টাকা রাখা হয়।

আপনার কমেন্ট এখানে পোস্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here